ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

জাতীয় নাট্যোৎসবে মহাকালের ‘নীলাখ্যান’

প্রকাশিত: ০৪:১৭, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

জাতীয় নাট্যোৎসবে মহাকালের ‘নীলাখ্যান’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির তিন মিলনায়তন এবং মহিলা সমিতি মিলনায়তনে চলছে জাতীয় নাট্যোৎসব। এ উৎসবে আগামী ২ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ৩৬তম প্রযোজনা ‘নীলাখ্যান’। দ্রোহ ও প্রেমের কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাপুড়ে’ গল্প আশ্রয়ে নাটকটি রচনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনন জামান রচিত। নির্দেশনা দিয়েছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। নাটকের অভিনয় শিল্পীরা হলেন জেরিন তাসনীম এশা, কোনাল আলী চৈতী সাথী, শাহিনুর প্রীতি, আদিবা, সুরেলা, সৈয়দা কানিজ ফাতেমা লিসা, নির্ঝর অধিকারী, তনু ঘোষ, আমিনুল আশরাফ, আসাদুজ্জামান রাফিন, মোহাম্মদ আহাদ, শিবলী সরকার, শাহরিয়ার হোসেন পলিন, ইয়াছির আরাফাত, তৌহিদুর রহমান শিশির, রাজিব হোসেন, ইকবাল চৌধুরী, মোঃ শাহনেওয়াজ এবং মীর জাহিদ হাসান। নেপথ্য শিল্পীরা হলেন মঞ্চ পরিকল্পনা, সুর, সঙ্গীত ও আবহসঙ্গীত পরিকল্পনায় ইউসুফ হাসান অর্ক, আলোক পরিকল্পনায় ঠান্ডু রায়হান, পোশাক পরিকল্পনায় ড. সোমা মোমতাজ, কোরিওগ্রাফি জেরিন তাসনিম এশা। মানব প্রেমের অমর উপাখ্যান ‘নীলাখ্যান’ নাটকের কাহিনীতে তুলে ধরা হয়েছে বেদিয়ার সর্দার জহরের বিষ জয় সাধনায় মনসা কর্তৃক কাম নিষিদ্ধ বলে- তার ভাষে আভাসে প্রত্যাখ্যাত ভালবাসার মানুষ বিন্তী রানী আত্মহত্যা করে আড়ালি বিলে রাশি রাশি শাদা শাপলার বনে। বেদিয়া বহরে বেড়ে ওঠা সাপে কাটা মান্দাস ভাসা বালিকা চন্দনের চুলের আড়ে বিন্তীর সুরভী পায় জহর। নারী নিষিদ্ধ বলে এ বালিকা বেড়ে উঠছিল বালকের বেশে। যাকে সন্তান করেছিল জ্ঞান- ঋতুমতি হয়ে ওঠার পর তার প্রতি প্রবল রতি অনুভব করে জহর। বেদিয়া দলে তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিচিত্রমুখী সংকট। চন্দনের যুবা সাজে তাকে প্রেম নিবেদন করে মৌটুসী আর চন্দন ঠোঁটে মালতী ফুলের লাল ডলে ঝুমরোর সামনে দাঁড়ায়। বেদিয়াদের উৎসবে চন্দনের নারিত্ব উন্মোচন হলে দলের অতিপ্রাকৃত বৃদ্ধ ঘণ্টাবুড়ো বেদিয়া দল ও জহরকে তিনটি অনিবার্য ভবিতব্যের ঘোষণা দেয়- ‘ভবিতব্যের তিনরূপ কহি- যে ভাতের পাতিল নেবার জন্য জলে ডুবেছে বিন্তী- তা অন্যরে দিতে চেয়ে পতিত হবি তুই। অথবা তোর আচরে বিন্তীর অনুগামী হবে চন্দনে। আর যদি না হয় তা- তবে আছে তৃতীয়জন- তার হবে মৃত্যু। মৃত্যু অনিবার্য- তবে তা কার হবে- তোর কার্যকরণ হবে থির।’ সামগ্রিক দৃশ্যকাব্যে ক্ষণে ক্ষণে তিনটি ভবিতব্য ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে ওঠে। যাকে পিতা মানে তাকে পতি মেনে নিতে পারে না চন্দন। ঝুমরোর জন্য জহরের ঝাঁপিতে আছে দাঁত না ভাঙা পোষা সাপ। শাওনের অখ- চাঁদের সাঁজ বেলায় আকাশজুড়ে যেন মনসার নীল মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে। জহরের অন্তরে তখন বাজে চন্দন চেয়েছিল গাঢ় নীল রঙের ফতুয়া। সে ক্ষণে একশতম সাপের দংশন নেবে জহর- মন্ময় নীলের দোলাচলে সে চিত্রল ফণায় টোকা দিয়ে সাপটিকে ক্রোধমত্ত করে তোলে।