ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা সিলেটের বিশ্বনাথে দখল ও দূষণের চাপে ক্রমেই অস্তিত্ব হারাচ্ছে এক সময়ের প্রবহমান বাসিয়া নদী। নদীতে ফেলা ময়লা-আবর্জনার উদ্ভট দুর্গন্ধ জনজীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। একসময়ের খরস্রোতা নদী এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী নদী বাসিয়া সুরমা নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর ও জগন্নাথপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুশিয়ারা নদীতে মিশেছে। প্রায় ৪৪-৫৬ কিমি দীর্ঘ এবং একসময়ে ২০০ ফুট প্রস্থের এই নদীটি বর্তমানে অবৈধ দখল, দূষণ ও আবর্জনার কারণে সরু মরা খালে পরিণত হয়েছে।
সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার সংলগ্ন সুরমা নদী থেকে এই নদীর উৎপত্তি। এরপর এটি দক্ষিণ সুরমার কামাল বাজার, লালাবাজার, বিশ্বনাথ উপজেলার বুক চিরে এবং ওসমানীনগর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার খৈকা এলাকায় কুশিয়ারা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
অথচ বাসিয়া নদী এক সময় পাল তোলা নৌকা চলত, ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। কিন্তু বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা, দখল ও দূষণের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম ছাড়া অধিকাংশ সময়ই নদীর বুক শুকনো থাকে। এ যেন দীর্ঘ হাহাকারের প্রতিচ্ছবি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর উৎসমুখ বন্ধ এবং বিশ্বনাথ বাজার, কালিগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ও নদীতীরের এলাকায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কোথাও ময়লা ফেলে তীর ভরাট করা হয়েছে, আবার কোথাও স্থাপনা ও গাছ লাগিয়ে দখল পোক্ত করা হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
নদীর দুই পাড়ের দখল টিকিয়ে রাখতে দখলদাররা একটি রিট মামলার আড়ালে নদী রক্ষার কার্যক্রম থামিয়ে রেখেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নদীর পরিধি সংকুচিত হচ্ছে। সচেতন মহল দ্রুত দখল উচ্ছেদ, দূষণ বন্ধ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, নদী খনন ও দখল উচ্ছেদ জরুরি। ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলার কারণে দুর্গন্ধের সঙ্গে মানুষের চলাফেরা কষ্টকর হচ্ছে, এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, বাসিয়া নদীর এই দুরবস্থা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের জীবনযাত্রার জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। তাই তারা চাচ্ছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নদীর দুই পাড়ের দখল উচ্ছেদ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও খনন সম্পন্ন করা দরকার। প্রশাসনের সহযোগিতায় নদীটি আবারও তার প্রাণ ফিরে পায় এ দাবি তাদের দীর্ঘদিনের।
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম রুবি জানান, নদী খননের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত খনন কাজ শুরু হতে পারে। এছাড়া ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরির কাজ চলছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, খননের কাজ প্রক্রিয়াধীন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় যদি অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা যায়, তবে খনন পুরোপুরি সফল হবে।
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, নদীর দুই পাড়ের অবৈধ দখল উদ্ধারে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দখলদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া ময়লা-আবর্জনা নদীতে না ফেলার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং চলাচলের সুবিধার জন্য বিশ্বনাথে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এম.কে








