ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

দীর্ঘ ১৫ বছর পর ট্যানারিগুলো সাভারে গেল

প্রকাশিত: ০৫:৩০, ৩১ আগস্ট ২০১৭

দীর্ঘ ১৫ বছর পর ট্যানারিগুলো সাভারে গেল

এম শাহজাহান ॥ প্রকল্প গ্রহণের দীর্ঘ ১৫ বছরে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলো সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থায়ীভাবে সরে গেছে। হাজারীবাগ বন্ধ হওয়ার পর পুরোদমে চলছে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। পুরান ঢাকার হাজারীবাগের অক্সিজেন হয়েছে দূষণমুক্ত। প্রাণ খুলে নিশ্বাস নিতে পারছেন ঢাকাবাসী। সুদীর্ঘ এই সময়ে সব কারখানা এখনও সাভারে চালু হতে পারেনি। এবারের কোরবানি ঈদ সামনে রেখে বেশি সংখ্যক ট্যানারি চালু করার বিষয়ে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সংখ্যাও ৮১টির বেশি হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন সাভার চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। কারখানা চালুর সেই প্রস্তুতিতে রয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। হাজারীবাগ ঘেঁষা পোস্তার আড়তগুলোতে কোরবানি পশুর কাঁচা চামড়া বেঁচাকেনা হবে। কাঁচা চামড়া বেঁচাকেনা হবে সাভারেও। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাকভর্তি চামড়া আসবে পোস্তায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। জানা গেছে, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) বাকি দুইটি মডিউল চালুর সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে দুটি মডিউল সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে। একটি পরিকল্পিত চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে জুন ২০১৯ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শীঘ্রই মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন করা হবে। ওই সময়ের মধ্যে শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার প্লান্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এছাড়া সিইটিপি, ডাম্পিং ইয়ার্ড, স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি), স্যুইজ পাওয়ার জেনারেশন সিস্টেম (এসপিজিএস) ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসডব্লিউএমএস) পরিচালনা করার জন্য সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন পৃথক একটি কোম্পানি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের পর এই কোম্পানির অধীনে থাকবে সাভারের চামড়া শিল্পনগরী। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক জনকণ্ঠকে বলেন, চামড়া শিল্প খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে ১ হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা (সংশোধিত) ব্যয়ে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করে সরকার। কিন্তু ক্ষতিপূরণসহ কম দামে প্লট দেয়ার পরও কোনভাবেই ট্যানারি মালিকরা সাভারে সরে যেতে চাইনি। অবশেষে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে হাজারীবাগের কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হলে এখন তারা সাভারে সরছেন। তিনি বলেন, এজন্য পনেরো বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এবারের কোরবানি ঈদ পর্যন্ত ৮১টি ট্যানারি আশা করছি পুরোদমে উৎপাদনে যেতে সক্ষম হবে। বাকি ৭৩টি কারখানা আগামী বছরের মধ্যে তাদের ট্যানারিগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। বিটিএ এবং বিএফএলএলএফইএ’র আওতাধীন ১৫৪ শিল্প ইউনিটের অনুকূলে ২০০৭ সালে ২০৪টি প্লট বরাদ্দ দেয় বিসিক। এবারের কোরবানি নিয়েযত প্রস্তুতি হাজারীবাগে নয়, এবারের কোরবানির চামড়া বেঁচাকেনা হবে পোস্তা ও সাভারে। ব্যবসায়ীদের সেই প্রস্তুতি রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চামড়া কেনার জন্য উদ্যোক্তাদের ৭৫০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে। পোস্তার ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে কারসাজি করে লবণের দাম বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, ৫০০-৬০০ টাকার বস্তা (৭৫ কেজি) এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায়। সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেয়া হলেও সেই লবণ দেশে এখনও পৌঁছায়নি। কোরবানির সময় গরু হতে প্রায় ৩৫-৪০ লাখ পিস কাঁচা চামড়া আসবে। এছাড়া ছাগল হতেও প্রায় ২০ লাখ চামড়া সংগৃহিত হয়ে থাকে। এই চামড়া সংরক্ষণে লবণের প্রয়োজন হবে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের। ইতোমধ্যে কোরবানি সামনে রেখে লবণের দাম বাড়ানোর কারসাজি করা হচ্ছে। আমদানিকৃত লবণ কোরবানির আগে আনার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ফলে কোরবানিতে লবণের সঙ্কট তৈরি হবে, এ ধরনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এবার লবণের অভাব ও দাম বাড়ার কারণে কাঁচা চামড়ার বাজারে ধস নামতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হাইড এ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান। জানতে চাইলে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, চামড়া বাঁচাতে আমরা ৩০ হাজার মেট্রিক টন লবণ আমদানির অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। এ কারণে লবণের দাম বেড়ে গেছে। লবণ না হলে কাঁচা চামড়া রক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ২৫-৪০ টাকা দরে লবণ কিনে কেউ চামড়া সংরক্ষণ করবে না। আর কাঁচা চামড়ায় লবণ দেয়া না হলে তা পচে যাবে। সম্প্রতি কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস এ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) নেতারা তাদের এই আশঙ্কার কথা জানান। বিএফএলএলএফইএর চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, চামড়া ছাড়ানোর ছয় ঘণ্টার মধ্যে পরিমাণ মতো লবণ না দিলে চামড়ার পচন রোধ করা যাবে না। মাঝারি চামড়ার জন্য ৬ থেকে ৮ কেজি ও বড় চামড়ার জন্য ১০ থেকে ১২ কেজি লবণ দিতে হবে। চামড়ার গুণমান ভাল থাকলেই দাম ভাল পাওয়া যাবে। