ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

বেরিয়ে আসছে সেই শিক্ষা অফিসারের দুর্নীতির তথ্য

প্রকাশিত: ০৫:৫৫, ২৮ অক্টোবর ২০১৭

বেরিয়ে আসছে সেই শিক্ষা অফিসারের দুর্নীতির তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলনকে অবরুদ্ধর পর এবার তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বের হতে শুরু করেছে। শুক্রবার দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ‘ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে শিক্ষা অফিসার অবরুদ্ধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ওই এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের ন্যায় মেহেন্দীগঞ্জে আসা জনকণ্ঠ পত্রিকার সকল কপি শুক্রবার সকালেই বিক্রি হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা জনকণ্ঠ না পেয়ে ফটোকপির দোকান থেকে প্রকাশিত সংবাদের কপি সংগ্রহ করেছেন। এ নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন করে বদলি বাণিজ্য, ডিপিইএড প্রশিক্ষণে টাকার বিনিময়ে পছন্দের শিক্ষকদের নামের তালিকা প্রেরণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দকৃত টাকা থেকে কমিশন আদায়সহ বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালের মে মাসে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে আকতারুজ্জামান মিলন মেহেন্দীগঞ্জে যোগদান করেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বদলি করার সরকারী নির্দেশনা থাকলেও তিনি (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার) সরকারী বিধান লঙ্ঘন করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে কনিষ্ঠ শিক্ষকদের সুবিধামতো স্কুলে বদলি বাণিজ্যে মেতে ওঠেন। শিক্ষকরা আরও জানান, ওই শিক্ষা অফিসার ডিপিইএড প্রশিক্ষণের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করে পছন্দের শিক্ষকদের নামের তালিকা পাঠিয়েছেন। উপজেলার মহিষা বাংলাবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সফিকুর রহমান, পূর্ব কাজিরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানসহ একাধিক শিক্ষকরা জানান, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ১৮টি স্কুলে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ আসার পর ভ্যাট ও কর বাদ দিয়ে শিক্ষা অফিসার তার কমিশন বাবদ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ২৮টি স্কুলের জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ আসার পর সেখান থেকেও ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শিক্ষকরা বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর দফতরের মাধ্যমে স্কুলের মেরামত কাজের তদারকিসহ কাজের শেষে প্রত্যয়ন নিয়ে বিল দেয়ার সরকারী বিধান থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার প্রত্যয়ন ছাড়াই স্কুলের বিলগুলো তড়িঘড়ি করে ছেড়ে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন মোল্লা বলেন, সরকারী নিয়ম অমান্য করে আমার প্রত্যয়নপত্র ছাড়াই শিক্ষা অফিসার বিল দিয়েছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা আরও জানান, দুই অর্থবছরে স্কুল লেভেল ইমপ্রুপমেন্ট কাজ (স্লিপ) বাবদ প্রতি স্কুলে ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেই টাকা থেকেও স্কুল প্রতি এক হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলন। শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রেও রয়েছে আকতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ। সর্বশেষ উপজেলার ৫৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষা অফিসার ও নিয়োগ বাছাই কমিটির সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান মিলন একইপদের একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেন। সম্প্রতি ওইসব প্রার্থীর পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের পর ঘুষ দিয়েও চাকরিবঞ্চিত প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলনকে উপজেলা ডাকবাংলোর সামনে বসে ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষা অফিসার অবরুদ্ধর হাত থেকে মুক্ত হন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অভিযোগগুলোর কোন প্রমাণ নেই। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মুনসুর আহমেদ বলেন, শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা শুনেছি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।