বাংলাদেশে অবস্থিত আলজেরিয়ার দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। রাজধানীর বারিধারায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, ইসলামী চিন্তাবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আলজেরিয়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন ক্বারি সাখাওয়াত সাখওয়াত খান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলুয়াহাব সাইদানি ১৯৬২ সালের ১৯ মার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই দিন আলজেরিয়ার অস্থায়ী সরকারের প্রেসিডেন্ট বেনইউসেফ বেনখেদ্দা ‘এভিয়ান চুক্তি’র মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যা প্রায় আট বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটায়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, এই যুদ্ধবিরতির ফলেই ৫ জুলাই ১৯৬২ সালে গণভোটের মাধ্যমে আলজেরিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে। তিনি আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট (FLN)-এর আত্মত্যাগ এবং জনগণের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, আলজেরিয়ার মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করে এবং জাতিসংঘ এটিকে উপনিবেশমুক্তির আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করে। সশস্ত্র সংগ্রাম ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ই ফ্রান্সের সঙ্গে সফল আলোচনার পথ প্রশস্ত করে।
২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “চিরন্তন গৌরব ও নবায়িত বিজয়” উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং স্বাধীনতার পর আলজেরিয়ার অবকাঠামো, অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মুক্তি আন্দোলনে আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে এবং দেশটি এখনও শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ-আলজেরিয়া সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্চ মাস দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আলজেরিয়ার বিজয় দিবস (১৯ মার্চ) এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উভয়ই স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতীক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে আলজেরিয়াই প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে।
অনুষ্ঠানের শেষে আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক উন্নয়ন জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সংহতি ও উন্নয়নের আদর্শ ধারণ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
Jahan








