রবিবার ১০ মাঘ ১৪২৮, ২৩ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

অন্ধ ভালোবাসা

  • জোবায়ের রাজু

সাড়ে তিন বছরের ছেলে দিপ্তর ওপর আজ খুবই একটা অবিচার করতে যাচ্ছে সোনিয়া। ফাহিমের অন্ধ ভালবাসা সোনিয়াকে এই অমানবিক কাজে সায় দিচ্ছে। যদিও সে জানে তার নিষ্পাপ সন্তানের কোন দোষ নেই। তবু এই কাজটি তাকে করতে হচ্ছে। পৃথিবীতে অসংখ্য ভাল মায়েদের পাশাপাশি অসংখ্য খারাপ মাও আছে। এতদিন সোনিয়া দিপ্তর কেবল ভাল মা ই ছিল, আজ থেকে সে একজন খারাপ মা।

এখন সকাল নয়টা। প্রকা- আলিশান বাড়ির ড্রয়িংরুমে ছোট্ট দিপ্ত খেলছে। সোনিয়া বোরকা পরে প্রস্তুত হয়ে আছে। একটু পর সে এই বাড়ি এই সংসার আর নাড়িছেঁড়া ছেলেকে ছেড়ে চলে যাবে। দিপ্তর দিকে তাকাতেই তার বুক ফেটে কান্না আসতে চাইল। দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরল। মায়ের চিরচেনা বুকে মাথা রেখে নেতিয়ে পড়ল দিপ্ত। ছোট্ট মাসুম এই বাচ্চাটি জানে না আজ থেকে সে আর এই মাকে কখনো দেখতে পাবে না। দেয়ালে ঝুলানো স্বামী মাসুদের ছবিটার দিকে একবার তাকাল সোনিয়া। ওই মানুষটার জন্যই তো তাকে আজ এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। কোলের ছেলেকে খেলায় মনোযোগী করে ঘর ছেড়ে বের হতেই কাজের মেয়ে রানুকে মনে পড়ল সোনিয়ার। নিচু স্বরে রানুর নাম ধরে ডাকতেই রানু হাজির।

-কিছু বলবেন আপা?

-আমি একটু বের হচ্ছি। পার্লারে যাব। দিপ্তর দিকে খেয়াল রেখো।

-সমস্যা নেই। ফিরবেন কখন?

-একটু দেরি হবে।

রানুকে মিথ্যে বলে বাসা থেকে বের হলো সোনিয়া। সিঁড়ি দিয়ে নামতেই তার দুনিয়া কাঁপিয়ে কান্না আসছে। আজ থেকে নিজের এই ঘরের কোন খবর জানবে না সে। সংসার সন্তান সব কিছু আজ তার পর হয়ে যাবে। সবই কেবল হচ্ছে ফাহিমের কারণে। ফাহিমের এক রোখা ভালোবাসা তাকে ঘরছাড়া করতে বাধ্য করেছে। রানু মেয়েটা যখন তার জন্যে অপেক্ষার পর অপেক্ষায় বসে থাকবে, তখন দিপ্তর অবস্থা কেমন হবে কে জানে। মাকে না পেয়ে সে তো চিৎকার করে কাঁদবে। না, এসব ভাবলে মন আরো খারাপ হবে সোনিয়ার। তার চিন্তায় এখন একটাই নামÑফাহিম। যার কাছে সে সব ফেলে ছুটে যাচ্ছে।

একটা সি এন জি ভাড়া নিল সোনিয়া। গন্তব্য সোজা রেল ষ্টেশন। সেখানে একটু পর ঢাকা থেকে ট্রেনে করে ফাহিম আসবে। তারপর ফাহিমের সাথে চলে যাবে শহরে। সেখানে কাজী অফিসে দুজনে বিয়ে করে তারপর ফাহিম তার বিত্তবান বাবার সামনে সোনিয়াকে নিয়ে দাঁড়াবে।

সি এস জি গন্তব্যে ছুটছে। আজ পথে অন্যদিনের তুলনায় ঝানজট কম। সোনিয়া সি এন জিতে বসে আছে। তার ভীষণভাবে মনে পড়তে থাকল জীবনের লম্বা অতীত।

পাঁচ বছর আগেও সোনিয়া ছিল কলেজের ভালো ছাত্রীটি। চঞ্চলা দুরন্তপনার দিনগুলি যখন সে ভালোই উপভোগ করছে, তখনই একদিন বিয়ের প্রস্তাব আসে।

বাবা মা খোঁজ নিয়ে ঠিক করলেন তার এখানেই মেয়েকে বিয়ে দিবেন। কিন্তু বেঁকে বসল সোনিয়া। কারণ পাত্রের অগাধ ধন দৌলত আর টাকা পয়সার অভাব না থাকলে একটা জিনিসের অভাব। সেটা হল ছেলের সঠিক বয়স। যার সাথে বাবা মা তাকে বিয়ে দিতে চাইছে, সে ছেলের বয়সের সাথে সোনিয়ার বয়সের অর্ধেক ব্যবধান। তাছাড়া ছেলেটা দেখতেও তেমন ভালো না।

কিন্তু সোনিয়ার বাবা মা এসব ভাবছেন না। তারা ছেলের বিপুল সম্পদ দেখেই গলে গেছেন। তাছাড়া ছেলে ইংল্যান্ড প্রবাসী। সেখানে নাকি কি এক ব্যবসাও আছে। সোনিয়াকেও ইংল্যান্ড শহরের বাসিন্দা বানাবে। এসব ভাবতে ভাবতে বাবা মা এক রকম জোর করেই সোনিয়াকে বিয়ে দিয়ে দিলেন।

বাসর ঘরেই সোনিয়া জানল তার মাঝ বয়সী স্বামীটার নাম মাসুদ। বাসর ঘরে সোনিয়ার ভীষণভাবে মনে পড়তে লাগল সাব্বিরকে। ছেলেটা প্রায়ই বন্ধুদের দিয়ে প্রেম প্রস্তাব পাঠাত সোনিয়াকে। সোনিয়া হ্যাঁÑনা কিছু না বলে কেবল খিলখিলিয়ে হাসতো। সাব্বির পড়তো রসায়নে। গায়ের রং শ্যামলা হলেও দারুণ স্মার্ট। ভার্সিটির প্রোগ্রামে প্রায়ই সাব্বিরকে আবৃত্তি করতে দেখা যেত। বেশ কয়েকবার সোনিয়াকে প্রেম প্রস্তাব পাঠাবার পর সোনিয়ার কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে এক সময় চুপ হয়ে গেল সাব্বির। তারপর অনেকদিন সাব্বির ছিল অনেকটা নিখোঁজের মতো। একদিন সবাই জানল সাব্বির স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে চলে গেছে।

মাসুদ বাসর ঘরে এসে সোনিয়ার সঙ্গে তার শৈশবের গল্প জুড়ে দিল। এমনভাবে কথা বলল যেন সে সোনিয়াকে অনেকদিন থেকে চিনতো। এক পর্যায়ে মাসুদের এভাবে গল্প বলাটা বিরক্তির মতো ঠেকলো সোনিয়ার কাছে। মাঝ বয়সী এক আই বুড়োর সঙ্গে বাসর রাত কাটাচ্ছেÑ এটা ভাবতেই ঘেন্না লাগল সোনিয়ার।

মাসুদের প্রতি যথেষ্ট অনীহা থাকার পরও সোনিয়াকে সংসার করতে হয়েছে অনেকটা বাধ্য হয়ে। দিনে দিনে সোনিয়া বুঝতে পারল মাসুদের সঙ্গে তার কখনো মনের মিল হবে না। দু’জনের দৃষ্টিভঙ্গি দু রকম। চাওয়া পাওয়াও দু’জনের আলাদা। মাঝ বয়সী স্বামীর সঙ্গে কখনো বাইরে বের হতো না সোনিয়া। মাসুদের বিশাল স্বর্গময় বাড়িতে থেকে হয়তো সোনিয়া আরাম আয়েস পেয়েছে, কিন্তু মানসিক শান্তি কখনো পায়নি। যদিও মাসুদ কখনো তার স্ত্রীকে কোন রকম মানসিকভাবে শাস্তি দেয়নি। সব সময় চেষ্টা করেছে তরুণী স্ত্রীকে সুখে রাখতে। সুখেই ছিল সোনিয়া মাসুদের অট্টালিকা প্রাসাদে। তবু স্বামী থাকার পরও নিজেকে ভীষণ একাই ভেবেছে সোনিয়া। কারণ স্বামীর অধিক বয়স তাকে নীরব এক আগুনে পোড়াতো। ব্যথায় বৃদ্ধিতে, আনন্দ বেদনায় কখনো মাসুদের সঙ্গে মিল ছিল না সোনিয়ার। এত কিছুর পরও রাতে একই বিছানায় শুতে হয়েছে সোনিয়াকে।

