শনিবার ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৬ জুন ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় আবুল আসাদসহ ৪ জনকে অব্যাহতি

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ ও মন্তব্য করায় আদালত অবমাননার মামলায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার পর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদসহ চারজনকে অব্যাহতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও মোঃ আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নবম সাক্ষী দাউদ হোসেন জবানবন্দীতে বলেছেন, আসামি মাহিদুর ও চুটুর নেতৃত্বে রাজাকাররা আমার চাচা গোদর আলীসহ ১৭/১৮ জনকে গুলি করে হত্যা করে। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জবাবনন্দীর জন্য ১৯ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেন।

আদালত অবমাননায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় আদালত অবমাননা থেকে দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদকসহ চারজনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার এ আদেশ প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া অপর তিনজন হলেন-দৈনিক সংগ্রামের রংপুর প্রতিনিধি নুরুজ্জামান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি ইউনিট কমান্ডার একরামুল হক দুলু এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান সরকার রাঙ্গা।

বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেয়া এবং সেই বক্তব্য প্রকাশ করায় দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৩ আগস্ট আদালত অবমাননার রুল জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। রুলের অন্য বিবাদীরা হলেন-সংগ্রামের রংপুর প্রতিনিধি মোঃ সনুুরুজ্জামান, স্থানীয় সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইকরামুল হক দুলু ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান সরকার রাঙ্গা। একাত্তর সালে আজহার নামে কোন রাজাকার কমান্ডারের নাম শুনিনি এবং ‘১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত রংপুর কারমাইকেল কলেজে আজহার নামে কোন ছাত্রনেতা ছিলেন না’ শিরোনামে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইকরামুল হক দুলু এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান সরকার রাঙ্গার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল দৈনিক সংগ্রাম। ওই প্রতিবেদন আজহারের পক্ষে ডকুমেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করতে গেলে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করে আদেশ দেয়।

মাহিদুর-চুটু ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও মোঃ আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নবম সাক্ষী দাউদ হোসেন জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর (আইও) জন্য ১৯ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -২ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেছেন, আমার নাম দাউদ হোসেন, পিতা- মৃত সোনার উদ্দিন ম-ল। গ্র্রাম- এরাদত বিশ্বাসের টোলা বিনোদপুর, থানা- শিবগঞ্জ, জেলা-নবাবগঞ্জ। আমার বর্তমান বয়স ৬১ বছর। ১৯৭১ সালে আমি বিনোদপুর হাইস্কুলে দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। ১৯৭১ সালে আমার পিতা জীবিত ছিলেন না। ১৯৭১ সালে ৬ অক্টোবর প্রত্যুষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য এবং রাজাকাররা দাশিকারী, কবিরাজ টোলা, চামাটোলা, এরাদত বিশ্বাসের টোলা গ্রামগুলো চারদিক থেকে ঘেরাও করে শেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তখন আমি আনুমানিক সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাড়ি থেকে পালিয়ে ভারতের সীমান্ত এলাকা জমিনপুরে চলে যাই। সেখানে অবস্থানকালে মাঝেমধ্যে মাকে দেখার জন্য গ্রামের বাড়িতে আসতাম। ১৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মাকে দেখার জন্য যখন আমি বাড়িতে এসে বাড়ির পেছনে কাজ করছিলাম তখন আমাদের পাড়ারই একটি ছোট মেয়ে নাম গেন্দি আমাকে এসে বলে “ভাইয়া তারাতারি পালাও”। রাজাকাররা কবিরাজ টোলায় চলে এসেছে।

সাক্ষী বলেন, এর পর কিছুদূর এগিয়ে একটি বাঁশ ঝাড়ের কাছে গিয়ে দেখতে পাই রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা সারিবদ্ধভাবে কবিরাজ টোলা গ্রামে বিলাত আলীর বাড়ির দিকে যাচ্ছে। রাজাকারদের মধ্যে আমি হবু রাজাকার, রাজাকার কমান্ডার মোয়াজ্জেম, আসামি মাহিদুর এবং চুটুকে চিনতে পারি। তখন আমি সেখান থাকা আমার জন্য নিরাপদ মনে না করে সেখান থেকে পালিয়ে জমিনুরের উদ্দেশে রওনা হই। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখতে পাই বিলাত আলীর বাড়িতে আগুন জ্বলছে। জমিনপুর পৌঁছেও আমি বিলাত আলীর বড়ি থেকে আগুনের ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছিলাম।

সাক্ষী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর রাজাকাররা যখন আমাদের গ্রামটি ঘেরাও করেছিল তখন তারা আমাদের এলাকার ৩৯ জনকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে আমার চাচা গোদর আলীও ছিল। লোক মারফত আমি জানতে পারি আমার চাচাসহ সেখানে ১৭/১৮ জনকে হত্যা করা হয়। বিনোদপুর হাইস্কুলে মাঠে যেতে থাকলে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় লাশ পড়ে থাকতে দেখি। অনেক লাম কুকুরে টানাটানি করছিল, তারই মধ্যে থেকে আমি আমার চাচার লাশ শনাক্ত করি। তা মশারি দিয়ে পেঁচিয়ে আমাদের নিজস্ব কবরস্তানে দাফন করি।

শীর্ষ সংবাদ:
সংসদের ৩০০ জনকে করোনা পরীক্ষার নির্দেশ         করোনা ভাইরাসে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৬৩৫ জন         অনলাইনে যোগদান করবেন পদোন্নতি পাওয়া যুগ্ম সচিবরা         রবিবার থেকে রাজধানীতে জোন ভিত্তিক লকডাউন         মিনিয়াপলিসে নিষিদ্ধ হচ্ছে পুলিশের হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরা         পাবনায় পৃথক হত্যাকাণ্ডে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার         এবার মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা         ২০ লাখ ডোজ করোনা ভেইরাসের ভ্যাকসিন প্রস্তুত ॥ ট্রাম্প         ঢাকাতেই সাড়ে ৭ লাখের বেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ॥ ইকোনমিস্ট         লন্ডনে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট         যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের স্পেশাল টিম থেকে ৫৭ কর্মকর্তার পদত্যাগ         মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ডে ৫ বাংলাদেশি         বরিশালে করোনার উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু         ফ্রান্সের অভিযানে আল কায়েদার উত্তর আফ্রিকা প্রধান নিহত         ব্লাড ক্যান্সারের ওষুধ সারাবে করোনা ভাইরাস?         করোনা ভাইরাসে ব্রাজিলে প্রতি মিনিটেই মারা যাচ্ছেন একজন         মেক্সিকোতে মাস্ক না পরায় পিটিয়ে হত্যা!         যুক্তরাজ্যের গবেষণায় উঠে এল ভারতের ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যর্থতা         হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে বিক্ষোভে সমর্থন জাস্টিন ট্রুডোর         দশ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ॥ বাজেটে করোনা মোকাবেলা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব        
//--BID Records