ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

অচল রয়েছে আরও ৫০ কেন্দ্র, ১৫ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ১২ হাজার

বন্ধ হলো পায়রা ॥ দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: ২২:৫০, ৫ জুন ২০২৩

বন্ধ হলো পায়রা ॥ দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র

শতভাগ বিদ্যুতায়নের তকমা নিয়ে যখন বিশ্বে সদর্প অবস্থান তখনই যেন ভেঙে পড়তে যাচ্ছে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ডলার সংকটে কয়লা আমদানি করতে না পারায় উৎপাদনে আসার পর সোমবার প্রথম বারের মতো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল দেশের সবচেয়ে বড় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রার উৎপাদন। শুধু পায়রাই নয়, জ্বালানি সংকটে বন্ধ রয়েছে দেশের আরও অন্তত ৫০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে করে তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা যখন ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াচ্ছে তখন উৎপাদন হচ্ছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো। এতে করে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন।

এই লোডশেডিংয়ে মানুষজনের দুর্ভোগের জন্য খোদ প্রধানমন্ত্রীসহ বিদ্যুৎ বিভাগও করেছে দুঃখপ্রকাশ। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুতের জন্য নেওয়া মহাপরিকল্পনা এভাবে ভেঙে পড়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে। রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে কেন বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।
মোট চাহিদা ও উৎপাদন ॥ মধ্য জ্যৈষ্ঠে দেশের বিভিন্ন এলাকার তাপমাত্রার পারদ যখন ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করলেও অনুভূত হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ ডিগ্রি পর্যন্ত। এমন অবস্থায় সোমবার দুপুরের পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা গিয়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত। এর প্রেক্ষিতে উৎপাদন হয় মাত্র ১২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে সারাদেশে লোডশেডিং করতে হয় ২ হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর তথ্যমতে, এই উৎপাদিত বিদ্যুতে গ্যাসের মধ্যে গ্যাস দিয়ে উৎপাদন হয় ৬ হাজার ৯০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে তখন উৎপাদিত হয় মাত্র ২ হাজার ৪৪২ মেগাওয়াট, কয়লা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ মাত্র ১ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। এ সময় হাউড্রো থেকে উৎপাদিত হয় ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এছাড়া সোলার থেকে পাওয়া যায় ৪৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর ভেড়ামারা এবং ত্রিপুরা থেকে আসে আরও ১৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এমন পরিস্থিতি গত প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ চলছেই। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে পল্লী অঞ্চলগুলোতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা করে পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। 
বন্ধ হলো পায়রার উৎপাদন ॥ কয়লা সংকটের কারণে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধানখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটি সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত ২৫ মে একই কারণে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায় বলে জানায় কেন্দ্রটির তত্ত্বাবধায়ক শাহ আব্দুল হাসিব। ঠিক কত দিনের মধ্যে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা সম্ভব এ বিষয়ে কোনো পক্ষ নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দাবি করেন, ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কয়লা আসলে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু হতে পারে।

জানা যায়, কেন্দ্রটির বিল বকেয়া পড়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সময়মতো ডলার ছাড় করতে রাজি না হওয়ায়ই এই সংকট তৈরি হয়েছে দাবি করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মাসে চীনা বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে সংকট আসন্ন আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংক তৎপর হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। 
বন্ধ রয়েছে আরও ৫০ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ॥ জ্বালানি সংকটে বড় পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলছে অর্ধেক সক্ষমতায়, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসলেও কয়লা সংকটে এটিও যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পিডিবি জানিয়েছে, দেশে চালু মোট ১৪৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে জ্বালানি সংকটে বন্ধ রয়েছে অন্তত ৫০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে করেই লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বেড়েছে। এ বিষয়ে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম সাংবাদিকের বলেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ডলার সরবরাহের চেষ্টা করছে। এ মাসের মধ্যেই ১০ কোটি ডলার ব্যবস্থা করার আশ্বাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাওয়া গেছে। এটি দিয়ে কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে রাজি করানো হচ্ছে। এতে তারা নতুন করে কয়লা সরবরাহ শুরু করতে পারে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কয়লা আসতে অন্তত ২৫ দিন সময় লাগতে পারে। সেই হিসেবে জুনের শেষ সপ্তাহে আবার পায়রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।
বাড়বে আরও লোডশেডিং ॥ চলমান লোডশেডিংয়ের তীব্র পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ থেকে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা আরও বাড়বে। দৈনিক প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের সঙ্গে পায়রা থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও যোগ হবে। এতে করে চলমান তাপপ্রবাহে লোডশেডিংয়ের সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, বিদ্যুতের জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বলা হয়েছিল ২০২০ সালে বিদ্যুতের চাহিদা ৩০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ফলে ব্যাঙের ছাতার মতো বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র। কিন্তু চাহিদা ২০ হাজার মোগওয়াটও এখন পর্যন্ত হয়নি। তারপরও এই অবস্থা। এমন ভঙ্গুর পরিকল্পনা তাহলে কার স্বার্থে? যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে তাদের এখন উৎপাদনে নিয়ে আসা হচ্ছে না কেন? সংকটে তাদের কাজটা কি তাহলে? এক শ্রেণির মানুষের স্বার্থ রক্ষার্থে সাধারণ মানুষ কষ্ট পাবে এটা তো মানা যায় না।
উৎপাদন বাড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা ॥ পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলেও উৎপাদন যেন না কমে সে বিষয়ে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ জন্য পুরো মাসকে তিন ভাগে ভাগ করেছে। এর মধ্যে আজকে (মঙ্গলবার) থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত উৎপাদন যাতে না কমে সেজন্য তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ১৪ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত এলএনজির নতুন শিপমেন্ট আসলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো হবে। এছাড়াও এর মধ্যে আদানি থেকে বর্ধিত বিদ্যুৎ আসবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এছাড়া এস আলমের বিদ্যুৎ কেন্দ্রও দুই একদিনের মধ্যে চালু হওয়ার আশা রয়েছে জানিয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন জনকণ্ঠকে বলেন, এই কেন্দ্র থেকে ৩ থেকে ৪শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে পারি আমরা। একইভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির আসন্ন শিপমেন্টগুলো নির্ধারিত তারিখের আগেই দেশে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) ফার্নেস অয়েল আমদানি বাড়াতে পারবে। এতে করে আমাদের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। আমরা চাচ্ছি পায়রা বন্ধ হয়ে গেলেও আমাদের উৎপাদন যাতে না কমে।

