ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পাখিরা পেলো নিরাপদ আবাসন

প্রকাশিত: ২০:২৬, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পাখিরা পেলো নিরাপদ আবাসন

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ ‘পাখি-সব করে রব, রাত্রি পোহাইলো’ ছড়াটি অনেকটা এখন বইয়ের পাতার মধ্যেই বিদ্যমান। ছড়ার মতো পাখির শব্দে এখন আর কারো ঘুম ভাঙ্গে না। গাছে গাছে পাখির কলরবও শোনা যায় না। গ্রামবাংলায় নানা প্রজাতির পাখির দেখাও অনেকটা মিলে না। সময়ের পরিবর্তন ও জলবায়ুর বিবর্তনে হঠাৎ করেই সেই পাখিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামঞ্চল থেকে। আর হারানো সেই পাখিগুলো ফিরিয়ে আনতে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন তরুন যুবক মিলে নিয়েছে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। গাছে গাছে মাটির কলসি বেঁধে দিয়ে পাখিদের জন্য তৈরি করছেন তারা নিরাপদ আবাসস্থল। তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং উপজেলা প্রশাসন। পাখির নীড় তৈরির উদ্দ্যোক্তা তালহা আহামেদ সাজু জানান, একসময় গ্রামের মানুষেরা পাখির কলরবের শব্দে ঘুম থেকে উঠত। হঠাৎই গ্রাম থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। সেই ভাবনা থেকেই আমরা গ্রামের কয়েকজন যুবকের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। নিজেদের অর্থ দিয়ে কিনে গাছে গাছে বেধে দেই মাটির কলসি। প্রথমে তিনশত কলসি গাছে গাছে বেধে দেয়ার মাধ্যমে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। পরে ধীরে ধীরে এক হাজার পাচঁশত কলসি ইউনিয়নের বিভিন্ন গাছে লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চোখে পড়েছে বিলুপ্ত কয়েকটি জাতের পাখি। যেমন দোয়েল, শালিক, চড়–ই, টুনটুনি, জালালী কবুতর, ঘুঘু, টগা ইত্যাদি। এসব পাখির কলকাকলিতে ভরে উঠেছে আমাদের গ্রাম। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে আমাদের ইচ্ছা শক্তি আরো বেড়েছে। আমরা চাই আমাদের মতো দেশের প্রতিটি গ্রামের তরুণরা এমন উদ্দ্যোগ গ্রহন করুক। যাতে আমাদের প্রাকৃতিক সমাজ থেকে পাখি হারিয়ে না যায়। দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আটিয়া গ্রামের স্থানীয় যুবকরা মিলে পাখিদের বাসস্থল তৈরির জন্য গাছে গাছে মাটির হাড়ী বেধে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা আমি শুনেছি। আমি অবশ্যই তাদের এ ব্যাতিক্রম উদ্দ্যোগ কে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জিব বৈচিত্র রক্ষায় তাদের এই উদ্যোগ অভাবনিও এবং এটা অনেকের মাঝে প্রশংসা পেয়েছে। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অবশ্যই তাদেরকে সহযোগীতা করবো। দেলদুয়ার উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মোতালেব বলেন, গ্রামবাংলা থেকে পাখি এখন হারিয়ে যাচ্ছে। যুব সমাজ পাখির নীড় তৈরিতে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের প্রানি সম্পদ অধিদপ্তর পক্ষ থেকে যতদুর সম্ভব সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।