শনিবার ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ০৪ জুলাই ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সাধু সুন্দরবন

  • সাইফুল ইসলাম জুয়েল

হার্জের টিনটিন সিরিজের ‘আমেরিকায় টিনটিন’ বইটা পড়া শেষে টেবিলের ওপরে রেখে সোফার ও পাশে জানালার কাছে বসা তপুর দিকে তাকালাম। ও এখনও পত্রিকা পড়ছে। পরক্ষণে পৃষ্ঠা ওল্টোনোর ফাঁকে একবার আমার দিকে তাকিয়ে আপন মনে বলে উঠল, ‘কবে যে এর থেকে মুক্তি মিলবে কে জানে। আইনের ফাঁকটা এরা ঠিকই বুঝতে পেরেছে।’

কৌতূহল দমাতে না পেরে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিসের কথা বলছিস রে?’

‘আর বলিস না। শিশু নিখোঁজ, মানুষ পাচার ও সন্ত্রাস- এসব নিয়েই তো দিব্যি পত্রিকার সংবাদ সাজানো হচ্ছে।’

‘ঠিক, তবে এর পেছনে অবশ্যই একটা বিশাল গ্রুপ আছে। যাক গে, টিনটিন পড়ে মাথাটা গুলিয়ে গেছে। মন চায় সবুজে ঘেরা কোন অরণ্যে হারিয়ে যাই।’

‘কোথায় যেতে চাচ্ছিস? এখন এই জুন মাসের প্রথম অর্ধে হঠাৎ বৃষ্টিপাত কিন্তু সবকিছু ভেস্তে দিতে পারে। দেখা যাবে হোটেলেই পুরোটা সময় বসে থাকতে হবে।’

‘ও সব অনিশ্চয়তার মাঝেও কোথাও বেড়াতে চাই। শহরের এই বিষাক্ত হাওয়াটা আর ভাল লাগছে না।’

‘হুমম্... তাহলে চল সুন্দরবনে ঘুরে আসি। যদিও আমি কয়েক বছর আগে একবার গিয়েছিলাম। তবুও সুন্দরবনের মজা সুন্দরবনেই! তোর সবুজ অরণ্য পাবি, আঁকাবাঁকা নদীও পাবি আর...ভাগ্য ভালো থাকলে বাঘ, হরিণের দেখাও মিলতে পারে!

॥ দুই ॥

তপুর কথাই পাকা। জুনের ৫ তারিখ বৃহস্পতিবারের ট্রেনের ৫টা টিকেট আগেই বুকড করে রাখলাম। আমাদের সঙ্গে আরও যাচ্ছে ইমরান, রানা, আর গাইড-বড় ভাই-বন্ধু যাই বলি না কেন আসাদ ভাই। ট্রেনে তেমন ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই খুলনা নেমে ওখান থেকে বাসে বাগেরহাট সদরে পৌঁছলাম। বাগেরহাট খানজাহান আলীর মাজারে ইমরানের মানত ছিল। আর আমাদেরও পোয়াবারো হলো- ষাটগম্বুজ মসজিদটা দেখতে পারলাম। বাগেরহাটের ‘আলআমিন’ হোটেলে দুটি ডাবল আর একটা সিঙ্গেল রুমে সে রাতে আমরা ৫ জন ভাগাভাগি করে থাকলাম।

পরদিন সকাল ৬টায় বের হব। তাই সকাল সকালই শুয়ে পড়লাম। মোবাইলের এ্যালার্ম শুনে ঘুম ভাঙতেই দেখি তপু কখন যেন উঠে ফিটফাট হয়ে আছে। এই ফিটফাটের মাঝে ওর সকালের ব্যায়ামটাও আছে। অন্যদেরও ডেকে তোলা হলো।

কিছুক্ষণের মধ্যেই নাস্তা সেরে পর পর দু’বার বাস পরিবর্তন করে মংলা বন্দর উপস্থিত হলাম। এখানে তপু ছাড়া আমরা বাকি সবাই-ই প্রথম। কীভাবে করমজল যাব নিজেদের ভেতরে আলোচনা করতেই পাশের জটলা থেকে এক লোক আগ বাড়িয়ে এগিয়ে এলেন, ‘আপনারা ভেতরে যাবেন বুঝি?’

‘জি’ তপু জবাব দিল। ‘আপনি এখানে কতদিন?’

‘প্রায় এক বছর! তা বললে আমি আপনাদের নিয়ে যেতে পারি।’

তপু হঠাৎ অদ্ভুত একটা প্রশ্ন করে বসল, ‘আপনি যুবা বয়সে মধ্যপ্রাচ্যে প্রচুর পরিশ্রম করেছিলেন বোধ হয়?’

ওর কথা শুনে আমিও অবাক হলাম। সত্যি বলতে কি মাঝারি হাইট, পেশীবহুল, কুঁচো আর তামাটে বর্ণের ভদ্রলোকটিকে দেখে আমার মনে হয়েছিল উনি এ বন্দরের শ্রমিক হবেন। বিদেশী শ্রমিক বোঝার কারণটা কী ছিল!

‘জি মানে... আপনি ঠিকই ধরেছেন। কুয়েতে পরে আরও আরব দেশে ঘুরেছি। শরীরে আগের মতো আর জোর নেই, তাই গত বছরেই দেশে চলে এসেছি। ইয়ে... আপনি বুঝলেন কীভাবে?’

