শুক্রবার ৪ আষাঢ় ১৪২৮, ১৮ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বিশ্ব পানি দিবস

পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি

দূষিত পানি পান করার ফলে সম্প্রতি ভয়াবহ হারে বেড়ে গেছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। দূষিত পানি পানে নানা জটিল রোগের উৎপত্তি হতে পারে। হেপাটাইটিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, জন্ডিসের মতো মারাত্মক ব্যাধির উৎসে থাকে দূষিত পানি। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অভিমত, এ রকম দূষিত পানি দীর্ঘদিন পান করতে থাকলে আরও জটিল রোগ, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারও হতে পারে। কিডনি রোগ, আলসার, রক্তচাপ, এ্যাজমা, যক্ষ্মা ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা দিতে না পারলে জনস্বাস্থ্যকে সম্পূর্ণভাবে হুমকিমুক্ত করা যাবে না। বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা বিধান করে বহুরোগ থেকে আত্মরক্ষা করা যায়।...

সরবরাহকৃত পানির গুণগত মান

রাজধানী ঢাকায় দৈনিক পানির দরকার হয় ২২০ থেকে ২৩০ কোটি লিটার। ঢাকার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে দিনের চাহিদার পুরোটাই সরবরাহও করে। তবে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ওয়াসার পানিতে মাত্রাতিরিক্ত দুর্গন্ধ ও ময়লা থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে ফোটানো হলেও কিছু এলাকায় সরবরাহকৃত পানি থেকে দুর্গন্ধ যাচ্ছে না, তা পানযোগ্যও করা যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহকৃত পানির ১৫ শতাংশ আসে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার থেকে। শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা থেকে পানি এনে শোধন করে তা নগরবাসীর জন্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এ দুই নদীর পানি এতটাই দূষিত যে তা শোধন করেও পানযোগ্য করা যাচ্ছে না। কারণ, নদীদূষণের কারণে নদীর অবস্থা বেশ খারাপ। এসব নদীতে এখনও পানি আছে বটে, কিন্তু সে পানি এতই দূষিত যে তা মানুষের পানের উপযোগী করার জন্য মূল শোধনাগারে নেয়ার আগে একটি প্রাক-শোধনাগারে নিয়ে একবার শোধন করতে হয়। অর্থাৎ এসব নদীর পানি এক দফায় শোধনযোগ্য নয়। দুটি পৃথক শোধনাগারে দুই দফায় শোধন করার পরেই কেবল তা মানুষের পানের উপযোগী হয়।...

জেরি-ক্যান কোম্পানিগুলোর অসাধুতা

ঢাকার বেশির ভাগ এলাকায় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যে পানি সরবরাহ করে, তা সরাসরি পান করা তো চরম ঝুঁকিপূর্ণ, এমনকি ফুটিয়ে, ফিল্টার করেও গন্ধমুক্ত পানের উপযোগী করা যায় না। আর বিশুদ্ধ খাবার পানির এই সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যক্তিরা রমরমা বাণিজ্য করছে। বিশুদ্ধ পানির নামে বোতলজাত পানি অথবা জেরি-ক্যানে বিক্রির ব্যবসা এখন রমরমা। কিন্তু রাজধানীসহ সারাদেশে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকিরা জেরি-ক্যানে করে যে পানি বিক্রি করে তার বেশির ভাগই বিশুদ্ধ নয়।...

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরের নিম্নগামিতা এবং পানিতে ভারি ধাতু এবং দূষিত পদার্থের প্রকট উপস্থিতি

পানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এম আশরাাফ আলী বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়মে ভূ-গর্ভস্থ পানির যে স্তরটুকু খালি হয় তা পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিকভাবেই পূরণ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকাসহ আরও কিছু এলাকায় তা হচ্ছে না। ভূ-গর্ভের পানি শুধু কমছেই, বাড়ছে না। আগে থেকেই অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অতিমাত্রায় নলকূপ বসিয়ে ইচ্ছামতো পানি তুলে ফেলায় অবস্থা এমন হয়েছে যে এখন আর পানি আমাদের নাগলে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করলেও

ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দিয়ে পানি সঠিক মাত্রায় নিরাপদ করা যাচ্ছে না মারাত্মকভাবে নদীদূষণের ফলে।’

