ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৯ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বিএনপির প্রতি সৈয়দ আশরাফ

ইসিসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কের উর্ধে রাখুন

প্রকাশিত: ০৫:২৩, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬

ইসিসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কের উর্ধে রাখুন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনকে অহেতুক বিতর্কিত না করতে বিএনপিসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন, সুপ্রীমকোর্ট, হাইকোর্টসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ঠিক নয়। এগুলো সভ্যতার স্তম্ভ। আসুন আমরা এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মান দেখাই। বৃহস্পতিবার ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ জেলা, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট জেলার দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত দলীয় এমপিদের সঙ্গে এক যৌথসভায় তিনি আরও বলেন, ‘প্ল্যানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ পদকে ভূষিত হওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্যতা ও সর্বোচ্চতাই প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্ব নেতারা যেমন শেখ হাসিনাকে সম্মান করেন তেমনি বাংলাদেশের মানুষও তার মতো নেতা পেয়ে গর্ববোধ করেন। এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেন। তিনি যে ইলেকশন কমিশন গঠন করবেন সেটাই হবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। প্রসঙ্গত, কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। পাঁচ সদস্যের নতুন কমিশন নিয়োগে আগেরবারের এবারও ‘সার্চ কমিটি’ করা হচ্ছে বলে ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মন্তব্যের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমরা যদি সবকিছু নিয়েই বিতর্ক করি, হাইকোর্ট, সুপ্রীমকোর্ট, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে, তাহলে আমরা যাব কোথায়? আমাদের মাথা ঠেকানোর জায়গা কোথায়? তিনি বলেন, অহেতুক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে যদি বিতর্ক করি, তাহলে সভ্যতা থাকবে না, আইন থাকবে না। এই দেশে তাহলে গণতন্ত্র থাকবে? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, দেশের মানুষের সর্বোচ্চ অর্জন হলো, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কের উর্ধে রাখা। এসব প্রতিষ্ঠান বিতর্কমুক্ত রাখার কারণেই পৃথিবীতে সভ্যতা টিকে আছে। তিনি বলেন, দেশে যদি আইনকানুন না থাকে, তাহলে সভ্যতাই থাকবে না। এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার কিছু নেই। সুতরাং আশা রাখি, আমরা এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কের উর্ধে রাখব এবং সম্মান দেখাব।’ জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বিশ্বসভায় আমাদের মতো দেশগুলোর একটা শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, শেখ হাসিনা যদি দেশকে আরও দশটা বছর সেবা দিতে পারেন তাহলে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের নয়, উন্নত দেশে পরিণত হবে। শেখ হাসিনার কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে বাংলাদেশ। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই দেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ থেকে দুটি পুরস্কার পেয়েছেন। একটি নারীদের অধিকার রক্ষায়, অন্যটি পরিবর্তনের জন্য। প্রধানমন্ত্রী সব সময় নারী ও শিশুদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার থাকেন। আগে বাংলাদেশের মতো দেশ?গুলোর কোন মুখপাত্র ছিল না। শেখ হাসিনা এখন এমন দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলেন। তিনি যা সত্য, তাই বলেন। তিনি ভয়হীন। প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কোন দাবি তুলে ধরলে তা বাতিল হয়ে যায় না। কেননা তিনি যুক্তি দিয়ে দাবি তোলেন। ফলে অন্য দেশগুলো তাতে সমর্থন দেন। বাংলাদেশ এখন আর ১০ বছর আগের অবস্থানে নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশের ওপর চলে গেছে। জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের ফেরার দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণঅভ্যর্থনা দেবে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচী সফল করতে সৈয়দ আশরাফের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
×