‘আপনার শরীর দেখে! আর বিশেষ করে...’ বলে তপু পাশের একটা শিপের দিকে নির্দেশ করল। ‘শিপে শ্রমিকরা যেসব ভারি ভারি বস্তা তুলছে, তা দেখে আপনার ভেতরে একটা অস্বস্তি ভাব জেগেছিল। ‘সবচে’ বড় যে বিষয়টি তা হলো, আপনার হাত-পা এমনকি মুখম-লটা রোদে পুরলেও চিবুকের নিচটা তেমন হয়নি। বিষুবরেখা বরাবর দেশগুলোতে সূর্য সরাসরি কিরণ দেয়, তাই সূর্যের উত্তাপটা চিবুকের নিচে কম লাগে। তবে, সরি মি. ... আমরা আরেকজনকে কনট্রাক্ট করেছি। উনি এক্ষুণি এসে যাবেন।’

‘আমার নাম আমজাদ শিকদার। ঠিক আছে আসি। আবার দেখা হবে।’

এখানে আসার আগে আমরা বন বিভাগে যোগাযোগ করেছিলাম। অনুমতি পাওয়ার সঙ্গে একজন সশস্ত্র প্রহরীও পেয়েছি। ওনার নাম দুলাল। কিছুক্ষণের মধ্যেই চৌকিদারি পোশাক পরিহিত একজন লোক আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন। পকেট থেকে মোবাইল বের করে কাকে যেন ফোন দিচ্ছিলেন, এমন সময় তপু এগিয়ে গেল, ‘এই যে আমরা এখানে।’ তপু আমাদের পরিচয় দিল। ভদ্রলোক যেন একটু অবাক হলেন।

‘ইয়ে... আপনি আমাকে চিনলেন কিভাবে?’

তপু একটা মুচকি হেসে বলল, ‘৬ ফুট উচ্চতা আর যৌবনে যে মারহাবা বডি ছিল তা তো দেখেই বোঝা যাচ্ছে। শক্ত সোজা হাত দেখে বোঝা যায় শিকারেও পাকা! আমার আংকেল মিস্টার শাহ আলম খান কী যেন তেন লোক দেবেন? আর সবচে’ সহজ ব্যাপারটি হলো ইউনিফরমে আবছা করে আপনার নামটাও লেখা আছে -‘লাল’।’

তপুর ভদ্রলোকটির এত প্রশংসা করার মানে হলো তাকে পটিয়ে ফেলা। যাতে আমরা ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ালেও তিনি বিরক্ত না হন। দুলাল আঙ্কেল পরামর্শ দিলেন যদি সম্ভব হয়, তাহলে আমরা যেন অন্যদের সঙ্গে যাই। এতে খরচ কম পড়বে। তাছাড়া তার পরিচিত হলেও সাম্পানের ভাড়া ৬০০-এর নিচে নামাতে পারব না। রানাকে দেখছিলাম আমাদের বয়সী দুটি ছেলে আর ওদের সঙ্গের মুরুব্বি সম্ভবত বাবাÑই হবেন, তাদের সঙ্গে বেশ ভাব জমিয়েছে। একপর্যায় ও আমার কানের কাছে এসে বলল, ‘অন্তুরা ওদের সঙ্গে আমাদেরও যাওয়ার অফার করছে? ওরা মাত্র চারজন। আমরা ছয়জন গেলেও সাম্পান পুরো ভরবে না।’

অন্তু মানে যে ওই দুটি বালকের একজন হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কথা বলতে রানার সঙ্গে আমিও এগিয়ে গেলাম। অন্তুর সঙ্গে ওর খালাত ভাই মিশকাত। সৌদি আরবেই জন্ম, বড় হওয়া। বাংলা ভাঙ্গা ভাঙ্গা বলতে পারে। অন্তুর বাবা খায়রুল আলম ঢাকায় ছোটখাটো একটা দোকান দেন। ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলে তার মাই-ডিয়ার স্বভাবটা সহজেই বুঝে ফেললাম।

তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনাদের সঙ্গে আরেকজন কে?’

‘আর বলবে না’, ভদ্রলোককে আমিই ‘তুমি’ করে বলতে অনুরোধ করেছিলাম। ‘এক ভদ্রলোক এসে নিজ থেকেই বলল, আমাদের ভেতরে নিয়ে যাবেন। আমরা অবশ্য এখানকার ছোট চিড়িয়াখানা আর নিরাপত্তা এলাকাটা নিজেরাই ঘুরতে চাচ্ছিলাম। তা শুনে উনি বললেন, ‘সে কি মশাই, ভেতরে না গেলে তো সুন্দরবনের আসল রূপটাই ধরতে পারবেন না। খোলা হরিণ, গাছে বানর, বিচিত্র রকম পাখি আর ওপাশে জেলেদের ছোট নৌকায় করে নদীতে ঘোরার মজাই আলাদা। যদি আগ্রহ থাকে তো আমিই সবকিছুর ব্যবস্থা করে দিতে পারি।’ আর কী! ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে রাজি হয়ে গেলাম। বেশি লোক গেলে ভাল লাগবে। তবে উনি গোপনে পিস্তলও নেবেন। যদি বাঘ টাঘ বেরোয়।’

