ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

৭৮ বছরেও ভাতা মেলেনি জীবন নেছার!

প্রকাশিত: ০৯:৩২, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

 ৭৮ বছরেও ভাতা মেলেনি  জীবন নেছার!

নিজস্ব সংবাদদাতা, ২৪ ফেব্রুয়ারি, রূপগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপারা ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ১নং মহল্লায় থাকেন জীবন নেছা। বয়স জাতীয় পরিচয়পত্র (৬৭১৬৮৫৫৮২৭৬৪২) সূত্রে ৭৮ বছর। স্বামী হারিয়েছেন ১৫ বছর আগে। এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসার তার। অভাব আর হাহাকারে দিনকাটানো জীবন নেছা নামেই যেন জীবন বাঁচিয়ে রেখেছেন। বিধি মোতাবেক বিধবা ভাতা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনীতি বুঝেন না কিংবা রাজনীতি ওয়ার্ড জনপ্রতিনিধিকে খুশি করার সামর্থ নেই। তাই ভাগ্যে জুটেনি বিধবা ভাতা। এতদিন কোন মতে জীবন পার করলেও স্বামী আব্দুল করিম মারা যাওয়ার পর একমাত্র ছেলে হাল ধরার কথা। কিন্তু মানসিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সেই একমাত্র ছেলেটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে তা জানা নেই দীর্ঘ ৮ বছর। তাই মানুষের বাড়িতে কাজের বিনিময় দুমুঠো আহার খেয়ে কোন মতে জীবন পার করছেন নামধারী জীবন নেছা। এতদিন বয়স ৭৮ ছুঁয়েছে। বয়সভারে আগের মতো কাজ-কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ হয়ে পড়েছে কষ্টসাধ্য। বিধি মোতাবেক পুরুষদের ৬৫ আর নারীদের ৬২ বছর বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার কথা। রূপগঞ্জ উপজেলার প্রায় ১৫ হাজারের অধিক নারী ও পুরুষ পাচ্ছেন সেসব বয়স্কভাতা। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মদদপুষ্ট, সমর্থক ও আত্মীয়স্বজন না হলে দেয়া হয় না বয়স্কভাতার কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। উপজেলা প্রশাসনের লোকজনও তা সঠিকভাবে তদারিক না করায় প্রকৃত গরিব ও অসহায়রা বঞ্চিত থাকেন সরকারের এ সেবা থেকে। ভেস্তে যায় সোনার বাংলা স্বপ্ন দেখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন। তবে জীবন নেছাও ধর্ণা দিয়েছিলেন স্থানীয় মহিলালীগ নেত্রী মনোয়ারা মনুর কাছে। তার দাবিকৃত ৫ হাজার টাকা দিতে না পারায় বয়স্ক ভাতার কার্ড এনে দিতে পারেনি। স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টির কাছেও বয়স্ক ভাতা চাইতে গিয়েছিলেন একাধিকবার। সেখানেও কোন সুরাহা পাননি জীবন নেছা। স্থানীয়দের প্রশ্ন সরকারের সুবিধাভোগী যারা হওয়ার কথা তারা কেন বঞ্চিত হচ্ছে? অভিযুক্ত বিউটি আক্তার কুট্টি জানান, জীবন নেছা আমার কাছে সরাসরি আসে নাই তাই বিষয়টা জানতাম না। এ প্রসঙ্গে কথা হয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোলাইমান হাসানের সঙ্গে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি ও ইউপি সদস্যদের বাছাই কমিটির সদস্য করা হয়। তাদের বাছাইকৃত তালিকার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়া হয়।