বিয়ের ছয় মাসের মাথায় গর্ভবতী হয় সোনিয়া। সঠিক সময়ে পুত্র সন্তানেরও মা হয়। মাসুদ ভেবেছে সোনিয়া বাচ্চার মা হয়ে গেলে বদলে যাবে। তখন স্বামীর প্রতি তার মায়া বোধটা বাড়বে। কিন্তু কিছুই হয়নি। বরং সন্তানের জন্মের পর মাসুদের মনে হয়েছে সোনিয়ার সঙ্গে তার নীরব দূরত্বটা দ্বিগুণ বাড়ল। এতে অবশ্য কোন দুঃখও ছিল না মাসুদের। স্ত্রীর সঙ্গে তার বয়সের মিল অমিলের ব্যাপারটা সে নিজে বুঝতো। ছেলে দিপ্তর জন্মের পরপরই ইংল্যান্ডে চলে যায় মাসুদ। বিশাল বাড়িতে সন্তান আর কাজের মেয়েকে নিয়ে একা পড়ে থাকে সোনিয়া। মাসুদ দিনের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ষোলো ঘণ্টাই ফোনে স্ত্রী সন্তানের খোঁজে ব্যস্ত থাকে। মাসুদের এমন নিয়ম ছাড়া কল কখনো ভাল লাগত সোনিয়ার। তাই অনেক সময় ইচ্ছে করেই সে কলও রিসিভ করত না। এতে কখনো বিরক্ত হতো না মাসুদ।

এক সময় ফেসবুক আইডি খুলে সোনিয়া। এখানেই সে যাবতীয় সুখ খুঁজে পায়। পুরনো অনেক মানুষকে পেয়ে যাচ্ছে এখানে। বেশ ভালোই সময় কাটে সকাল থেকে রাত, রাত থেকে ভোর অব্দি। কোন অনীহা নেই ফেসবুকে তার।

ফেসবুকে পরিচয় ফাহিমের সঙ্গে। ঢাকার ছেলে। বাবা নাকি শহরের প্রভাবশালী। ফাহিমকে বেশ ভাল লাগে সোনিয়ার। সুন্দর ছেলে। আগে মাঝে মাঝে দু’জনের হাই হ্যালো হতো। তারপর ঘণ্টায় ঘণ্টায় দু’জনে চ্যাট করতো অনকেটা নেশার মতো। ফাহিম প্রায়ই তার বাবার লাখ টাকার গল্প শোনায় সোনিয়াকে। শহরে তাদের কয়টা বাড়ি আছে, কয়টা মার্কেটে তাদের শেয়ার আছে, কয়টা গাড়ি আছেÑ এসব মহানন্দে শোনাত সোনিয়াকে। ফেসবুকের গ-ি পেরিয়ে এক সময় তারা ফোন কলে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুনিয়ার হাবিজাবি বিষয় নিয়ে আলাপ জুড়ে দিত। এ যেন সোনিয়ার এক নতুন স্বর্গ।

মাঝ বয়সী স্বামীর সঙ্গে বিয়ে, স্বামীর প্রতি অনীহা, সব ব্যাখ্যা করত সোনিয়া ফাহিমের কাছে। ফলে অল্প দিনেই সোনিয়ার ব্যথাটা বুঝে উঠে ফাহিম। সোনিয়া যখন বুঝতে পারল ফাহিম তার বিষয়টা ভালই আমলে নিয়েছে, তখন সে ফাহিমের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। যার কারণে মাসুদের প্রতি তার অনাগ্রহটা দ্বিগুণ বাড়ে। দেখা গেল মাসুদ দিপ্তর খবর জানতে অবিরত কল করেই যাচ্ছে, সোনিয়া রিসিভ না করে উল্টো লাইন কেটে দেয় বা কখনো কখনো কাজের মেয়েকে দিয়ে ফোন রিসিভ করিয়ে মাসুদকে জানিয়ে দেয় সে এখন সাংসারিক কাজে ব্যস্ত আছে। কিন্তু সাংসারিক কাজে নয়, তার মন পড়ে থাকে ফাহিমের কাছে। মাঝে মাঝে সোনিয়ার আফসোস হয়, কেন যে মাসুদের আগে আল্লাহ তাকে ফাহিমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন না। দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে তার।

ফেসবুক ওপেন করলে সোনিয়া ফাহিমের প্রোফাইলে পড়ে থাকে। ফাহিমের ছবিগুলো সে বার বার দেখে। প্রতিটি ছবিতে লম্বা লম্বা কমেন্ট করে।

একদিন সোনিয়ার ইনবক্সে সুলতানা নামের একটা ফিমেল আইডি থেকে বার্তা আসেÑ ‘ফাহিমের ছবিগুলো আপনার কমেন্টগুলো পড়ে বুঝতে পারি আপনি ছেলেটার প্রতি দুর্বল। কিন্তু আপনি কি ছেলেটির সম্পর্কে জানেন? আমি সব জানি। ফাহিম খুব খারাপ চরিত্রের ছেলে। সাবধানে থাকবেন।’