‘ভদ্রলোকের নাম কি আমজাদ?’, পাশ থেকে তপু প্রশ্নটা করল।

‘হ্যাঁ ...’ খায়রুল সাহেব বেশ তটস্থভাবেই বললেন।

‘যদি কিছু মনে না করেন আমরা আপনাদের সাম্পানের অর্ধেকটা খরচ দিতে রাজি আছি।’

‘মাইন্ড করার কিছুই নেই। তবে ৪০০ টাকার অর্ধেক দিতেও তোমাদের কি ভালো লাগবে, বলো!’, বলেই ভদ্রলোক হেসে উঠলেন।

‘মাত্র ৪০০ টাকা?’, তপুর যেন ভ্রƒ কুঁচকে গেল।

‘হ্যাঁ, সেটা অবশ্য ওই আমজাদ শিকদারই ঠিক করিয়ে দিয়েছেন। আমাদের কাছে তো ১০০০-৮০০ ছাড়া রাজিই হচ্ছিল না।’

॥ তিন ॥

রূপসা নদীতে জোয়ার ছিল। তাই আধ ঘণ্টায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও একটু দেরি হলো। ডেকে উঠে নদী ও এর উভয় পাশের দৃশ্যটা উপভোগ করছি। ওপাশে দেখলাম তপু মিশকাতের সঙ্গে ভালই আলাপ জমিয়েছে। আমি এগিয়ে গেলাম। কথা বলে বুঝলাম মিশকাত বেশ এ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ছেলে। আমজাদ শিকদার লোকটিও ডেকে উঠে একটা মুচকি হাসি দিয়ে এগিয়ে এলেন। মিশকাত তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি আমাদের গাইড বুঝি?’

‘আজ্ঞে হ্যাঁ!’

‘কিন্তু ... আপনাকে কোথাও দেখেছি বলে মনে হচ্ছে?’

‘এখানে এক বছরে দ্বিতীয়বার এলে আমার দেখা পেতেও পারেন।’

‘না মানে... গত এক বছরে না, তারও আগে! যাক গে, সম্ভবত আমার দেখার ভুল।’

আমজাদ শিকদার পাশের দিকে চলে গেলেন। কোমরের দিকটা উঁচু। বুঝলাম ওখানেই পিস্তলটা রাখা।

প্রত্যেকে দশ টাকা মূল্যের টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকলাম। আসার পথেই আকাশে মেঘ জমেছিল বেশ। এবার বুঝলাম তপুর ধারণা সত্যি হতে আর বেশি সময় লাগবে না। কতক্ষণ একসঙ্গে হাঁটার পর অন্তুরা নৌকা নিয়ে আমজাদ লোকটির সঙ্গে নদীর ওপাড়ে চলে গেল। আমরা পাড় ধরে আরও কিছুক্ষণ হাঁটার পরে হঠাৎ ঝুপ করে বৃষ্টি শুরু হল। আমরা সুন্দরবনের বিখ্যাত হোগল গাছের নিচে দাঁড়ালাম। পাশের বন্য খেজুর টাইপের গাছে ফল ধরেছে। দুলাল আঙ্কেল বিড় বিড় করে বললেন, ‘বৃষ্টিতে কাদা হওয়ায় হাঁটতে একটু সমস্যা হবে। সুন্দরী ও অন্যান্য জরায়ুজ গাছের ঠেসমূলগুলো খুব জ্বালাবে।’

প্রায় আধ ঘণ্টা একটানা পড়ার পরেই বৃষ্টিটা কমে এলো। কিছুক্ষণ হাঁটার পরে একটা নৌকা চোখে পড়ল। সেটা পার হয়ে আমরাও ওপাড়ে গেলাম। ওপাড়ে যাওয়ার পরে দুলাল আংকেল বললেন, ‘ওপাশে বাঘ যেতে পারে না, কিন্তু এপাড়ে নিয়মিতই বাঘ আনাগোনা করে। তাই চোখ কান খোলা রেখে হাঁটতে হবে।’

বৃষ্টি হওয়ায় এক ঝামেলা হলো বানরগুলো আর বেরুবে না, আর পাখি-টাখিও বেশি দেখছি না। আসাদ ভাইয়ের গলায় একটা ডিজিটাল ক্যামেরা ঝুলছে। মাঝে মাঝে তিনি সেটা দিয়ে ছবি তুলছেন। হাঁটার পথে হঠাৎ ইমরান লাফিয়ে তিন হাত সরে এলো। ভালভাবে লক্ষ্য করলামÑ কোন জন্তুর দুটি পায়ের ছাপ, সোজা বনের ভেতরের দিকে চলে গেছে। রানা ভয়ে ভয়ে বলল, ‘এটা কী দো-পেয়ে দৈত্য?’