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত বছর লবণের অভাবে প্রায় ৩০ শতাংশ চামড়ার গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবারও লবণের দাম ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে। তাই চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। তিনি বলেন, সারা বছর এক বস্তা (৭৫ কেজি) লবণের দাম থাকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এবার লবণের বস্তা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হয়ে গেছে। ২০-২৫ বর্গফুট চামড়া আসবে গরু থেকে প্রতি গরু ভেদে ২০-২৫ বর্গফুট চামড়া আসে বলে জানিয়েছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, কোরবানিকৃত গরুর সাইজ অপেক্ষাকৃত বড় ও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে থাকে। এ কারণে এসব চামড়ার দামও বেশি। এবার সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হলে ট্যানারি মালিকরা ঢাকায় প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়া কিনবেন ৫০-৫৫ টাকায়, ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৪০-৪৫ টাকা। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া ২০-২২ টাকা, ছাগল ১৫-১৭ টাকা এবং মহিষের চামড়া আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের কথা জানিয়ে দিয়েছে সরকার। ওই হিসেবে একটি গরুর চামড়া বিক্রি হবে ১২৫০-১৩৭৫ টাকা। কিন্তু সরকার নির্ধারিত এই দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কিনে নেন ট্যানারি মালিকরা। এ বছর চামড়া পাচার রোধে ঈদের পর থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি থাকবে। সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি (বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ) এ নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সচিবালয়ে চামড়া শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ওই বৈঠক শেষে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়। যদিও গত বছর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতিবর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকায় কিনেছেন। এছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫ টাকায় সংগ্রহ করা হয়েছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশে এবার চামড়ার দাম গতবারের মতোই রাখা হয়েছে। চামড়া শিল্প সাভারে স্থানান্তরের পর এমনিতে মালিকরা চাপে রয়েছেন। এ কারণের ভারতে বা অন্য দেশে দাম একটু বেশি হলেও দেশে দাম বাড়ানো হয়নি। সাভারে যেতেই হলো ১৯৫০ সালে যাত্রা শুরু আর এর অবসান হলো ২০১৭ সালে অর্থাৎ ৬৭ বছর পর। এই দীর্ঘ সময় পর রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প সরে যাচ্ছে সাভারে। পরিবেশ দূষণের অনেক অভিযোগ, বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে বিষ ঢালার অভিযোগসহ আরও অভিযোগ ছিল ট্যানারি শিল্পের ঘাড়ে। ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর নারায়ণগঞ্জে ট্যানারি শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। ‘ঢাকা ট্যানারি’ নামের ওই কারখানা গড়ে তুলেছিলেন আর বি সাহা নামে এক ব্যবসায়ী। দানবীর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া আর বি সাহার হাত ধরে গড়ে ওঠা ‘ঢাকা ট্যানারি’র অস্তিত্ব এখনও আছে। তবে এর মালিকানা বদল হয়েছে কয়েক দফা। নারায়ণগঞ্জে ঢাকা ট্যানারির কার্যক্রম চলে প্রায় তিন বছর। এরপর নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তর করে ১৯৫০ সালে রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগের বর্তমান ট্যানারি অঞ্চলে আনা হয়। তখন থেকে এতদিন ট্যানারি শিল্পের সব কার্যক্রম ছিল হাজারীবাগ ঘিরেই। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, ট্যানারির বিষয়ে আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা (ট্যানারি মালিকরা) হাজারীবাগে থাকা সব ট্যানারি বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা সরকারের কাছে সাভারের শিল্পনগরীতে গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগসহ বেশকিছু দাবি জানিয়েছি। কারখানা স্থানান্তরের কাজ চলছে। প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল পরিবেশ অধিদফতরের অভিযানে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর বিদ্যুত, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এর পরের দিন ৯ এপ্রিল আদালত ১৫ দিনের মধ্যে সাভারের শিল্পনগরীতে সব ধরনের সংযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ পাওয়ার পরই ট্যানারি সাভারে সরে যেতে শুরু