ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

ব্যালন ডি’অর নিয়ে মাথাব্যথা নেই নেইমারের

প্রকাশিত: ০৬:২০, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬

ব্যালন ডি’অর নিয়ে মাথাব্যথা নেই নেইমারের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ একজন ফুটবলারের কীর্তির সেরা স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অর। বছরজুড়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানোর কারণে একজন ফুটবলারকে বর্ষসেরা হিসেবে এ মর্যাদার পুরস্কারটি দেয়া হয়ে থাকে। এ অর্জনটাকে আরও বিশেষত্ব দিয়েছেন প্রায় এক দশক ধরে বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দুই ফুটবলার আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তাদের যথার্থ উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয় ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারকে। তবে এখন পর্যন্ত খুব বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেননি ব্যালন ডি’অর পুরস্কারে। অবশ্য বার্সিলোনার এ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দাবি করেছেন ব্যালন ডি’অর নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যথা নেই তার। তবে জানিয়েছেন তিনিও মর্যাদার এ পুরস্কারটি হাতে তুলতে চান। কিন্তু সেজন্য ঘুম হারাম হয়নি তার। ইতোমধ্যেই ব্যালন ডি’অর সর্বাধিক ৫ বার জিতেছেন বার্সার সুপারস্টার মেসি। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রোনাল্ডোও তেমন পিছিয়ে নেই। চলতি বছরেরটাসহ তিনিও মোট চারবার জিতলেন মর্যাদার এ পুরস্কারটি। ২০০৮ থেকে ২০১৬ এই ৯ বছরে আর কেউ তেমন বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেননি এ দুই ফুটবলারের সামনে। বিভিন্ন সময়ে তৃতীয় হয়েছেন বিভিন্ন ফুটবলার। গত বছর তৃতীয় হয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু এবার সেটা দখল করেছেন ফরাসী ফরোয়ার্ড এ্যান্টোনিও গ্রিজম্যান। সেরা তিনেও জায়গা হয়নি নেইমারের অথচ এ বছর তিনি দলকে জিতিয়েছেন মর্যাদার অলিম্পিক স্বর্ণ। এবারই প্রথম অলিম্পিক ফুটবলে সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছে বিশ্বের সকল আন্তর্জাতিক শিরোপাজয়ী ব্রাজিল। আর কোন ঘাটতিই নেই দলটির। অবশ্য ক্লাব পর্যায়ের নৈপুণ্যে নেইমার ছিলেন বাকিদের চেয়ে পিছিয়ে। এ কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনজনের মধ্যেও থাকা হয়নি। তবে কি ব্যালন ডি’অর জেতা হবে না এ ব্রাজিলিয়ান তরুণের? এ বিষয়ে নেইমার বলেন, ‘আমি যদি ব্যালন ডি’অর না জিতি, তাহলেও ঠিক আছে! আমি এটা জেতার জন্য তো ফুটবল খেলছি না। আমি সুখী থাকার জন্য খেলি কারণ এটা আমি অনেক ভালবাসি। সবসময় আমি ফুটবল খেলতে পছন্দ করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে একজনই মাত্র ব্যালন ডি’অর জিততে পারে।’ অবশ্য নেইমার জানিয়েছেন তারও জেতার আশা আছে ব্যালন ডি’অর। ২০০৭ সালে সর্বশেষবার মেসি-রোনাল্ডোর বাইরে এ মর্যাদার পুরস্কার জিতেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কাকা। গত বছর তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থেকেও মেসির কারণে জেতা হয়নি নেইমারের। এ বিষয়ে নেইমার বলেন, ‘অবশ্যই এটা আমার একটা লক্ষ্য ব্যালন ডি’অর জেতা। কিন্তু যদি এটা না হয় আমি মরে যাব না।’ ২০১৩ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস থেকে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সিলোনায় যোগ দিয়েছিলেন নেইমার। এর মধ্যে তিনি কাতালানদের হয়ে দুটি লীগ শিরোপা, দুটি ডোমেস্টিক কাপ, স্প্যানিশ সুপার কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। বার্সার পক্ষে রেকর্ড গোলদাতা মেসি ও গত বছর শীর্ষ গোলদাতা উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজের পাশপাশি খেলা নেইমার নিজেকে বিশ্বের শীর্ষ ফুটবলারদের কাতারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২৪ বছর বয়সী নেইমার অবশ্য সম্প্রতি গোল করার চেয়ে করানোর ক্ষেত্রেই পারদর্শিতা দেখিয়ে চলেছেন। এ ত্রয়ী গত মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৩১ গোল করেছিলেন। নেইমার এ বিষয়ে বলেন, ‘এটা খুবই অদ্ভুত ব্যাপার যে দক্ষিণ আমেরিকায় আমরা পরস্পরের চরম প্রতিপক্ষ। একজন ব্রাজিলিয়ান, একজন আর্জেন্টাইন ও আরেকজন উরুগুইয়ান- আপনারাই চিন্তা করুন শত্রুতা কত উঁচুমানের! তবে এসব নিয়ে আমরা কেউ ভাবি না, আমাদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব আছে। আমরা সবসময় পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকি এবং হাসি-ঠাট্টা করি। ফুটবলে এ ধরনের দুর্দান্ত মানুষদের কাছে পেয়ে আমি সত্যিই খুবই আনন্দিত। আমি বার্সিলোনায় এখন যেমন জীবনধারণ করছি সেটা নিয়ে খুবই সুখী।’