ওর কথা শুনে আমি, তপু আর দুলাল আঙ্কেল হেসে উঠলাম। কেননা, আমরা জানি বাঘ হাঁটার সময় এমনভাবে হাঁটে যে, এর পেছনের পা দুটি সামনের পায়ের স্থানেই পড়ে। কাদা মাটিতে বাঘের পায়ের চিহ্নটা বেশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আরো কিছুদূর হাঁটার পরে দুলাল আংকেল বললেন, ‘সর্বনাশ! বাঘটা আহত।’ ভালভাবে লক্ষ্য করে দেখলাম বাঘের পেছনের বাম পা-টা তাল মেলাতে পারেনি। অর্থাৎ একটার ওপরে আরেকটা পাড়া স্পষ্টভাবে পড়েনি। আসাদ ভাই ছবি তুলছিলেন ঝটপট। অন্যদের ভেতরে কী জানি না, আমার ভেতরে বেশ উত্তেজনা দেখা দিল। সামনে এগিয়ে গেলাম। আর কতক্ষণ হাঁটার পরেই আমার মুখ দিয়ে একটা অস্পষ্ট আর্তি ফুটে উঠল। পাশাপাশি রানাও বলে উঠল, ‘লা...লা... লাশ।’ কাছে গিয়ে দেখলাম, মিশকাত পড়ে আছে! তপু বেশ ব্যস্ত হয়ে উঠল। ঝুঁকে বসে পাল্স পরীক্ষা করে বলল, ‘বেঁচে আছে। তবে কুইক হাসপাতালে নিতে হবে।’ আরও ভালভাবে দেখে ও বলল, ‘মাথায় কিছু দিয়ে বাড়ি মারা হয়েছিল। এখানে তো দেখছি আরও এক জোড়া পা। লোকটা বেটে কিন্তু শক্তিশালী। ডান দিকে বাঘের পদ চিহ্ন। হাল্কা রক্তেরও চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে। হুমম্ ... লোকটা দেখছি দৌড়ে পালিয়েছে। বেশ লম্বা লম্বা স্টেপ!’

মিশকাতকে ধরাধরি করে এপাড়ে নিয়ে এলাম। তপু আসাদ ভাইকে বলল, ‘আপনি, রানা আর ইমরান ওকে নিয়ে যান। আমরা আরেকটু পরীক্ষা করেই ফিরে আসব।’

আমরা আগের জায়গায় ফিরে আসলাম। পদচিহ্ন ধরে এগোতে গিয়ে নদীর ওদিকে চলে এলাম। সেখানে একটা নৌকা পড়ে থাকতে দেখলাম। এটাতেই অন্তুরা এসেছে। বুঝলাম, আততায়ী তাহলে অন্য নৌকায় করে পালিয়েছে। এবার অন্যদিকে হাঁটতে শুরু করলাম। অনেক দূর আসার পরে আবারও থামতে হলো। এদিকেও নদী। ওপাড়ে ঝোপের আড়ালে থেকে একটা নৌকার কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার কোন উপায় নেই। পাড় ধরে হাঁটতে গিয়ে আরও অবাক হলাম। ওপাশে একটা কুঁড়েঘর দেখা যাচ্ছে। দুলাল আংকেল জানালেন, ‘এখানটা বনের অনেক ভেতরে। এখানে মৌচাক থাকে না, তাই মৌয়ালরাও সহজে আসে না। আমরাও না। আজ আপনারা আসছেন বলে এলুম!’ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি দুটো বাজে। সত্যিই তালে তালে অনেকটা দূরেই এসে পড়েছি। কিন্তু তপুর ভেতরে ফেরার কোন তাগিদ নেই। ও আরও ভেতরে এগিয়ে চলল। তারপরে হঠাৎ বলে উঠল, ‘আচ্ছা দুলাল আঙ্কেল, বন বিভাগ থেকে কি গাছ কাটার প্রোগ্রাম চলছে নাকি?’

‘কই? না তো!’, তিনি বেশ আশ্চর্য হয়েই বললেন।

‘তার মানে ওরা দিনদুপুরেও সক্রিয়। এই দেখুন আজ সকালে যে গাছ কেটেছে তার প্রমাণ, এখনও আঠা বেরুচ্ছে। আর বৃষ্টি আসার আগেই ভেগেছে।’, তপু বলল।

আরও কিছুটা হাঁটার পরে ও বলল, ‘বৃষ্টিতে গুঁড়ি টানার চিহ্ন মুছে গেছে। তবে বেশি কাটতে পারেনি। আজ রাতে আবার আসবে। আর ওই যে ...’ হাত দিয়ে ও কি যেন নির্দেশ করে বলল, ‘ওখানে গাছ টানার ট্রলারটা ছিল এখানকার ঝোপটা পরিষ্কার, মানে সাথে গাছের গুঁড়িতে মুড়িয়ে গেছে।’ আমি তাকিয়ে দেখলাম, সত্যিই নদীর পুরোটাই ঝোপে ঢেকে আছে, অথচ এখানটা একটু পরিষ্কার। হঠাৎ ও বলে উঠল ‘চলুন ফেরা যাক। পেটে কিছু দিতে হবে যে!’

