ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ভুয়া নোটারির কারণে ঠেকানো যাচ্ছে না বাল্যবিয়ে

প্রকাশিত: ০৬:২০, ১৬ মে ২০১৭

ভুয়া নোটারির কারণে ঠেকানো যাচ্ছে না বাল্যবিয়ে

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করার পরেও ঠেকানো যাচ্ছে না বাল্যবিয়ে। সম্প্রতি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ‘বাল্যবিবাহে দায় কার? প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছিলেন, নতুন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কোন রকমের নোটারি পাবলিক গ্রহণযোগ্য হবে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে হলে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ম্যারিজ রেজিস্ট্রারদের কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। সূত্রমতে, প্রতিমন্ত্রীর এ কঠোর নির্দেশনার পরেও ভুয়া নোটারির মাধ্যমে ও বিয়ের কতিপয় রেজিস্ট্রারের কারণে বরিশালে বাল্যবিয়ে হচ্ছে অহরহ। বাল্যবিয়ের অপরাধে বর-কনের অভিভাবক, রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে যেমন দ-বিধির আইন রয়েছে, তেমনি নাবালিকা মেয়েদের বয়স বাড়ানো ভুয়া নোটারির সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল। বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী এনজিও টিপিডিও’র প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভুয়া নোটারির মাধ্যমে সর্বশেষ বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেছে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে। ওই গ্রামের প্রবাসী সবুজ ঘরামির ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ের বয়স বাড়িয়ে তার মা বিয়ে দিয়েছেন একই গ্রামের কামাল ঘরামির ছেলে শান্ত ঘরামির সঙ্গে। ৃএকইভাবে বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের খলিশাকোঠা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী নুরজাহান আক্তার মিলির অমতে তার মা নাসরিন আক্তার মনি ভুয়া নোটারির মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে গত ১৬ এপ্রিল বিয়ে দেয়ার জন্য নোয়াখালীর জহিরুল ইসলামের সঙ্গে কাবিন করেন। এ ঘটনার পর স্কুলছাত্রী পালিয়ে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দ্বারস্থ হয়। পরবর্তীতে মুচলেকা দিয়ে দ-াদেশ থেকে মুক্তি পান মিলির মা মনি। এ ঘটনার কয়েকদিন পর একইভাবে ভুয়া নোটারির মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী নিলীমা কর নিশির। পরবর্তীতে নিশি নিজেই তার বিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছিল। এজন্য তাকেসহ তার স্কুলছাত্রী বোন ও মাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে নিশির বাবা ও দুই কাকা।