এছাড়াও বিভিন্ন দূষিত পর্দাথের প্রকট উপস্থিতির কারণে গভীর নলকূপের পানিও আর নিরাপদ নেই। এতে ঢুকে পড়েছে পানিবাহিত রোগের উপাদান ব্যাকটেরিয়া, সেটাও ভয়াবহ মাত্রায়। এছাড়াও এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ পরিচালিত ওয়াটার কোয়ালিটি টেস্টিং ল্যাবরেটরির (ডব্লিউকিউটিএল) এক গবেষণায় বাংলাদেশের অধিকাংশ নলকূপের পানিতে ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও ম্যাঙ্গানিজ নামের একটি ভারি ধাতুর উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভারি এ ধাতুটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। গবেষকরা বলছেনÑ মাটির নিচে পানির স্তরে ভারি ধাতুর উপস্থিতির কারণে তা পানের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।...

পানি কি শুধুমাত্র ফোটানোর মাধ্যমে বিশুদ্ধকরণ সম্ভব?

পানিতে মিশে থাকা বিষাক্ত কেমিক্যাল, ভারি ধাতু, মরিচা, সিসা, বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ইত্যাদি শুধুমাত্র ফোটানোর মাধ্যমে দূর করা যায় না।

ৎব্যাকটেরিয়াসহ অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংসের জন্য পানি সঠিক তাপমাত্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ফোটাতে হয়। কিন্তু সঠিক তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ধরে পানি ফোটানোর বিষয়টি সবার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তাই পানি ফোটালেও ঝুঁকি রয়েই যায়। তাই সবাইকে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য বিকল্প পথ বেছে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ পানির জন্য নির্ভর করা যেতে পারে পারে উন্নতমানের পানিশোধন যন্ত্রের ওপর।

*এসব উল্লেখ ছাড়াও যে বিষয়ে বিস্তারিত থাকতে পারে-

সাধারণ ফিল্টার কি পানি থেকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করতে পারে?

সাধারণ ফিল্টার পানি থেকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করতে পারে না। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন উন্নতমানের পানিশোধন যন্ত্রের মাধ্যমে পানি শোধন করে পান করার জন্য।... এ ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে দূষিত পানি পানের কারণে মানুষ অনেক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, সেসব এলাকা নিয়ে একটা গবেষণামূলক লেখা থাকতে পারে যেখানে এই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানের কথাও থাকবে।

(পিআর গাইডলাইনস)

করোনাভাইরাস আপডেট
বিশ্বব্যাপী
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
১৭৭০৯৫৪৫৫
আক্রান্ত
৮৩৭২৪৭
সুস্থ
১৬১৩০৪৬০১
সুস্থ
৭৭৩৭৫২
শীর্ষ সংবাদ:
বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীতে প্রাণহানি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে         চার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ॥ মহাপরিকল্পনা উন্নত জীবনের         বিনামূল্যে জমি ও ঘর দেয়ার ঘটনা বিশ্বে এই প্রথম         ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা ভোটার তোলপাড়         ’২৬ সালে ঢাকায় চলবে পাতাল রেল         মদ-জুয়া-বার ইস্যুতে সংসদ উত্তপ্ত, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য         ড্যান্স বারের আড়ালে নারী পাচারের ফাঁদ         পেঁয়াজের আমদানি মজুদ ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ         পরীমনির অভিযোগকে প্রাধান্য দেয়ার আর সুযোগ নেই         করোনায় আরও ৬৩ জনের মৃত্যু         করোনা মোকাবেলায় আশার আলো- বিজ্ঞানীদের নিরন্তর চেষ্টা         প্রহসনের নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করেছিলেন জিয়া         রাজশাহী ও সাতক্ষীরায় ফের এক সপ্তাহ লকডাউন         পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে উদ্যোগ নেয়া হবে ॥ তাপস         প্রাইভেটকারে তুলে হাত-পা বেঁধে সর্বস্ব ছিনতাই         অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ করতে দেয়া হবে না ॥ তাজুল         বিদেশে কর্মসংস্থান প্রত্যাশীদের সতর্ক করলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী         আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় কমার সুযোগ নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী         করোনা : গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৬৩, নতুন শনাক্ত ৩৮৪০         বিশ্ব শান্তি সূচকে বাংলাদেশের সাত ধাপ উন্নতি