সেক্ষেত্রে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে। তবে তা শিল্পকারখানায় সরবরাহ কমিয়ে বা আবাসিক খাতে সরবরাহ কমিয়ে নয়। বরং নতুন আমদানি করা এলএনজি দিয়ে। সব মিলিয়ে ২৩ তারিখের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কারণ ওই সময়ই পায়রা পুনরায় উৎপাদনে ফিরে আসবে বলে আশা করছি। 
জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে ॥ গত সপ্তাহের রবিবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন দক্ষিণ বনশ্রীর বাসিন্দা রুম্পা বেগম। শুক্রবার নবজাতকসহ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাসায় ফিরেন তিনি। কিন্তু তখনই শুরু হয় বিপত্তি। বহুতল ভবনের সবচেয়ে উপরের ফ্ল্যাটে লোডশেডিং আর গরমে নিজের তো হাঁসফাঁস অবস্থাই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে শিশু সন্তানটি ঘেমে ভিজে একাকার। চার্জার ফ্যান কিনে নিয়ে আসলে বিদ্যুতের অভাবে তা চার্জই দিতে পারেন না।

এতে করে ৬ দিনের মাথায় আবারও শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বললে নিউমোনিয়া সন্দেহে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়। তাই স্বামী-স্ত্রী মিলে নবজাতককে ভর্তি করাতে নিয়ে এসেছেন রাজধানীর শিশু হাসপাতালে। ক্ষোভ আর দুঃখে রুম্পা বলেন, দেশে নাকি বিদ্যুৎ ফেরি করে বিক্রি করে? তাহলে আমরা পাই না কেন? আমার শিশু সন্তানটির কি অপরাধ? জন্মের পরপরই তাকে এ দুর্বিষহ সময়ের মধ্যে কেন যেতে হবে?
একই প্রশ্ন রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যালে বয়স্ক বাবাকে ভর্তি করাতে নিয়ে আসা শর্মী রায়ের। বলেন, আমরা নিজেরা দিনের বেলায় অফিসে থাকি এসির মধ্যে। কিন্তু বাসায় বাবা-মা থাকেন এসি ছাড়াই। এসি কিনব সে সামর্থ্য তো  নেই। আর কিনলেই বা এটি চলবে কি দিয়ে? বাসায় তো এখন বিদ্যুৎ থাকে না মাঝে মাঝে আসে।
শুধু শর্মী বা রুম্পাই নন রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকার মানুষের কণ্ঠে লোডশেডিংয়ের তীব্রতায় ক্ষোভ ঝরে পড়ছে। রাজধানীর ইস্কাটন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আক্কাস মাহমুদ বলেন, কোনো মাসে তো বিদ্যুতের বিলের এক টাকা বকেয়া রাখি না। তাহলে আমাকে কেন বিদ্যুৎহীন থাকতে হবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা?
ভয়াবহ রাজধানীর বাইরের চিত্র ॥ রাজধানীতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হলেও রাজধানীর বাইরের মানুষজনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে গত প্রায় এক মাস যাবত। গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তে থাকে লোডশেডিং। যা সাম্প্রতিক সময়ে সহ্যের বাইরে চলে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে হবিগঞ্জের গার্নিং পার্ক এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ দাশ বলেন, এমন গরম তো কোনো বছর দেখিনি। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের যে মহাপরিকল্পনা ছিল তা কোথায় গেল? কয়দিনের গরমে এমন ভঙ্গুর অবস্থা হয়ে গেল? তাহলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের খেতাব মাথায় নিয়ে কি করব?
এদিকে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের প্রভাবে নাজেহাল অবস্থায় পটুয়াখালী অঞ্চলের বাসিন্দাদের। পটুয়াখালী প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে জানা যায়, জেলার ৮ উপজেলায় প্রচ- গরমে মাঝে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ হাঁসফাঁস করছেন। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় আছে খেটে খাওয়া মানুষ, বয়স্ক ও শিশুরা। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আগে প্রত্যেক এলাকায় গড়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হলেও দ্বিতীয় ইউনিটটি বন্ধের পর তা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় দাঁড়ায়। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (টেকনিক্যাল) প্রকৌশলী মো. হাসানুল বান্না জানান, পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দিনে গড়ে ৮৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৬০ ভাগ পান। তার মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পায়রা বন্দরসহ বরফকলগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। তাতে দিনে সাধারণ মানুষ হয়তো কম বিদ্যুৎ পায়। আর রাতে ১১৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তাও চাহিদার তুলনায় কম। 
একই পরিস্থিতি বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকার।

×