ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

ককটেল, জিহাদী বই ও লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার

মহাসড়কে ভাংচুর:  জামায়াত-শিবিরের ২০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর 

প্রকাশিত: ২১:৫৭, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

মহাসড়কে ভাংচুর:  জামায়াত-শিবিরের ২০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

জামায়াত-শিবিরের গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মী 

গাজীপুরে জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্র শিবিরের ২০জন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে বেশকিছু ককটেল, লাঠিসোটা, চাঁদা আদায়ের রশিদ বই, ব্যানারসহ উগ্রপন্থি ও জিহাদী বই এবং বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। 

মঙ্গলবার ( ৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জিএমপি’র উপ-কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) আবু তোরাব মোঃ শামছুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, মহানগরীর ভোগড়া বাসনসড়ক এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ী ভাংচুর ও ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকালে তাদের আটক করা হয়। 

জিএমপি’র ওই কর্মকর্তা জানান, সোমবার মহানগরীর বাসন থানাধীন ভোগড়া বাসনসড়ক এলাকায় রিয়াদ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিকের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি ভাংচুর করতে থাকে জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা। 

এসময় তারা ককটেল ফাটাইয়া জনমনে আতংক সৃষ্টি করে। জামায়েত ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমিরসহ গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের ইস্যূকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে অন্তর্ঘাত মূলক ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচিত সরকারকে পতন করার লক্ষ্যে তারা এ ঘটনা ঘটায়। 

এ খবর পেয়ে জিএমপি’র বাসন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসলামি ছাত্র শিবিরের ১৯ জন নেতা-কর্মীকে সেখান হতে হাতেনাতে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫টি তাজা ককটেল, বেশ কয়েকটি বাঁশের লাঠি, ব্যানারসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করে। 

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নলজানীর গ্রেটওয়াল সিটি এলাকার আব্দুল আউয়ালের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতা মেহেদী হাসানকে (২৬) আটক করে। এসময় মেহেদীর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে জামায়াতে ইসলামীর গঠণতন্ত্রের বই, চাঁদা আদায়ের রশিদ বই ও ব্যক্তিগত রিপোর্ট বইসহ বেশ কিছু জিহাদী বই ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

গ্রেফতারকৃতরা হলো- ফেনীর মোমারিজপুর এলাকার মেহেদী হাসান (২৬), ভোলা জেলার আমিরুল ইসলাম আফনান (১৮), জিন্নাহ (১৯) ও আতাউল্লাহ আফফান (১৮), গাজীপুর জেলার জায়েদ (১৯), মুজাহীদ হাসান (১৮), রকিব (১৬), নাঈম (১৬) ও খালেদ বীন হোসাইন (১৯), ময়মনসিংহ জেলার মেহেদী হাসান (১৯), আলী আজগর (১৬) ও ইয়াসিন আরাফাত (১৮), নরসিংদীর মোবাশ্বির ইমাম (১৯), নেত্রকোনার রাজু খান (১৮), নোয়াখালীর মেহেদী হাসান (১৯), কুমিল্লার জাবায়ের হোসেন (১৮), যশোরের রাইসুল ইসলাম ওরফে মেহেদী (১৯), চট্রগ্রামের সাদেকুল ইসলাম (১৮), শরিয়তপুরের তাওহীদ (১৬) এবং লক্ষীপুর জেলার মজিবুর রহমান (২৫)। তারা সবাই গাজীপুর ও আশেপাশের এলাকায় বসবাস করে আসছিল। 

 

এমএস

সম্পর্কিত বিষয়:

×