ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’

প্রকাশিত: ১০:৫৭, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’

শাহীন রহমান ॥ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি অবশেষে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণিতে’ রূপ নিয়েছে। শনিবার বেলা তিনটায় এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে উত্তরে বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূল বরাবর অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তারা জানায়, এটি বিভিন্ন উপকূল হয়ে আগামী মাসের ৫ কিংবা ৬ তারিখ ভোরে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। শক্তি বিচারে এটি একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এ কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ আসছে বাংলাদেশের দেয়া নাম নিয়ে। এশিয়া প্রশান্তমহাসাগরের উপকূলীয় ৮টি দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত প্যানেল এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করে। সাপের ফণার নাম অনুকরণে এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘ফণি’ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে সেটার নাম ‘ভাউ’। যা ভারতের দেয়া নাম। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জনকণ্ঠকে বলেন, বহু উপকূল ঘুরে এই ঘূর্ণিঝড় দেশের উপকূলে আসবে। আসার পথে মাঝখানে সময় সময় অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। সে সময় এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। তবে তিনি জানান, সম্ভাব্য তিনটি উপকূলে এটি আঘাত হানতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু ও উড়িষ্যা উপকূল। দ্বিতীয় সম্ভাব্য আঘাত হানতে পারে বাংলাদেশের উপকূলে। এছাড়া তৃতীয় সম্ভাব্য গতিপথ আরও উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে মিয়ানমার উপকূলে এটি আঘাত হানতে পারে। অবশ্য এর মেজর গতিপথ বাংলাদেশের উপকূলের দিকে। তবে শ্রীলঙ্কার উপকূলে এর প্রভাবে ঝড়োহাওয়া সৃষ্টি হলেও শ্রীলঙ্কায় আঘাত হানছে না। তিনি বলেন, শনিবার বেলা তিনটায় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে গভীর নিম্নচাপটি। এটি এখন উত্তরে অগ্রসর হচ্ছে। এটি আরও সামনে অগ্রসর হয়ে শ্রীলঙ্কার উত্তর- পূর্বাঞ্চল হয়ে তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে অবস্থান করবে। এরপর সেখান থেকে তার গতিপথ হবে ভারতের উড়িষ্যা উপকূল হয়ে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে। তিনি জানান, শ্রীলঙ্কার উত্তর-পূর্ব উপকূল দিয়ে আসার সময় দেশটিতে ঝড়োহাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে ওই উপকূলে এটি আঘাত হানবে না। শক্তি বিচারে এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মনে হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি দীর্ঘসময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করবে। এই অবস্থানকালে আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। এ কারণে দেশের উপকূলে আগামী ৫ অথবা ৬ তারিখ ভোরে আঘাত হানতে পারে। আবার দেশের উপকূল অতিক্রম করে মিয়ানমারে চলে যেতে পারে। তবে গতিপথ যেদিকই হোক না কেন বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব পড়ছে, এটা নিশ্চিত।
×