ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

জামালপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ

প্রকাশিত: ০১:৪১, ২৬ নভেম্বর ২০১৭

জামালপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর ॥ জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের পাঁচদিন পর রবিবার সকালে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে মেলান্দহ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে তাকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ওই ছাত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রীর বাব-মা দুজনই ঢাকায় থাকেন। ঢাকায় ওর বাবা গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ওর মা-ও ঢাকাতেই বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। মেয়েটি মেলান্দহের শ্যামপুরে তার নানাবাড়িতে থাকে। স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সে নবম শ্রেণিতে পড়ে। জানা গেছে, মেয়েটি ২২ নবেম্বর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নানাবাড়ি থেকে স্থানীয় নয়ানগর এলাকায় কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে বের হয়। পথে স্থানীয় তেতুলতলা এলাকায় মোজাম্মেল হোসেন ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে সিএনজিতে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। মেয়ের অপহরণের খবর পেয়ে তার বাবা-মা দুজনই ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২৩ নবেম্বর মেলান্দহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। মেয়েটির বাবা জানান, মেলান্দহের দুরমুঠ রেলওয়ে স্টেশন মসজিদের কাছেই স্থানীয়রা রবিববার ভোরে রাস্তায় মেয়েটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বাড়িতে খবর দেয়। পরে তিনি সেখান থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে মেলান্দহ হাসপাতালে ভর্তি করেন। নির্যাতিত মেয়েটি জানিয়েছে, ঘটনার দিন অপহরণের সময় মোজাম্মেল ও সহযোগীরা তার মুখে রুমাল চেপে ধরার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে একটি ঘরে আটক রেখে তাকে ধর্ষণ ও অমানুষিক নির্যাতন চালায়। কিছুটা জ্ঞান ফিরে এলেই দুধ-বিস্কুট ও জুসের সাথে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ায়। আবার সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এভাবে টানা পাঁচদিন ধরে তার উপর নির্যাতন চালায়। মেলান্দহ হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা চিকিৎসক রিফাত আনোয়ার শিশির বলেন, মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তার জরুরি উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে অপহরণকারী মোজাম্মেল হোসেনকে আসামি করে তার মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে মেলান্দহ থানায় রবিবার বিকেলে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল করিম মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অপহরণকারী মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।