ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

বৈশ্বিক ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি

প্রকাশিত: ০৩:৪৮, ৩১ মে ২০১৬

বৈশ্বিক ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থান বিশ্বে ফ্যাসিবাদ নিয়ে বিতর্ক নতুন করে উস্কে দিতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রিপাবলিকান দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী ট্রাম্পের উত্থানে শঙ্কিত দেশটির রাজনৈতিক মহল। তারা মনে করেন, রাজনীতি হয়ত ঠিক আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থানে নেই। ট্রাম্পের আকস্মিক উত্থান মার্কিন রাজনীতির দ্বিদলীয় চরিত্র বদলে দিয়েছে। বিতর্ক এখন কেবল ডেমোক্র্যাটিক বনাম রিপাবলিকান পর্যায়ে নেই বরং রিপাবলিকান দলের মধ্যে এখন ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। রাজনীতিতে নবাগত ট্রাম্প হঠাৎ করে সবার মনোযোগের কেন্দ্রে চলে এসেছেন। দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখন যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি উভয় রাজনৈতিক দল তা মোকাবেলায় ব্যর্থ, এ ধারণা পুঁজি করে তিনি রাজনীতিতে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। ম্যাসাচুস্টেস অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় সাবেক গবর্নর উইলিয়াম ওয়েল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন পরিকল্পনাকে ১৯৩৮ সালে জার্মানির ক্রিস্টালনাখটের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এক রাতের মধ্যে জার্মান নাৎসিরা ইহুদীদের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে বহু ইহুদীকে হত্যা করে। বিষয়টি শুনলে হয়ত বাড়িয়ে বলা হচ্ছে মনে হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প যেভাবে নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন তা এ্যাডলফ হিটলার ও বেনিতো মুসোলিনির কথা অনেককে মনে করিয়ে দিচ্ছে। মার্কিন রাজনীতিকদের আশঙ্কা, ট্রাম্প ফ্যাসিবাদকে নতুন করে জন্ম দিতে যাচ্ছেন। তার সমর্থকরা হয়ত মনে করতে পারেন, এ ধরনের তুলনার উদ্দেশ্য রক্ষণশীলদের সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি ও ভোটারদের আতঙ্কিত করা। পার্র্টির দীর্ঘদিনের সদস্য ওয়েল্ড নিজ দলের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে লিবারেটারেয়ান পার্টি নামে একটি অখ্যাত রাজনৈতিক দল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হচ্ছেন। গ্যারি জনসন এ দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্র্থী। ট্রাম্পের প্রচারাভিযান পুরনো ইস্যু ফ্যাসিবাদ নিয়ে শুরু করেছে বিতর্ক। ফ্যাসিবাদ এমন এক সরকারী ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে শাসক কর্তৃত্ববাদী চরিত্রের হওয়ার পাশাপাশি উগ্র জাতীয়তাবাদী এমনকি বর্ণবাদী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয়ে থাকেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও তুর্কী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানকে বর্তমান পটভূমিতে কেউ কেউ এ ধারায় ফেলতে চান। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরী ও অস্ট্রিয়ার মতো কোন কোন ইউরোপীয় দেশে এখন উগ্র জাতীয়তাবাদীদের জয়জয়কার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাজনীতির এ ধারাটি কখনই এত শক্তিশালী ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের ফিলিস্তিনী ভূখ- জোর করে নিজের দখলে রাখাও ফ্যাসিবাদের আরেকটি উদাহরণ। ‘২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেরই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অবস্থা শোচনীয় করে তুলেছে। তারা প্রচলিত রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে। কারণ এটি তাদের সমস্যার সমাধান দিতে পারেনি।’ বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক ইউরোপীয় কাউন্সিলের পরিচালক মার্ক লিওনার্ড এ মন্তব্য করেছেন। মূলত এ সময় থেকেই ইউরোপ ও আমেরিকার রাজনীতির ধারায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে। গত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গৃহযুদ্ধ ও ইউরোপ অভিমুখে শরণার্থীর ঢল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক রবার্ট কাগান সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে ‘যুক্তরাষ্ট্রে এভাবেই ফ্যাসিবাদ আসছে’ শিরোনামে একটি উপসম্পাদকীয় লেখেন। ওই লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনীতি সচেতন মহলে সাড়া পড়ে যায়। কাগান বলেন, ‘লেখাটির বিষয়ে আমি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।’ উল্লেখ্য, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে মার্কিন রাজনীতির তুলনা নতুন কিছু নয়। গুগল সার্চ দিলেই ‘বারাক ওবামা এ্যান্ড নাজি’ অথবা ‘জর্জ ডব্লিউ বুশ এ্যান্ড নাজি’- এ ধরনের বিষয় সাধারণ ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে। ট্রাম্পকে যে হিটলার বা মুসোলিনির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে সেটি নিয়ে সে বিষয়টি তিনি নিজেও জানেন। তিনি মনে করেন, এর ফলে সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা আরও সহজ হয়েছে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস