ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

মহাসড়ক ফেরিঘাটে দীর্ঘ যানজট ॥ ভোগান্তির ঈদযাত্রা

প্রকাশিত: ০৪:৪৯, ২৮ আগস্ট ২০১৭

মহাসড়ক ফেরিঘাটে দীর্ঘ যানজট ॥ ভোগান্তির ঈদযাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোগান্তি সঙ্গে করেই শুরু হয়েছে ঈদ যাত্রা। মহাসড়ক আর ফেরিঘাটে দীর্ঘ যানজটের সঙ্গে রবিবার ঈদ যাত্রার প্রথম দিন ট্রেনও কমলাপুর থেকে বিলম্বে ছেড়েছে। তবে যাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে নৌপথে। শনিবার রাতের বৃষ্টি ভোগান্তি বাড়িয়েছে রবিবার সকালেও। মহাসড়কে ধীরগতির কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দিনভরই গাড়ির দীর্ঘ জট ছিল। ফেরিপারাপারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিঘাটে বসে থাকতে হয়েছে ঘরে ফেরা মানুষদের। তবে ঈদের ঠিক আগে গরুর ট্রাক পারাপারের কারণে আরও বেশি ভোগান্তি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট ও তেজগাঁও স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় রেললাইন ভেঙ্গে যাওয়ায় ঈদের আগাম টিকেটের প্রথম দিনের যাত্রার তিনটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে। কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পর স্টাফ রোডে রেলের একটি লাইন ভেঙ্গে যায়। তবে সেখানে রেলের দুটি লাইন থাকায় বিকল্প পথে ট্রেন চলাচল করছে। যত দ্রুত সম্ভব লাইন মেরামতের চেষ্টা চলছে। স্টেশন ম্যানেজার জানান, সকালের দিকে প্রায় সব ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর ছেড়ে গেছে। কিন্তু রেললাইনে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর লালমনিরহাট থেকে আসা লালমনি এক্সপ্রেসে, দিনাজপুর থেকে আসা একতা এবং জামালপুর থেকে আসা ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস কমলাপুরে পৌঁছাতে দেরি হয়। ফলে সেগুলো যাত্রী নিয়ে আবার ছেড়ে যেতে দেরি হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রির প্রথম দিন ১৮ আগস্ট যারা টিকেট কিনেছিলেন, তারা রবিবার ঢাকা থেকে বাড়ির পথে যাত্রা করছেন। এবার ঈদের সময় প্রতিদিন সারাদেশে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে রেলওয়ে। এছাড়া ২৯ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর এবং ঈদের পরে ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। অন্যদিকে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি পারাপারে দ্বিগুণ সময় লাগায় যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন চালক ও যাত্রীরা বলছেন নদীতে তীব্র স্রোত, ফেরি সঙ্কট এবং গরু বোঝাই ট্রাকগুলোকে আগে সিরিয়াল দেয়ার কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদী পারাপারের অপেক্ষায় আটকে থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় বাস থেকে নেমে অনেকে হেঁটে ফেরি বা লঞ্চঘাটে যাচ্ছেন। শনিবার রাত থেকে বৃষ্টি আর চার লেনের কাজ চলার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চাপ বেড়ে গাড়ির ধীরগতি এবং থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট ভোগড়া বাইপাস পার হয়ে পূর্ব দিকে মিরের বাজার ও উলুখোলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে ওই সড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী গাড়িগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা।