শুক্রবার ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৫ জুন ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

কাজে লাগাতে হবে তারুণ্যের শক্তি ॥ অভিমত

  • জাস্টিন গোমেজ

কালে কালে তরুণ ও তারুণ্যের জয়ধ্বনি ধ্বনিত হচ্ছে জগতে। তাদের শৌর্য-বীর্য, সাহস ও উদ্দীপনায় পৃথিবীতে আসছে নিত্য পরিবর্তন । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণরাই পারেন অসম্ভবকে সম্ভব করতে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে। বলা হয়, তরুণরা একটি রাষ্ট্রের শক্তি। দেশের প্রয়োজনে কঠিন অনেক কাজও করে ফেলেন তারা। তারা একটা দেশের কাঁচামাল স্বরূপ। কাঁচামাল দিয়ে মিল-কারখানায় যে রকম নতুন জিনিস তৈরি করা হয় সে রকম তরুণদের দিয়ে গঠিত হয় একটা দেশের মূল কাঠামো ও ভিত্তি। যুগে যুগে এটাই প্রমাণিত। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের তরুণ সমাজের যোগ্যতা-দক্ষতা আজ দৃশ্যমান। বাংলাদেশের তরুন তরুনীরা আজ পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়ায় গিয়ে পতাকা উড়িয়ে আসছেন, কেউ ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ করে ক্রিকেটে অসামান্য কৃতিত্ব দেখাচ্ছেন। আমাদের তরুণীরা ফুটবল মাঠে অন্য দেশকে হারিয়ে দিচ্ছেন, অনেকে পৃথিবীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে রাখছেন মেধার অনন্য স্বাক্ষর। দেশে দেশে মুক্তিসেনারা যে কাজটি করেছিল, একাত্তরে বা তারও আগে বাংলাদেশের তরুণরা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। ৪৮-৫২ পর্যন্ত ধাপে ধাপে আন্দোলনের এক পর্যায়ে ৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের শাহাদাত বরণের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন পূর্ণতা লাভ করে। সূচনা হয় বাঙালী জাতীয়তাবাদী চেতনার। স্থায়ী ফাটল তৈরি হয় পাকিস্তানের আদর্শিক ভিতে। জাগ্রত হয় নতুন চেতনার। এরই মধ্যে ১৯৫৪ সালে বাম প্রগতিশীল চেতনা ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হয় আরেকটি ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন। শুরু হয় আদর্শভিত্তিক ছাত্র আন্দোলনের। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ছাত্র সমাজের নানা সমস্যার সঙ্গে বাঙালীর স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা ধারণ করে। যার আদর্শিক নেতা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে বিজয় লাভের পর ছাত্র সংগঠনগুলোর দায়িত্ব ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলতে আত্মনিয়োগ করা। ছাত্র আন্দোলনের একটি অংশ তখন দেশগড়ার স্লোগান নিয়ে এগিয়ে আসে।

তারপরও আজ বলতে হয় নজরুলের সেই ‘যৌবনের গান’, প্রমথ চৌধুরীর ‘যৌবনে দাও রাজটীকা’ সবই কি কেন যেন ব্যর্থ। আগে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যতা হিসেবে মেধা আর সততাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হত। ছাত্র সমাজও মেধাবী আর সৎ নেতাদের শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানাতেন। আর নেতৃত্বের এই গুণাবলীর কারণে সংগঠন দুটি সমগ্র ছাত্র সমাজের মধ্যে ব্যাপক ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। সে সময় স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতো। কোন বছর একটি সংগঠন সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদগুলো জয়লাভ করলেও পরবর্তী বছর হয়ত অপর সংগঠনটি সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করত। এই দুটি সংগঠনের মধ্যে তখন আদর্শিক লড়াই চলার কারণে উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মতবাদ বা ইস্যু নিয়ে ব্যাপক লেখাপড়া করতে হতো। আর এ কারণে এই সংগঠন ২টির সকল পর্যায়ে নেতাকর্মীরা সমগ্র জনগণের সম্মান এবং আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্ত বর্তমানে ছাত্ররাজনীতিতে প্রায় সময়েই আমরা নানা অসঙ্গতি দেখতে পাই। ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্ট এ সমস্যা এখনও তীব্র না হলেও, এর সমাধানের উপায় নিয়ে ভাববার সময় এখনই।

সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা একজন মানুষের মেধা ও মননশীলতায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। অথচ এই একটি বিষয়ে আমরা যতই মুখে বলি না কেন বাস্তব চর্চায় আমাদের আগ্রহের কিছুটা যেন ঘাটতি দেখতে পাই। আমরা সন্তানদের মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প বলি না, তাদের পরিচিত করিয়ে দেই না নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দের সঙ্গে। আমাদের পোশাকে দেশীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতির অভাব লক্ষ্য করা যায় । একটা ভাল বই সারা জীবনের সঙ্গী এই বোধ আমাদের মাঝে জোড়ালো নয়।

কিন্তু সময় ফুরিয়ে যায়নি। আমাদের সন্তানদের আসুন ঢেকে নেই মানবিক চাদরে। সুস্থ, সুন্দর, মননশীলতা চর্চার মাধ্যমে তারা বেড়ে উঠুক অপার সৌন্দর্য ভাবনার নিরঙ্কুশ স্বাধীনতায়। এজন্য সার্বিকভাবে দেশে সৃষ্টি করতে হবে কর্মবান্ধব পরিবেশ। এক্ষেত্রে সরকারের করণীয় ঢের। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে তরুণ সমাজের প্রত্যেক সদস্যকে কাজে লাগাতে হবে, তাদের ব্যবহার করতে হবে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে। মনে রাখতে হবে, যোগ্য তরুণ সমাজ জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের কাছে জাতির অনেক আশা ও দাবি। আবার রাষ্ট্রের কাছেও তাদের দাবি কম নয়। সেই দাবি পূরণ কোন অনুকম্পা নয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব তাদেরই; অন্য কারও নয়। আমাদের যুব সমাজ মোটেও অলস নন। তাদের ভেতর পরিশ্রম করার মানসিকতা আছে প্রচুর। একে ব্যবহার করতে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

justingomes80@gmail.com

শীর্ষ সংবাদ:
জনসেবায় অবদানের জন্য জাতিসংঘের সম্মাননা পেল ভূমি মন্ত্রণালয়         হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাসিমের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে অবস্থার অবনতি         কাবুলের জামে মসজিদ সন্ত্রাসী হামলার দায়িত্ব অস্বীকার করল তালেবান         কিছু মানুষ কখনও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবে না ॥ গবেষণা         করোনা ভাইরাসে আরেক চিকিৎসকের মৃত্যু         ডা. জাফরুল্লাহর শারীরিক অবস্থা ভালো না         ভারতে প্রথম করোনা হানা দেয় নভেম্বরে         কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হত্যা ॥ বিক্ষোভে সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের ৪ প্রেসিডেন্টের         আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল চীন         ভারতে প্রতিদিনই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড         করোনা ভাইরাস ॥ মৃত্যুতে ইতালিকেও টপকে গেল ব্রাজিল         করোনা ভাইরাস ॥ আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে টপকাল পাকিস্তান         ইরানে আটক একজন মার্কিন বন্দির মুক্তির খবর দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প         নতুন মৃত্যুপুরী পেরু, ৫ হাজারের বেশি প্রাণহানি         ফিজিকে করোনা ভাইরাসমুক্ত ঘোষণা         বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে ও পুলিশে সংস্কারের আহ্বান ওবামার         চীনের দরজায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ         সৌদিতে একদিনে মৃত আরও ৩২, নতুন আক্রান্ত ১৯৭৫         মার্কিন কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ইরানি চিকিৎসক         জর্জ ফ্লয়েড হত্যা ॥ আমেরিকার বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল জার্মানিতেও        
//--BID Records