সোমবার ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুত নিশ্চিত করা হবে

  • ‘জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ’ শীর্ষক সেমিনারে জ্বালানী ও বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গ্যাস ও বিদ্যুত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতি পরিকল্পিত অর্থনৈতিক এলাকায় শিল্পায়নের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

ঢাকা চেম্বার আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিচ্ছিন্ন স্থানে শিল্প কারখানা স্থাপন না করে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সমূহে শিল্প-কারখানা স্থাপন ও স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হলে, সরকার নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ : শিল্পখাতে এর প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনার বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে পেট্রোবাংলা এবং অন্যান্য গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ গ্যাসের ক্ষেত্রে গড়ে ১০২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবনা করে। এর মধ্যে ১৩২ শতাংশ শিল্পখাতে, ক্যাপটিভ পাওয়ারের জন্য ৯৬ শতাংশ এবং বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য ২০৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবনা করা হয়।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত মূল্য বৃদ্ধির হার কার্যকর হলে, শিল্পখাতের উৎপাদন খরচ বাড়বে, বিশেষ করে সার, বস্ত্র, ডেনিম, তৈরি পোশাক, সিমেন্ট, স্টিল প্রভৃতি খাতসমূহের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়া প্রভৃতি প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে, আমাদের অবশ্যই স্বল্পমূল্যে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকেই গ্যাস ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং এ জন্য গ্যাস ব্যবস্থাপনার একটি মহাপরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। গ্যাস উত্তোলনের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা, খরচ এবং সেই প্রেক্ষিতে প্রাপ্তির বিষয়টি সামঞ্জস্যকর বা ন্যূনতম লাভজনক হচ্ছে কী না; তা যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, গ্যাস ক্ষেত্রের কূপ খননের বিষয়টি মোটেও সহজসাধ্য বিষয় নয়। এই কাজের জন্য জন্য বিপুল পরিমাণে অর্থের পাশাপাশি সময় প্রয়োজন এবং সেই সঙ্গে, প্রাপ্ত গ্যাসের পরিমাণ খরচ ও সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে কী না; তা নিশ্চিত করা খুবই জরুরী।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০০ এমএমসিএফডি, উৎপাদন হচ্ছে ২৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস এবং দেয়া হচ্ছে প্রায় ৩৪০০ এমএমসিএফডি গ্যাস। বর্তমানে নিজস্ব গ্যাসে উৎপাদিত বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ইউনিটপ্রতি ২.৫৭ টাকা। নিজস্ব কয়লা দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য খরচ পড়বে ৬ টাকা, অন্যদিকে আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে উৎপাদন করা বিদ্যুতের খরচ পড়ছে ইউনিটপ্রতি ৮.১০ টাকা। গ্যাস যেহেতু প্রাকৃতিক সম্পদ, কাজেই এর যথাযথ এবং পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরী; গ্যাস এবং বিদ্যুত খাতে সরকার বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি দেয়, অথচ এই দুই খাতে অপরিশোধিত বিলের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। কাজেই এই বকেয়া বিল পরিশোধ করা খুবই জরুরী। সেমিনারে বিদ্যুত বিভাগের প্রাক্তন সচিব ড. এম ফওজুল কবির খান মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, গ্যাসের প্রস্তাবিত মূল্য বৃদ্ধি করা হলে, বিদ্যুত উৎপাদন ব্যয় ৯৩.৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি টেক্সটাইল, সিমেন্ট ও স্টিল খাতে যথাক্রমে ১৮.০৬ শতাংশ, ১.৯৩ শতাংশ এবং ৭.৩৭ শতাংশ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। তিনি অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, এলপিজি ব্যবহারকে উৎসাহিতক করা এবং পিক ও অফপিক সময়ে আলাদা ট্যারিফ প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন।

নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অংশগ্রহণ করেন।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, বিটিএমএ’র অন্তর্ভুক্ত ৫৮৫টি টেক্সটাইল মিল ক্যাপটিভ পাওয়ার স্টেশনের মাধ্যমে ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদান করছে, যাতে ব্যয় হচ্ছে ৩০-৩৫ কোটি টাকা। বিটিএমএ’র সভাপতি টেক্সটাইল খাতকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ড. বদরুল ইমাম বলেন, গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলনের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে আমাদের বিদ্যমান গ্যাস সঙ্কট মোকাবেলা সম্ভব হবে। ড. ইজাজ হোসেন বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে বিদ্যুত উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। তিনি নিজস্ব কয়লা ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুত উৎপাদনের পরামর্শ দেন।

নির্ধারিত আলোচনায় ডিসিসিআই পরিচালক নূহের লতিফ খান, আল আমিন, প্রাক্তন উর্ধতন সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, প্রাক্তন সহ-সভাপতি এম আবু হোরায়রাহ, প্রাক্তন পরিচালক হুমায়ুন রশিদ

শীর্ষ সংবাদ: