ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

প্রকাশিত: ০৬:২৭, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

বাংলার মাটিতে আমরা বহু আন্দোলন দেখেছি - ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন’, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন’ আরও অনেক রক্তঝরা, মায়ের বুক খালি করা আন্দোলন। এ রকমই এক আন্দোলন কিছুদিন আগে আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে। আর তা হচ্ছে এই সময়ের বহুল আলোচিত ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’, যা আগে কখনও কোন দেশে দেখা যায়নি। ছোট ছোট শিশুদের হাতে প্ল্যাকার্ড, রাস্তায় শৃঙ্খলাপূর্ণ মিছিল, ট্রাফিক আইনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা- এই সবকিছুই ছিল আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়ের গ-ি থেকে বের হয়ে আন্দোলনের নামে সকলের প্রতি গড়ে তুলেছিল একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত। যা শুধু এই সোনার বাংলায় নয়, পৃথিবীর বুকেও নজির হয়ে থাকবে চিরকাল। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফেরাতে সরকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা একটুও ফিরেছে কি আদৌ! কিছুদিন সামান্য শৃঙ্খলা বজায় রাখার পর পরিস্থিতি আবারও নাগালের বাহিরে চলে গেছে। বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশ যথেষ্ট চেষ্টা করছে রাস্তায় শৃঙ্খলা আনার। কিন্তু নাগরিকদের অসচেতনা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বাসস্টপেজ ছাড়া যেখান-সেখান থেকে যাত্রী তোলা ইত্যাদি বার বার সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করছে। বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ; বাণিজ্যিক এলাকায় ফুটপাথের ওপরে বেদখলকারীরা ব্যবসা করছে। এতে পথচারীরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে। বাস চালকরা সামান্য বাড়তি আয়ের আশায় খুব দ্রুত বাস চালায় যাতে ২-১টা ট্রিপ বেশি নিতে পারে। আর এই ঝোঁকের বসেই রাস্তায় অবস্থানকারী মানুষের ওপরে চার চাকা উঠিয়ে দেয়। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় একটি জীবন, কিছু মানুষের ভবিষ্যত, আর আশপাশের পরিবেশের ভারসাম্য। একটু বাড়তি আয়ের লোভ থেকেই তৈরি হয়ে যায় বৃহৎ ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’। যা ঝরায় বহু পথযাত্রী ও অধ্যয়নকারীদের। এই সবকিছুই আমরা রোধ করতে পারি একটু সচেতনতা দিয়ে- ‘নাগরিক সচেতনতা’। আমরা যারা রাস্তায় হাঁটি, বাস চালাই, ফুটপাথে অবৈধভাবে ব্যবসা করি; সবাই দেশের নাগরিক। আর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিক নিজের প্রতিচ্ছবি অন্যের মাঝে নিরপেক্ষভাবে দেখলে প্রত্যেকটি সড়ককে নিরাপদ সড়ক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। এই চিন্তাধারাকে বাস্তবায়নে রূপ দিলেই বাংলার বুক থেকে অবসান হবে ভবিষ্যতের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। মিরপুর, ঢাকা থেকে