ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ইব্রাহীম রাসেল

সভ্য সমাজের বিষফোঁড়া

প্রকাশিত: ০৪:০৩, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

সভ্য সমাজের বিষফোঁড়া

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে আমরা সভ্য সমাজ বলে দাবি করি। ইভটিজিং এই সভ্য সমাজের বিষফোঁড়া। সাধারণভাবে কোন নারী অথবা কিশোরীকে অশ্লীল কথা, আচরণ বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উত্ত্যক্ত, বিরক্ত কিংবা স্বাভাবিক চলাচলে বাধা প্রদান করাকে ইভটিজিং বলা হয়। আর ব্যাপকার্র্থে- কোন মানুষ অথবা কোন নারী-কিশোরীকে স্বাভাবিক চলাফেরা বা কাজকর্ম করা অবস্থায় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা, তাকে বিকৃত নামে ডাকা, কোন কিছু ছুড়ে মারা, ধিক্কার দেয়া, তাকে নিয়ে অহেতুক হাস্যরহস্য করা, ব্যক্তিত্বে লাগে এমন মন্তব্য করা, ভয় দেখানো, তার যোগ্যতা নিয়ে ইয়ার্কি করা, চলতি পথে হাঁটতে হাঁটতে ধাক্কা দেয়া, বাজে ইঙ্গিতপূর্ণ ইশারা দেয়া, সিগারেটের ধোঁয়া গায়ে ছাড়া, উদ্দেশ্যমূলকভাবে পিছু নেয়া-চিঠি লেখা-পথরোধ করে দাঁড়ানো, প্রেমে সাড়া না দিলে হুমকি প্রদান ইত্যাদি ক্রিয়া বা এ সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপকে ইভটিজিং বলা হয়ে থাকে। মোবাইল এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহার করেও আজকাল বিভিন্ন পন্থায় ইভটিজিং হয়ে থাকে। কেবল আমাদের দেশ নয়, পৃথিবীজুড়েই নারী-পুরুষ-কিশোরীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। তবে নারী এবং কিশোরীর সংখ্যাই বেশি। ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণগুলো হলো- নারীর প্রতি পুরুষশাসিত সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, নারীকে পণ্য ও ভোগের বস্তু মনে করা, নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা, পারিবারিক আদর্শ শিক্ষার অভাব ও মূল্যবোধের অবক্ষয়, সুস্থ সংস্কৃতির অভাব, সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে নারী পুরুষের বৈষম্যমূলক সম্পর্ক, আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া ইত্যাদি। আমাদের দেশে যার সর্বশেষ আলোচিত ঘটনা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রিশার মৃত্যু। ইভটিজিংÑ এই ব্যাধির সংক্রমণ থেকে বাঁচতে রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সমাজ তথা ব্যক্তিপর্যায়ে সকলেরই এগিয়ে আসতে হবে। ভয়ঙ্কর এই বিষফোঁড়া নিরাময়ের লক্ষ্যে যা করণীয় তা হলো- পারিবারিক পর্যায়েÑ সন্তানদের বোধ হওয়ার পর থেকে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষ সম্পর্ক পরিষ্কারভাবে ধারণা দিতে হবে। নারীর প্রতি পুরুষ সদস্যদের শ্রদ্ধা প্রদর্শন, মর্যাদা দান, কটু ও অশ্লীল কথা, গালি-গালাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ছেলে-মেয়েদের বই, কবিতা পড়া, খেলাধুলা, ছবি আঁকা ইত্যাদি কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কাউকে টিজ করা একটি খারাপ কাজ ও আইনের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এ বিষয়ে সন্তানদের বিশেষ করে ছেলেদের অবগত করতে হবে। সন্তানদের মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। সামাজিক পর্যায়েÑ ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। কোথাও কোন ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটলে ভিকটিমের পাশে সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দাঁড়ানো এবং মানসিক ও অন্যান্য সাহস জোগানো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ক্লাসরুমে ইভটিজিং সম্পর্কে আলোচনা করা এবং নেতিবাচক বিষয় তুলে ধরা। ইভটিজিংয়ে উৎসাহিত হয় গণমাধ্যমে এ ধরনের বক্তব্য, বিজ্ঞাপন প্রচার না করা। নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। স্থানীয় পর্যায়ে ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা। পরিশেষে এটাই কাম্য ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে রিশার মৃত্যুর মতো এমন ঘটনা আর না ঘটুক। মোহাম্মদপুর, ঢাকা থেকে
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২