ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

ঈদে ঘরমুখ যাত্রীদের লঞ্চের অগ্রীম টিকিট কাটতে কাউন্টারে ভীড়, যাত্রী চাপ বাড়লে চালু হবে স্পেশাল সার্ভিস

হাফিজুর রহমান হীরা, বরিশাল

প্রকাশিত: ২২:৩৪, ১৪ মার্চ ২০২৬

ঈদে ঘরমুখ যাত্রীদের লঞ্চের অগ্রীম টিকিট কাটতে কাউন্টারে ভীড়, যাত্রী চাপ বাড়লে চালু হবে স্পেশাল সার্ভিস

ঈদে ঘরমুখো নৌ পথের যাত্রীদের জন্য লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছে। ঢাকা - বরিশাল নৌ পথের সবগুলো বিলাস বহুল লঞ্চ কেবিনের অগ্রিম বুকিং নিচ্ছে। এতে ভোগান্তি ছাড়াই টিকিট পেয়ে খুশি যাত্রীরা। 

লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদে ঢাকা থেকে বরিশালগামী লঞ্চগুলোর প্রায় শতভাগ টিকিট ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। এদিকে নৌ পথে ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। 

পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল নৌ পথের জৌলুশ কমেছে। বিলাশবহুল সব লঞ্চ থাকলেও কমেছে যাত্রী চাপ। পাল্টে গেছে ঢাকা-বরিশাল রুটে নৌ পথের চিরচেনা রূপ।

তবে ঈদ সহ যে কোন উৎসবে সে চিত্র কিছুটা পাল্টায়। চাহিদা বাড়ে লঞ্চ কেবিনের। সে লক্ষ্যে এবারো ঢাকা – বরিশাল নৌ পথের সবগুলো বিলাস বহুল লঞ্চগুলোর কেবিনের অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছে। তবে চালু করার ২ দিনের মধ্যেই ঢাকা থেকে বরিশালগামী লঞ্চ গুলোর প্রায় শতভাগ কেবিন বুকিং হয়েছে বলে জানান লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ঈদের ছুটি শেষে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বেশ কয়েকটি লঞ্চের প্রায় ৭০ শতাংশ কেবিন বুকিং হয়েছে বলেও জানান তারা। 

ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটের সুন্দরবন নেভিগনেশন কোম্পানীর ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, ঢাকা থেকে আসা যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত লঞ্চ রাখা হয়েছে।  যদি অতিরিক্ত ভীড় পরিলক্ষিত হয় তাহলে লঞ্চের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। 

এম ভি আওলাদ ১০ লঞ্চের ম্যানেজর অভিজিৎ জানান, ঈদ যাত্রার জন্য লঞ্চের টিকিট ১৬ তারিখ পর্যন্ত সেল শেষ হয়েছে। ১৮ তারিখেরটাও সেল ফুল হয়েছে। আর ১৯ তারিখের জন্য কিছু খালি আছে। 

সড়ক পথের চেয়ে নৌ পথ আরামদায়ক হওয়ায় অনেকেই ভিড় করছেন লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে। ঈদের ৮-১০ দিন আগেই কেবিনের টিকেট অগ্রিম বুকিং চালু করায় ভোগান্তি কমেছে বলে জানান যাত্রীরা। আর ভোগান্তি ছাড়াই টিকিট পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।  

ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটের যাত্রী সোহন জানান, যাত্রীরা ভীড়ের মধ্যে একটু নিরিবিলি স্বচ্ছন্দে আসতে চায়। এজন্যই আমরা টিকিট কাটতে এসেছি আর টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে। 

আনেক যাত্রীর স্বজন আমিনুল ইসলাম জানান, আমার পরিবারের লেকজন ঈদ করতে ঢাকা থেকে বরিশালে আসবে। এজন্য অগ্রীম টিকিট নিতে এসেছি। 

এদিকে নৌ পথে ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে গ্রহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বি আই ডব্লিউটিএ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় থাকবে বাড়তি ব্যবস্থা। যাত্রী চাপ বাড়লে লঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়ে স্পেশাল টিপ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিআই ডব্লিউ টি এর এই কর্মকর্তা।  

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ'র কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান,বরিশাল ও ঢাকা রুটে আমাদের ১৬ টি লঞ্চ রয়েছে। সবগুলো লঞ্চই প্রস্তুত রয়েছে। ঘরমুখ যাত্রীরা যাতে নিবিঘ্নে ঈদ উদযাপনের জন্য আসতে পারে সেলক্ষে সব সমব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে স্পেশাল সার্ভিস চালু করা হবে। 

ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সেবায় ১৬ টি লঞ্চ চলাচল করবে। এবং অভ্যন্তরীন রুটে প্রায় ৩০ টি লঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

 

রাজু

×