পথে থেমে আমাদের ব্যাগ থেকে রুটি আর কলা বের করে তিনজনে মিলে খেলাম। ফিরতে সন্ধ্যে হয়ে গেল। মংলায় আমাদের হোটেল ঠিক করাই ছিল। সোজা সেখানে ফিরে এলাম। এখানে বলে রাখি আমরা যে সাম্পানে এসেছি সেটা নাকি মাত্র একবার ডাউন ট্রিপ করেছে। তার মানে, অন্তু আর তার বাবা এখনও ফিরেনি। আমাদের পৌঁছে দিয়ে সাম্পান চালক আবার তাদের নিতে ফিরে আসবেন। এ জন্য যে তাকে অতিরিক্ত কিছু দিতে হবে সেটা আর নাÑই বা বললাম।

হোটেলে ফিরে শুনলাম মিশকাতের জ্ঞান এখন ফেরেনি। তবে অল্প সময়ের মধ্যে জ্ঞান ফিরতে পারে। সন্ধ্যার কতক্ষণ পরে খায়রুল সাহেবের ফোন পেলাম। একটা উদ্বিগ্ন ভরা কণ্ঠ। জানালেন, এখনো করমজল আছেন। আমি মিশকাতের কথা জানিয়ে তাড়াতাড়ি হোটেলে চলে আসতে বললাম। হোটেলের ঠিকানাও জানিয়ে দিলাম। আধঘণ্টার ভেতরেই চলে এলেন। বোধহয় ভাটা ছিল। আসা মাত্র তপু তাদের নিয়ে পাশের ক্লিনিকে গেল। যেতে যেতে ও খায়রুল সাহেবকে বলল, ‘মিশকাত বনে বেহুশ অবস্থায় পড়ে ছিল। বোধহয় মাথায় গাছের সঙ্গে বাড়ি খেয়েছিল।’ বুঝলাম, আসল ব্যাপারটা ও গোপন রাখতে চাইছে।

আমাদের হাসপাতালে রেখে তপু কোথায় যেন বেরিয়ে গেল। ফিরলো আধ ঘণ্টা পরে। খায়রুল সাহেব জানালেন তারা চারজন বনের মধ্য দিয়ে হাঁটছিলেন। হঠাৎ খেয়াল করলেন মিশকাত ওদের সঙ্গে নেই। অনেক ডাকাডাকি, খোঁজাখুঁজি করেও পেলেন না। আমজাদ লোকটা নাকি দুপুর পর্যন্ত ছিলেন। তারপরে ‘একটা জরুরী কাজ বাকি রয়ে গেছে’- এই বলে চলে গেছেন। কথাটা শুনে একটু অবাকই হলাম। প্রোফেশনাল গাইডদের সাধারণত এমনটা করার কথা নয়।

॥ চার ॥

রাত সাড়ে আটটার দিকে আমি আর তপু আরেকবার মংলা বন্দরে গেলাম। কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পরে ও একটা স্থানীয় পত্রিকা কিনে অস্ফুট স্বরে বলল, ‘সকাল বেলায়ই কেনা উচিত ছিল রে।’ আরেকটু হাঁটাহাঁটি করার পরে দেখলাম, আমজাদ শিকদার সাম্পান চালকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। আমাদের দেখে দুজনেই হেসে এগিয়ে এলেন। ভদ্রলোক বললেন, ‘আপনাদের কী একটা দুর্ভোগই না হলো আজ। সন্ধ্যার পরটা আমরা ফ্রিই থাকি। তাস-টাস খেলি। এ ছাড়া আর কোন কাজ নেই।’

তপু বলল ‘ছেলেটা হয়ত আনমনে হাঁটতে হাঁটতে ওখানে চলে গিয়েছিল! পরে কোন কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল। যাই হোক, যখন ফ্রি আছেন, তখন আমাদের সঙ্গে ডিনার করুন না। আজ আপনার বিশেষ করেÑ’ সাম্পান চালকের দিকে তাকিয়ে তপু বলল, ‘আপনি আজ আমাদের অনেক হেলপ্ করেছেন। বেশি কিছু না এখানকার মাছ দিয়েই...’

‘ইয়ে মানে... আমাদের একটু কাজ ছিল...।’ আমজাদ শিকদার মিন মিন করে বললেন।

‘এই না বললেন কোন কাজ নেই। শুনুন, ওসব বিনয় দেখিয়ে লাভ নেই... রাত দশটায় দুজনই চলে আসুন। অপেক্ষা করবো। ও হ্যাঁ, গ্যালাক্সি হোটেলে। তিন তলায়। কাল-পরশু আবারো আপনাদের নিয়ে বেরুবার ইচ্ছে আছে ...।’

॥ পাঁচ ॥

আমরা পাঁচজন আর অন্তু, অন্তুর বাবা খায়রুল সাহেব, পাশে মিশকাত, তার পাশে আমজাদ শিকদার আর সাম্পান চালক (পরে জানলাম ওনার নাম কালা) বসা। বেশ ধীরে-সুস্থে আমাদের ডিনার পর্ব সেরে তপু ‘একটু আসি’ বলে ভেতরে গিয়ে আবার পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফিরে এলো। এসে ও বসে না পড়ে দাঁড়িয়েই কথা বলতে শুরু করলো, ‘মিস্টার কালা সাহেব, আমাদের নামিয়ে দিয়ে আপনি তো সাম্পানেই বসা ছিলেন, নাকি।’

‘জি, হ্যাঁ’, সাম্পান চালক জবাব দিল।

‘আচ্ছা, আপনাদের কি কারো জানা আছেÑ সাম্পানে বসে বসে কারও জামা কাপড় ইচ্ছে করে ভিজে?’