কিন্তু সোনিয়া সুলতানার এমন এসএমএস বার্তা গায়ে মাখল না। তার কেন জানি মনে হচ্ছে মেয়েিেট তাকে ভুল বোঝাতে চাইছে। ফাহিম এমন ছেলেই না। ছবি দেখে তো মনে হয় না সে খারাপ চরিত্রের ছেলে। চেহারায় একটা পবিত্র পবিত্র ভাব আছে। যা অন্য ছেলেদের মাঝে তেমন নেই।

ফোন কলে একদিন সরাসরি ফাহিম সোনিয়াকে প্রপোজ করে বসে। ফাজিম সোনিয়ার সব খবর জেনেও, বিশেষ করে স্বামী সন্তানের খবর জেনেও প্রপোজ করার আনন্দে কেঁদে ফেলতে চাইল সোনিয়া। তাই সাত পাঁচ না ভেবেই সোনিয়া ফাহিমকে এক বাক্যে সম্মতি জানায়।

এরপর থেকে দু’জনে ফেসবুকের তুলনায় ফোনালাপে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে। ফাহিমের মন ভোলানো মিষ্টি মিষ্টি কথায় সোনিয়া ভুলে যায় তার সংসার আর সন্তানের কথা। ভালবাসার মোহে সে অন্ধ হয়ে যায়। ফাহিমের জন্য বুকের অতলে জমে উঠে তার অন্ধ ভালবাসা। এই ভালবাসার জন্য সে সব কিছু ত্যাগ করতে পারে। যদি ফাহিম তাকে কখনো ডাকে, সে সব কিছু ফেলে ছুটে যাবে ফাহিমের কাছে। মাঝ বয়সী মাসুদের সব স্মৃতি মন থেকে মুছে ফেলবে।

তারপর আসে একদিন সেই প্রত্যাশার মুহূর্ত। গভীর রাতে ফোনালাপে কথা বলার সময় ফাহিম আবদার করেÑ ‘আমরা কি বিয়ে করতে পারি না?’ ব্যস, এক বোবা আনন্দে সোনিয়ার সমস্ত পৃথিবী এলোমেলো হয়ে যায়। তাই ফাহিমের আবদারে এক বাক্যে সে রাজি হয়ে যায়।

কখন কি করতে হবে, সব জেনে দু’জনে দীর্ঘ সময় নিয়ে আলোচনা করে। ফাহিম সিদ্ধান্ত নেয় সে কোন একদিন সোনিয়াকে নিতে আসবে। সোনিয়া তার অন্ধ ভালবাসায় মগ্ন হয়ে ফাহিমের শিখিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।

গতকাল রাতে হঠাৎ ফাহিম কল করে সোনিয়াকে জানায় সে আগামী কাল সকালের ট্রেনে করে সোনিয়াকে নিতে আসবে। রেল স্টেশনে যেন সোনিয়া তার অপেক্ষায় থাকে। তারপর তাকে নিয়ে আবার ঢাকায় ব্যাক করবে। ভালবাসার তৃষ্ণায় মরে যাওয়া সোনিয়া তো পারে না তখনই পাখি হয়ে ফাহিমের আকাশে উড়াল দিতে। তার বুকের ভিতরে কিসের এক বাদ্য বাজতে থাকে।

স্টেশনে এসে সিএনজি থামে। সোনিয়া ভাড়া পরিশোধ করে স্টেশনে ঢুকে পড়ে। ট্রেন আসতে আরও আধা ঘণ্টার মতো বাকি। সোনিয়া রেল স্টেশনে বসে আছে অনাগত ট্রেনের অপেক্ষায়। ফাহিমকে দেখার আনন্দে তার বুক যতটা কাঁপছে, ঠিক ততখানি ব্যথায়ও কাঁপছে দিপ্তর জন্য। ছেলেটা কি করছে এখন? কাঁদছে না খেলা করছে?

হঠাৎ সোনিয়ার নাম্বারে একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসে।

-হ্যালো।

-আমি তিন্নি বলছি।

-কোন তিন্নি?

-আমি ফাহিমের স্ত্রী।

-মানে?

