ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০

ক্ষমা চাইলেন ব্যারিস্টার সুমন 

নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৫১, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ক্ষমা চাইলেন ব্যারিস্টার সুমন 

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, এমপি।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্করকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এমপি দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
 
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোগাউড়া হাজ্বী আব্দুল হান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ১০ গ্রামবাসীর মতবিনিময় সভায় এ তথ্য প্রকাশ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর। সভায় তিনি জানান, বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এমপি ব্যারিস্টার সুমন তার সঙ্গে একাধিক স্থানে দেখা করে মানহানিকর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।
 
সম্প্রতি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্করকে নিয়ে সিলেটের জগন্নাথপুর ফুটবল খেলার মাঠের অনুষ্ঠানে এমপি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন মন্তব্য করেন। মন্তব্যে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমার একজন মামা আসলা, তাইন ওয়াজ হইলেই ইমাম সাবে কইন তাইন দিবা (উপজেলা চেয়ারম্যান) ৫ হাজার টেকা। পরের বছর যখন ওয়াজ হয়, তখন আমি জিগাই মানুষ যে টেকা লেখাইছিল, কার টেকা কত বাকি রইছে। কয় কাদির মামুর তাইন এখনও দিছৈন না। এর লাইগ্যা আমার বিশ্বাস হারাই লাইছি।’ ব্যারিস্টার সুমনের এই মন্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়। আর এতে উপজেলাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা ফুসে উঠেন। শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। এমপির এমন মন্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর মর্মাহত হলে তৃণমূল জনগণের উদ্যোগে সভা আহবান করা হয়। 

সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর বলেন, ‘আমি ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলীয় প্রতীকে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর নির্বাচন পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব পালন করেছি। এখানে আমি দলের বাহিরে গিয়ে কারো পক্ষে কাজ করতে পারি না। একই সঙ্গে আমার ভাগ্নে ব্যারিস্টার সুমন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন।’
 
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন প্রচারণাকালীন মজার ছলে আমাকে নিয়ে ভাগ্নে ব্যারিস্টার সুমন নানা ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য করলেও আমি তাতে কর্ণপাত করিনি। এবার এমপি ব্যারিস্টার সুমন খেলার মাঠের অনুষ্ঠানে গিয়ে আমাকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করায় আমি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। এ নিয়ে সচেতন লোকেরা ফুসে উঠায় ব্যারিস্টার সুমনের অনুশোচনা হয়। সে (সুমন) আমার কাছে দেখা করে খেলার মাঠের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে। তাই আমার মন থেকে দুঃখ ভুলে গিয়ে এলাকার উন্নয়নে এক সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে চাই।’
 
গোগাউড়া গ্রামের মুরুব্বি আব্দুল বাছির পনির মিয়া তালুকদারের সভাপতিত্বে গ্রামবাসীর সভায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর। মীর সায়েব আলী মেম্বার ও সাবেক কাউন্সিলর বজলুর রশিদের যৌথ পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- লতিবপুর গ্রামের মুরুব্বি শফিকুল হক তালুকদার, বাগবাড়ি গ্রামের মুরুব্বি আব্দুল জাহির, গোগাউড়া গ্রামের মুরুব্বি আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, পৌর কাউন্সিলর মর্তুজ সরদার, পৌর কাউন্সিলর আব্দুল হান্নানসহ শাইলগাছ, নুর মোহাম্মদপুর, লতিবপুর, হবিবপুর, নরপতি, বড়াইল, মমিনপুর, গোগাউড়া, হাঁসারগাঁও, চৌপট নিয়ে ১০ গ্রামের লোকজন। 

এম হাসান

×