‘আমি গোসল করেছিলাম।’

‘কিন্তু সাম্পান থেকে গোসল করলেও কি কারও পোশাক বিশেষ করে জামায় কাদা লেগে থাকে? অথচ আপনার শুকাতে দেয়া পোশাকে তাÑই তো দেখলাম!’

‘আমি একটু মাটিতে নেমেছিলাম ইয়ে ... মানে... হরিণগুলো দেখতে আর কী?’

‘হ্যাঁ, নামতে অবশ্য আপনাকে হয়েছিল, তবে হরিণ দেখতে নয়!’

‘আপনি কী সব বলছেন আবোল-তাবোল...’

‘আপনার প্রসঙ্গে পরে আসছি’, এই বলে তপু আমজাদ শিকদারের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আপনি আর ইনি তো এত বছর বিদেশেই ছিলেন তাই না?’

‘হ্যাঁ, কালুও কয়েকবছর বিদেশ ছিল। কিন্তু ভালো অর্থকড়ি কামাই করতে না পেরে আমার আগেই চলে আসে।’

‘এ কারণেই কী আপনাদের মধ্যে এতো জানাশোনা?’

‘হ্যাঁ।’

‘কিন্তু আমি যদি বলি অন্য কারণও আছে!’

‘অন্য কারণ আর কী থাকবে, হে’, আমজাদ শিকদার একটা কপট হাসি দেবার চেষ্টা করলেন।

‘মানুষ পাচার, শিশু পাচার’, তপু প্রায় চেঁচিয়ে উঠলো।

‘আপনি পাগল হয়েছেন! আপনি নিজেই তো বললেন, আমি শ্রমিকের কাজ করতাম...’

‘তাও করতেন’, তপু কথা কেড়ে নিল, ‘এক সময় সেটাই করেছেন, তারপরে ভাল অর্থকড়ি কামাইয়ের জন্য... ঠিক না মিশকাত!’ শেষের অংশটুকু তপু মিশকাতের দিকে তাকিয়ে বলল। মিশকাত এতক্ষণ হা করে তপুর কথা শুনছিল! ও কেন, আমরা সবাইÑই! হোটেলের ম্যানেজারও কখন জানি আমাদের পাশে এসে বসেছেন। মিশকাত বলল, ‘এ কারণেই বেশ চেনা চেনা লেগেছিল। কিন্তু ধরতে পারিনি।’

‘হ্যাঁ, তোমার কথাটাই আমাকে পথ দেখায়। চেনা চেনা লাগছে মানেটা কী? পরে নানা যুক্তি আর ঘটনা দেখে আসল সত্যটা ধরতে পারলাম। সৌদি আরবেই এর দুই নাম্বার ব্যবসা ছিল। আর এ কারণেই ও দেশের পত্রিকায় কয়েকবার ছবি ছেপেছিল। পরে উনি বিপদ বুঝে এদেশে চলে আসেন। লোক অবশ্য ও দেশে এখনো আছে। আর এখানাকার কলকাঠি উনিই নাড়ান। সঙ্গে আছেন এই কালা সাহেব...।’

হঠাৎই বাঘের মতো দুজনই আমাদের দিকে বন্দুক তাক করে পালিয়ে যেতে চাইলো! কিন্তু পেছন থেকে কারা যেন খপ করে ধরে এনে আবার চেয়ারে বসিয়ে দিলেন। এতক্ষণে বুঝলামÑ এরা পুলিশ। পিস্তল দুটো তপুর হাতে চলে এসেছে! তপু কালা মিয়ার হাতেরটার কার্তুজ খুলে নেড়েচেড়ে দেখে বলল, ‘ঠিকই ভেবেছিলাম, এখানে দু’রাউন্ড গুলি ফাঁকা। বাঘের হাত থেকে বাঁচতে দুটি গুলি খরচ করতে হয়েছে। বাঘও মরেনি। অবশ্য বাঘের হাত থেকে বাঁচতে পিস্তল ছাড়া কি চলে না? এমনিতেই সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তার ওপরে এমন যাচ্ছেতাইভাবে বন্দুকের ব্যবহার!’, তপু আমার দিকে ফিরে বলল, ‘কিরে রবীন, বিকেলের ঘটনাটা বলে দে না?’

একটা চমকের কারণেই পাঠকের কাছে বিষয়টা গোপন রাখা হয়েছিল। আমাদের আজকে বন থেকে ফেরার পথে হঠাৎই একটা ক্রুদ্ধস্বর শুনে সবাই থমকে দাঁড়াই। আমাদের সামনেই স্বয়ং দাঁড়িয়ে বনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার! খাঁচা ছাড়া বাঘ দেখে ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। দুলাল আঙ্কেল বন্দুকটা তাক করেছিলেন। তপু তাকে থামিয়ে সামনে এগিয়ে গেল। ওর পাগলামিটা দেখে অবাকই হয়েছিলাম। কিন্তু ও বাঘের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকল। পরক্ষণেই বাঘটা যে পথে এসেছিল, সে পথেই চলে গেল। আসার সময় ও বলেছিল, ‘বাঘের চোখে চোখ রেখে থাকতে পারলে উল্টো বাঘই মানুষকে ভয় পায়!’