করে। জানা গেছে, হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর সাভারে কারখানা সরতে শুরু করেছে। তবে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া হচ্ছে ধীর গতিতে। কাঁচা চামড়ার উপর ভর করে দেশের অভ্যন্তরে চামড়াজাত পণ্যের শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে। চামড়ার সঙ্গে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন বিশেষ করে স্যান্ডেল, জুতা, ব্যাগ, বেল্ট, পার্সসহ নানা ধরনের পণ্য রফতানি হচ্ছে। গার্মেন্টসের রফতানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে এ শিল্পের অবস্থান। টাকার অঙ্কে বছরে দেশে-বিদেশে এ শিল্পের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে। কিন্তু নানামুখী সমস্যায় এ শিল্পে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। চামড়া সংরক্ষণ ও মজুদে প্রয়োজন হয় লবণের। সেই লবণের দাম এখন প্রতিকেজি ২৫-৪০ টাকা পর্যন্ত। কোরবানি ঈদের আগে লবণের দাম না কমলে চামড়া সংরক্ষণ বাধাগ্রস্ত হবে। পচে চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি কাঁচা চামড়ার বাজারে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ধীরগতিতে হওয়ার কারণেই চামড়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বছরের ৫০ শতাংশ চামড়া আসে কোরবানি ঈদের সময়। কিন্তু কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৭ ট্যানারি উৎপাদনে গেছে। ফলে এবারের কোরবানির সময় সংগৃহিত কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ ও মজুদ নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সিইটিপি নির্মাণের জন্য আবারও সময় বাড়ানোর আবেদন করায় চায় না প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তাদের এই আবেদন প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্রও ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এবং শিল্পনগর প্রকল্পের কর্মকর্তারাই স্বীকার করছেন, সিইটিপির নির্মাণকাজের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। চীন-বাংলাদেশ যৌথ প্রতিষ্ঠান জেএলইপিসিএ-ডিসিএল জেভিকে ২০১২ সালের ১১ মার্চ চামড়া শিল্প নগরে সিইটিপি নির্মাণের কার্যাদেশ দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। শর্ত ছিল, ১৮ মাসে কাজ শেষ করতে হবে। ওই মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর। এরপর তাদের সময় দেয়া হয় এ বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে বিসিক সূত্র বলছে, খুবই নগণ্য পরিমাণে কাজ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে সময় বাড়ানোর জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। ধলেশ্বরীর পানি দূষিত হচ্ছে সাভার ট্যানারি শিল্প নগরীর দুটি সিইটিপি থেকে ছাড়া পানিতে বিপর্যস্ত ধলেশ্বরী নদী। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকমতো পরিশোধন না করেই পানি ফেলা হচ্ছে নদীতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে বর্জ্য শোধনের সক্ষমতা নেই এই সিইটিপির। এমনকি ডাম্পিং ইয়ার্ড না থাকায় সাভারের পরিবেশ হাজারীবাগের চেয়েও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কায় তারা। উজানে তৈরি পোশাক কারখানার ময়লা পানি আগে থেকেই দূষিত করেছে ধলেশ্বরী নদীকে। তবে দূষণের তীব্রতা আরো বেড়েছে হরিণধরা পয়েন্টে। ধলেশ্বরের এই তীরেই গড়ে উঠছে চামড়া শিল্পনগরী। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে নষ্ট হয়েছে মাছের আধার। জীবিকায় আঘাত পড়েছে নদী নির্ভর মানুষের। পরিবেশ অধিদফতর গত ২৯ ডিসেম্বর ধলেশ্বরী নদীর পানি ও সিইটিপি থেকে বের হওয়া বর্জ্য পরীক্ষা করে ক্ষতিকর ১১টি উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি দেখতে পেয়েছে। এর মধ্যে আছে পানির তাপমাত্রা, ক্ষারের পরিমাণ, দ্রবীভূত অক্সিজেন কম থাকা, বিদ্যুত পরিবাহন, ক্রোমিয়ামের পরিমাণ, লবণের পরিমাণ, জৈব রাসায়নিক উপাদান। ধলেশ্বরীর পানি ও সিইটিপি থেকে বের হওয়া বর্জ্য পানি দুটির নমুনা পরীক্ষা করে এসব উপাদান মানমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে। ফলে শিল্পনগরে নিয়ম না মেনে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) চালুর অভিযোগ তুলেছে পরিবেশ অধিদফতর। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, পরিবেশ অধিদফতরে পরীক্ষা না করিয়ে পানি ধলেশ্বরীতে ফেলার বিষয়টি আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। পানি পরীক্ষা করে দূষণের প্রমাণ পাওয়ার বিষয়টিও তাদের লিখিতভাবে বলেছি। তারা ব্যবস্থা না নিলে আমরা পরিবেশ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব। রফতানিতে দ্বিতীয় অবস্থান চামড়া শিল্পের এত সব চ্যালেঞ্জের পরও বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে আয় হয়েছে ১২৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৯ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা)। যা একই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি। তৈরি পোশাকের পরই রফতানিতে শীর্ষ দ্বিতীয় পণ্যের তালিকায় আছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে এ খাতে। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। চামড়ার তৈরি সামগ্রীর ফ্যাশন কখনও পুরানো হয় না। বাংলাদেশের তৈরি চামড়া সামগ্রীর বিদেশেও চাহিদা বাড়ছে।