ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

মন্ত্রী সফরে গেলেও কোন সুসংবাদ আনতে পারেননি

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ আরও জটিল হচ্ছে

প্রকাশিত: ০৯:৫৪, ২৭ জুলাই ২০১৯

 মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ আরও জটিল হচ্ছে

ফিরোজ মান্না, মালয়েশিয়া থেকে ফিরে ॥ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার পথ বন্ধই হয়ে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় সর্বশেষ যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। পরে দুই দেশের মধ্যে আর কোন বৈঠক হয়নি। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এমরান আহমেদ এ মাসের মাঝামাঝি মালয়েশিয়ায় তিন দিনের সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সরকারী পর্যায়ে যোগাযোগ করেছেন। কিন্ত তেমন কোন সুখবর আনতে পারেননি। তার সফর সঙ্গী হিসেবে বায়রার বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দও ছিলেন। দেশটিতে অবস্থানকারী কর্মীদের গ্রেফতার করার বিষয়টি নিয়ে কথা হলে মন্ত্রী বলেন, এটা তাদের নিয়মিত ‘ওয়ার্ক’। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা কর্মী নিয়োগের পথটি খোলার চেষ্টা করছি। সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সফরের সময় অন্য একটি অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় একই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। একদিন মন্ত্রীর সঙ্গে জনশক্তির বাজার নিয়ে কথা হলে মন্ত্রী জানান, তিনি চেষ্টা করছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছেন। কিন্ত এখন পর্যন্ত ভাল খবর দেয়ার মতো কোন কিছু ঘটেনি। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকেও মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে। কিন্ত মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বৈঠকের বিষয়ে ইতিবাচক কোন সাড়া দেয়নি। ফলে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিষয়টি অনিশ্চিতার মধ্যে রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকার বৈঠকের পর কুয়ালালামপুরে বৈঠক হয়। কুয়ালালামপুরের বৈঠকটি ফলপ্রসূ মনে হয়েছিল। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিষয়টি আরও জটিল হচ্ছে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে বৈঠকের সময় চেয়ে চিঠি দিলেও তারা কোন সাড়া দিচ্ছে না। ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, কুয়ালালামপুরে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে প্রবাসীদের সুরক্ষা ও নানাবিধ অসুবিধা দূরীকরণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কোন প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগ করবে তা নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়। একইসঙ্গে দেশটিতে পাঁচ লাখের বেশি অবৈধ কর্মীকে বৈধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই সময় আলোচনায় কর্মী নিয়োগে কোন সিন্ডিকেট থাকবে না, বেশি টাকা নেয়া যাবে না এমন অনেক বিষয় স্থান পেয়েছিল। তবে এই বৈঠকই শেষ নয়। আরও বৈঠকের প্রয়োজন আছে বলে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে জানানো হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল কর্মী নিয়োগে ও মালয়েশিয়ায় অবস্থিত পাঁচ লাখের বেশি কর্মীকে বৈধকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। অবৈধ কর্মীদের বিষয়ে মালয়েশিয়া কোন আশ্বাস না দিলেও এখনই তাদের দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে। এদিকে মালয়েশিয়া যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ৩০ হাজারেরও বেশি কর্মীর ভাগ্য অনিশ্চিত।