আমি ঘটনাটা বলার পরে তপু আবার বলতে শুরু করলো, ‘শুধু মানব পাচারেই চলতো না, এর পাশাপাশি সুন্দরবনের গাছও কেটে কেটে সাফ করছিল এতোদিন। অবশ্য আমি একটু ভুল বুঝেছিলাম, আচ্ছা মিস্টার বিশ্বাসÑ’, তপু পুলিশ ইন্সপেক্টরের দিকে ফিরে বলল। নেম প্লেটে ওনার পুরো নাম দেখলামÑচমকদার বিশ্বাস। তপু বলল, ‘আপনারা তো ট্রলারে কাঠ নয়, তার থেকে তো বেশিই মানুষ বোঝাই পেয়েছিলেন, তাই না। তা কতজন?’

‘৩১ জন! ২৫টা ছোট বাচ্চা, আর ৬ জন তোমাদের বয়সী।’

‘হ্যাঁ, এবার কাঠ কম কেটেছিল। কারণ, কালই হয়তো এদেরকে পাচার করে দিতে চেয়েছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় যেন কেউ সন্দেহ না করে। মনে করে স’ মিলের জন্য কাঠ নেয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত। তাই না মিস্টার শিকদার?’

শিকদারের মাথা হেট হয়ে গেছে।

॥ ছয় ॥

পরদিন সকালবেলা আমাদের দু’জনার ডাবল বেডের রুমে মোটামুটি একটা ছোটখাটো জটলা বসল। ইন্সপেক্টর চমকদার বিশ্বাস, হোটেলের ম্যানেজার মিস্টার মোশাররফ মৃধা, আমরা আর অন্তুরা তিনজন তো আছেই। ইন্সপেক্টর আসামিদের থানায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তপুর ওপরে বেশ প্লিজড। কতক্ষণ পরে তপুর আংকেল শাহ আলম খানও রুমে ঢুকলেন। তাকে দেখেই ইন্সপেক্টর বলে উঠলেন, ‘স্যার, আপনার ভাতিজা যে এমন কাজ করবে, তা ভাবতেও পারিনি। কাল সন্ধ্যায় যখন আমার ওখানে গেল তখন তো ওকে পাত্তাই দিতে চাইনি। পরে আপনার নাম বললে...’

‘হ্যাঁ, তবে আমার মনে হয়Ñ এখন থেকে আর আমাকে না হলেও চলবে, হেঃ হেঃ! কি বলেন, মি. বিশ্বাস?’

‘তা বটে! তবে তপু মশাই কিভাবে যে কী করলে যদি আরেকটু বুঝিয়ে বলতে... ’

তপু বলল, ‘বোঝার জন্য কয়েকটাই পয়েন্ট ছিল। কয়েকদিন ধরে পত্রিকায় পাচার বিশেষ করে, মানুষ আর কাঠ পাচারের খবর শুনছিলাম। এখানে এসে কাল ভোরে স্থানীয় একটা পত্রিকায় হঠাৎ দেখলাম আগের দিন নাকি দুটি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। তেমন গুরুত্ব দিইনি। ভেবেছিলাম, সুন্দরবন এলুম, স্রেফ ঘুরেই সময় কাটাবো। পরে দেখলাম, শিকদার মশাইকে! এখনো ষাড়ের সমান শক্তি! অথচ কি-না করছে গাইডের কাজ। আপনারা তো জানেনইÑ এখানে গাইডের তেমন ভেল্যু নেই। এ কাজে তেমন পয়সাকড়িও নেই। আমরা ৪ জন তরুণ। প্রথমে হয়তো উনি আমাদেরই টার্গেট করেছিলেন। পরে খায়রুল সাহেবদের! তাদেরকে উনি নিজেই সাম্পান ঠিক করিয়ে দেন। তাও মাত্র ৪০০ টাকায়! অথচ এ সাম্পানই আমাকে বলেছিলÑ আজ ওদিকে যাবে না। তারপর সুন্দর বনের ভেতরে কালা মিয়ার পায়ের ছাপ। বেটে কিন্তু শক্ত লোকের পা। যেমন কালামিয়ার পা-টা দেখছিলাম। উনি আরেকটা নৌকায় করে এসে পালিয়ে নদীর ওপাড়ে যান! সেই সঙ্গে সাম্পানও যে নিয়ে এসেছিলেন তা বুঝলামÑ আসাদ ভাইরা পৌঁছতেই উনি সাম্পান ছেড়ে দিয়েছিলেন শুনে। অর্থাৎ ঘাটে ভিড়ে ইঞ্জিন বন্ধ না করেই গোসল করেছিলেন। পরে, নদীর ওপাড়ে নৌকাটার দিকে লক্ষ্য রেখে এগিয়ে কুঁড়েঘরটি নজরে পড়ল। প্রথমে মনে করেছিলাম জেলেরা বানিয়েছিল। বন রক্ষীদের কথা বাদ দিতে হয়েছিল, কেননা দুলাল আঙ্কেল জানালেন তারা এদিকে আসেন না। কিন্তু ভাল করে লক্ষ্য করতেই দেখলাম, কুঁড়েঘরটি নতুন! তার মানে কয়েকদিন আগেই বানানো! তার সাথে পেলাম গাছ কাটার সূত্র। এদিকে আরেকটি ব্যাপার হলো আমি গাছপাচার আর মানুষ পাচারকে আলাদা গ্রুপের কাজ বলে মনে করেছিলাম। যখন দেখলাম, কুঁড়েঘর ওপাড়ে আর এপাড়েই গাছ কাটছে আরেকটি গ্রুপ! তাহলে তাদের ভেতরে ক্লাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যেটা মূল ঘটনা সেটা হলো মিশকাত নিখোঁজের পরেই শিকদারের কাজে ফাঁকি, মানে বিশেষ কাজের কথা বলে অন্তুদের রেখে চলে আসা! একটা ব্যাপার, মিশকাতÑ’ তপু মিশকাতের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘যখন কালামিয়া তোমাকে বাড়িটা মেরেছিল তখন তুমি কি তাকে দেখতে পেয়েছিলে?’

‘না, মুখে গামছা পেঁচিয়ে ছিল। তবে কাল রাতে খাবার সময় কেন যেন তাকে খুব চেনা চেনা লাছিল।’

‘আমিও তাই মনে করেছিলাম। যদিও পেছন দিয়েই যে বাড়িটা মেরেছিল তা তখন মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন দেখেই বুঝেছিলাম। ওকে নিয়ে ওপাড়ের কুঁড়েঘরে রেখে আসাটা খুবই সহজ ছিল। ছদ্মবেশ নেয়াটা ছিল অতিরিক্ত সতর্কতা। অবশ্য এমন আরও অনেক কাজেই হয়তো এরা ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন। আর ছদ্মবেশ না নিলেও আমাদের কিছুই করার থাকত না। কিন্তু মূল প্ল্যানে বাঁধা সাধে বাঘটি। হঠাৎ করেই বাঘটি সামনে এসে পড়ায় কালামিয়া প্রাণ রক্ষায় গুলি করলেও নিজেও পালিয়ে যায়। আসাদ ভাইয়ের তোলা ফটোতে কালা মিয়ার পায়ের মিল পাওয়া যাবে।’

‘তা না হয় বুঝলাম, কিন্তু সন্ধ্যার পরে পত্রিকাটি কিনলি কেন?’, আমি কৌতূহল দমাতে না পেরে প্রশ্নটা করলাম।

‘ওটা দুটো উপলক্ষে। এক. আসলে আমি বিশ্বাস মশাইদের এখানে আসার দাওয়াত দিতেই গিয়েছিলাম। অবশ্য পেপারটি পড়ে একটা শিয়রিটি পেলাম। ওই রিপোর্টটার ভেতরে এ যাবত এখানকার কতজন নিখোঁজ হয়েছে তার বিবরণও আছে। তাছাড়া, খবরটিতে এও লিখেছে, একজন বেটে করে ও কালো লোকের সঙ্গে নাকি দুটি বাচ্চাকে কেউ গতকাল পোর্টের দিতে যেতে দেখেছিল। বাচ্চাগুলোর হাতে খেলনা ছিল আর ওরা হাসছিল। স্বভাবতই সন্দেহ করার কোন মানে হয় না। কিন্তু, পরে আর ওই বাচ্চা দুটির খোঁজ মেলেনি। তখন ওটা পড়েই দুজনার কর্ম পরিকল্পনার স্পষ্ট প্রমাণ পাই।’

‘আমাকে এখন উঠতে হচ্ছে’, বলেই ইন্সপেক্টর বিশ্বাস উঠে পড়লেন, ‘কাল দুপুরে আমাদের ওখানে দাওয়াত রইল। আসবে কিন্তু।’

‘চলো, বিশ্বাস, আমিও বেরুবো।’ ইন্সপেক্টরের সঙ্গে খান আঙ্কেলও বেরিয়ে গেলেন ।

খায়রুল আলম আর অন্তুরা তো আমাদের চেপে ধরলো। ওদের ঢাকায় ফিরে বাড়িতে একসময় যেতেই হবে। কী আর করার যাব বলেই কথা দিলাম।

শীর্ষ সংবাদ:
করোনার মধ্যে বন্যা মোকাবেলায় মানুষ হিমশিম         পাটকল শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হবে         অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে চালের দাম বাড়ছে         করোনা মোকাবেলায় এখন নজর চীনা ভ্যাকসিনে         করোনা মোকাবেলায় বহুপাক্ষিক উদ্যোগ জোরদারে গুরুত্বারোপ         ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার রায় আগস্টে         আগামী মাসে করোনা টিকা বাজারে আনবে ভারত         আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ভারত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল         দক্ষিণ সুদানে ‘বাংলাদেশ রোড’ ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে         মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসা থামছেই না         এবার রাজধানীর ওয়ারী লকডাউন         করোনার নকল সুরক্ষা পণ্যে বাজার সয়লাব!         সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু         কাল থেকে ওয়ারী ‘লকডাউন’         প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিল’ গঠন         সোমবার থাইল্যান্ডে নেওয়া হচ্ছে সাহারা খাতুনকে         এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকে ফের চিরুনি অভিযান ॥ আতিকুল         করোনা ভাইরাসে একদিনে আরও ৪২ মৃত্যু, শনাক্ত ৩১১৪         নিম্ন আদালতের ৪০ বিচারক সহ ২২১ জন করোনায় আক্রান্ত         সৌদি থেকে ফিরলেন ৪১৫ জন, মিসর গেলেন ১৪০ বাংলাদেশি        
//--BID Records