-মানে টানে ব্যাখ্যা করার টাইম নেই। আমি চুরি করে আমার শ্বশুরের মোবাইল থেকে আপনাকে কল করেছি।

-আপনার কথার মানে ঠিক বুঝতে পারছি না।

-কাল রাতে আপনার আর ফাহিমের কথাগুলি আমি আড়াল থেকে সব শুনেছি। আপনার সঙ্গে কথা বলা শেষে ফাহিম বাথরুমে গেলে আমি চুরি করে আপনার নাম্বার রেখে দিই।

-ফাহিম বিবাহিত?

-আমাদের একটা মেয়েও আছে। সে প্রতিবন্ধী। আপনি যা করছেন, সব ভুল। ফাহিমের চরিত্র ভাল না। আমি তাকে ডিভোর্সের ব্যাপারে ভাবছি। একজন চরিত্রহীনের সঙ্গে ঘর সংসার করা যায় না।

ওপার থেকে কল কেটে দেয়ার পর সোনিয়ার সমস্ত পৃথিবী কেঁপে উঠল। একি শোনলো সে। ফাহিম তার সঙ্গে এতবড় প্রতারণা করতে যাচ্ছে?

সোনিয়া ফাহিমের ফোনে কল দেয়।

-এই তো আর কিছুক্ষণের মধ্যে আমি স্টেশনে পৌঁছবো। তুমি এসেছো?

-আচ্ছা তিন্নি কে?

-মানে?

-আমি প্রশ্ন করছি তিন্নি কে?

-ইয়ে মানে... সোনিয়া! তুমি কিভাবে.. ইয়ে মানে!

ফাহিমের আমতা আমতা কথার ভাব শোনে সোনিয়া বুঝতে পারে সে একটু আগে যা শোনেছে, সেটা ভুল নয়। ফাহিম এত বড় নাটক করেছে তার সঙ্গে?

কিছুক্ষণ পর সোনিয়ার ফোনে ফাহিমের কল আসে। রিসিভ না করে সোনিয়া লাইন কেটে দেয়। আবার কল..। সেট অফ করে রাখে সোনিয়া।

হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন আসছে। একটু পর স্টেশন থেকে ফাহিম নেমে আসবে। না, ওর মতো প্রতারকের মুখোমুখি হবে না সোনিয়া। ট্রেন আসার আগেই সে স্টেশন থেকে পালিয়ে যাবে।

পালিয়ে যাবে কোথায় সোনিয়া? দিপ্তর কাছে? মাসুদের সংসারে? হ্যাঁ সেখানেই যাবে সোনিয়া। এই মুহূর্তে তার মনে হচ্ছে স্বামীর ঘরই তার সুখের ঠিকানা। দিপ্তর কথা মনে পড়ল সোনিয়ার। অবুঝ ছেলেটাকে একটা অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দেয়া যায় না। তার কোন দোষ নেই। মাসুদেরও বা কি দোষ ছিল? সব দোষ ফাহিমের। যে সোনিয়ার সংসার ভাঙ্গার এই কুফন্দি করেছে। সেই কুফন্দি থেকে আজ বড় বাঁচা গেল সে। অন্ধ ভালবাসা তাকে একটা অন্ধ পথে নিয়ে এলো। এই অন্ধ পথের সামনের দিকে আর এগোনো যায় না।

শীর্ষ সংবাদ:
পুরান কাপড়ের যুগ শেষ ॥ দেশের মর্যাদা সুরক্ষায় বন্ধ হচ্ছে আমদানি         প্রধানমন্ত্রী আজ পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন         ফের আলোচনায় বসার আহ্বান জানালেন শিক্ষামন্ত্রী         ইসি নিয়োগ বিল আজ সংসদে উঠছে         দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব-নাসিকই প্রমাণ         ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায়ে হয়রানি বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের         মাদক চালান আসা কেন বন্ধ হচ্ছে না-কোথায় ঘাটতি?         অবৈধ মজুদদারের কব্জায় পাট ॥ কৃত্রিম সঙ্কটে দাম বাড়ছে         দেশে করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু         বয়সের অসঙ্গতি দূর করে নীতিমালা সংশোধন         প্রশ্নফাঁস চক্রে সরকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান         সর্বোচ্চ ৫ বছর জেল, ১০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব         অবশেষে আলোর মুখ দেখল চট্টগ্রাম ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প         মোহাম্মদপুরে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যা         গ্যাসের দাম দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব         জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান         অপরাধ দমনে নিরলস কাজ করছে পুলিশ ॥ প্রধানমন্ত্রী         অনশন ভেঙে শিক্ষার্থীদের আলোচনায় বসার আহবান শিক্ষামন্ত্রীর         এবার গণঅনশনের ঘোষণা দিলেন শাবি শিক্ষার্থীরা         করোনা ভাইরাসে আরও ১৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৯৬১৪