ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

পৃথক চার্জিং স্টেশন নির্মাণ করতে চায় সরকার

ইজিবাইকে বিদ্যুত ব্যবহারের বৈধতা দেয়া হচ্ছে

প্রকাশিত: ০৫:৩৭, ৩১ অক্টোবর ২০১৭

ইজিবাইকে বিদ্যুত ব্যবহারের বৈধতা দেয়া হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইজিবাইক বা থ্রি হুইলারে বিদ্যুত ব্যবহারের বৈধতা দিতে যাচ্ছে সরকার। সারাদেশে কয়েক লাখ অটোরিক্সা বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে চার্জ দিয়ে চালানো হচ্ছে। এসব অটো রিক্সার জন্য বিদ্যুত ব্যবহারের আলাদা দর নির্ধারণের পাশাপাশি পৃথক চার্জিং স্টেশনও নির্মাণ করতে চায় সরকার। বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, এসব ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অটোরিক্সাগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করে বিআরটিএ থ্রি হুইলারের বৈধতা দেয়ার বিষয়ে নিজেদের নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন পৌরসভার কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে এসব অটোরিক্সা চলছে। এখন রাজধানী ঢাকার অলিগলিতো রিক্সার বিকল্প হয়ে উঠছে এসব অটোরিক্সা। যার কোন অনুমোদন নেই। বিদ্যুত বিভাগ সূত্র বলছে, এবার বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাবে থ্রি হুইলারের বিদ্যুত ব্যবহারের জন্য একটি পৃথক স্ল্যাব (ধাপ) তৈরির অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনও এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর জ¦ালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সম্প্রতি এক বৈঠকে থ্রি হুইলারের দক্ষ বিদ্যুত ব্যবহার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকের পর বিদ্যুত বিভাগ থেকে পিডিবির কাছে একটি চিঠিও দেয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে পিডিবি চেয়ারম্যানকে উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিদ্যুত বিভাগ দীর্ঘদিন থেকে দাবি করে আসছে সারাদেশের অন্তত পাঁচ লাখ ইজিবাইক দৈনিক চার্জ দিতে অন্তত ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত প্রয়োজন হয়। এসব ইজিবাইকের সবগুলোই এখন সরাসারি বাণিজ্যিক বা আবাসিক লাইন থেকে চার্জ দেয়া হয়। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে সরাসরিও বিদ্যুত চুরি করে এসব ইজিবাইক চার্জ দেয়া হয়। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। বিদ্যুত বিভাগ বলছে, তারা বিভিন্ন সময়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে জানিয়ে আসছে। সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রণালয় বিদ্যুত বিভাগকে বরাবরই বলছে, এসব যানবাহনের কোন বৈধতা নেই। মহাসড়কে তিন চাকার যানের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েও তা ঠেকানো যায়নি। উল্টো বিপুল জনগোষ্ঠীর এখন জীবিকার বাহন হয়ে উঠছে ইজিবাইক। কোন কোন এলাকায় চলাচলেও স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে ইজিবাইক। বিদ্যুত জ¦ালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নসরুল হামিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, যেহেতু আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি তাই থ্রি হুইলারের চার্জিং পন্থাকে বৈধ করে দেয়ার পক্ষে। আমরা চাইছি আরইবির মাধ্যমে চার্জিং স্টেশন করতে। এটা সরকারী বেসরকারী অংশীদারিত্বেও হতে পারে। সেখান থেকেই চার্জ দেয়া যাবে। তিনি জানান এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে বেশিরভাগ গাড়িই ব্যাটারিতে চলবে। এতে ব্যয়ও খুব কম হয়। সব গাড়ি ব্যাটারিতে চালানো গেলে অন্তত বছরে দুই বিলিয়ন ডলারের তেলের সাশ্রয় হবে। এর আগে সৌর বিদ্যুত দিয়ে চার্জিং স্টেশন করা হয়েছে। এসব চার্জিং স্টেশনে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে ব্যাটারিতে চার্জ দেয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে দুই জোড়া ব্যাটারি লাগায় অনেকেই আগ্রহী হচ্ছে না। এখন সরাসরি গ্রিডের বিদ্যুত দিয়েই এসব অটোরিক্সা চার্জ দেয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকার সব ক্ষেত্রে চার্জিং স্টেশন করতে না পারলেও বিকল্প উপায়ে দক্ষ বিদ্যুত ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হবে। এক্ষেত্রে ইজিবাইকে চার্জ দেয়া বিদ্যুতের পৃথক দাম নির্ধারণ করা হবে।