ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১

যানবাহনের চাপ বাবুবাজারে

পোস্তগোলা সেতুর সংস্কার শুরু ॥ দীর্ঘ যানজট

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:১৪, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

পোস্তগোলা সেতুর সংস্কার শুরু ॥ দীর্ঘ যানজট

পোস্তগোলা সেতুর সংস্কার কাজ চলছে

সংস্কারকাজের জন্য পোস্তগোলার বুড়িগঙ্গা-১ সেতুতে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প সড়ক বাবুবাজার সেতুতে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এর প্রভাবে রাজধানীর গুলিস্তানসহ ঢাকার প্রবেশমুখে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। 
মেরামতের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পোস্তগোলা ব্রিজে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, কভার্ড ভ্যান, কনটেনারবাহী লরিসহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ভারী যান চলাচল আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। 
তবে সেতুর এক পাশ দিয়ে  মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও অটোরিক্সাসহ হালকা যানবহন চলাচল করছে। কিন্তু আগামী ২৪ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ১, ৪ ও ৮ মার্চ মোট পাঁচদিন এই হালকা যানবাহন চলাচলও বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।  
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পদ্মা সেতুমুখী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানসহ ভারী যানবাহন বিকল্প রাস্তায় চলাচল করছে। এর ফলে বাবুবাজার সেতুর প্রবেশমুখে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ জটলা। সকাল থেকে এই পথে চলাচল করা অতিরিক্ত গাড়ির চাপে গুলিস্তান থেকে বাবুবাজারমুখী সড়কে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। পোস্তগোলা সেতু বন্ধ থাকায় ঢাকাসহ ২১ জেলার যানবাহন এই পথে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

বাবুবাজার সেতুর প্রবেশমুখে যাতে যানবাহনের জটলা তৈরি না হয়, সেজন্য ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া সেতুতে সকল প্রকার রিক্সা, ভ্যান, অটোরিক্সা, ঠেলাভ্যান, থ্রি-হুইলার, প্রতিবন্ধী অটোরিক্সা সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। 
সুরুজ মিয়া নামের এক ভ্যানচালক জানান, বাবুবাজার সেতু ব্যবহার করে নিয়মিত কাপ্তান বাজার থেকে মুরগি নিয়ে চুনকুটিয়া চৌরাস্তায় যাতায়াত করেন তিনি। 
‘প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও মুরগিভর্তি ভ্যান নিয়ে তিনি বাবুবাজার সেতুতে উঠতে গেলে তাকে বাধা দেয় ট্রাফিক পুলিশ। এখন যদি মুরগি নিয়ে সময়মতো না যেতে পারেন, তাহলে সব মুরগি মারা যাবে বলে আশঙ্কা তার। এতে অন্তত দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হবে।’
কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা অটোরিক্সাচালক সবুজ জানান, ভোরে কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় অটোরিক্সা নিয়ে প্রবেশ করতে পারলেও এখন আবার ফেরত যেতে পারছেন না। ট্রাফিকের কাছে অনেক অনুরোধ করেও তিনি যেতে পারছেন না। সেতু ব্যবহার করতে পারবেন নাÑ এমন কোনো সংবাদ তিনি আগে থেকে জানতেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বাবুবাজার সেতু দিয়ে অটোরিক্সা-ভ্যান চলাচল না করায় অনেককেই হেঁটে সেতু পার হতে দেখা গেছে। মিলন নামে এক পথচারী বলেন, ‘সেতুতে অনেক জ্যাম তাই বাসে ওঠেননি। এদিকে ভ্যান-রিক্সাও চলাচল করছে না, তাই পায়ে হেঁটেই চলে এসেছেন নয়াবাজার।’ 
কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক পীযুষ কুমার দে জানান, বাবুবাজার ব্রিজে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যানবাহনের চাপ বেশি। তাই সেতুর যানজট নিরসনে কাজ করা হচ্ছে। যেহেতু আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত পোস্তগোলা সেতুর সংস্কারকাজ চলবে, তাই বাবুবাজার সেতুর দুই পাশেই বাড়তি ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেতুতে সকল ধরনের রিক্সা-ভ্যান এই পথে আপাতত চলাচল নিষেধ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত তিনদিন ধরে এখানে মাইকিং করা হচ্ছে। তবে জরুরি প্রয়োজন অনুসারে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতাও করা হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে।  
সওজ থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংস্কারকাজ চলার পুরো সময়ে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান, কনটেনারবাহী লরি চলাচল বন্ধ থাকবে সেতুতে। এ সময় এসব যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করবে। আর ২৪, ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ১, ৪ ও ৮ মার্চ বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও অটোরিক্সা চলতে পারবে না সেতুতে। এ ছাড়া পোস্তগোলা সেতু সংস্কারের সময় বাড়তি যানজট মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগসহ সাতটি সংস্থার প্রতিনিধিরা ডিএমপি সদর দপ্তরে বৈঠকও করেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, বিকল্প সড়কের কোনটি ধরে বাস ও ভারী যানবাহন চলবে এবং কোন সড়ক ধরে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চলবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা ভারী যানবাহন দোলাইরপাড় বাসস্ট্যান্ড ও বাবুবাজার সেতু ব্যবহার করে তেঘরিয়া ইন্টারসেকশন হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে প্রবেশ করবে।
আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক থেকে যাত্রাবাড়ীগামী ভারী যানবাহন তেঘরিয়া ইন্টারসেকশন থেকে বাবুবাজার সেতু, দোলাইরপাড় হয়ে যাত্রাবাড়ী যাবে। গাবতলী থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে যাতায়াত করবে। পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহন চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিঘাট হয়ে যাতায়াত করবে। উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাতায়াত করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু হয়ে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামমুখী যানবাহন শ্রীনগর থেকে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু, নারায়ণগঞ্জের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু, মদনপুর হয়ে যাবে। সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন মদনপুর থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু, মুক্তারপুর সেতু, শ্রীনগর হয়ে যাতায়াত করবে। আর পদ্মা সেতু থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে শ্রীনগর-দোহার-নবাবগঞ্জ, কেরানীরগঞ্জ-রোহিতপুর, কোনাখোলাবাজার এবং বছিলা সেতু হয়ে মোহাম্মদপুর দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে।

×