৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বিদ্যুত ব্যবস্থা সহজলভ্য করতেই দাম বাড়ানো হয়েছে ॥ কাদের

প্রকাশিত : ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চব্বিশ ঘণ্টা বিদ্যুত সুবিধা পেতে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিদ্যুতের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য মূল্য কিছুটা বাড়ানো হচ্ছে। বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় এবং উৎপাদন খরচ মিলিয়ে বিদ্যুত ব্যবস্থাকে সহজলভ্য করার জন্য বিদ্যুতের দাম পাঁচ থেকে আট টাকা বাড়ানো হচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হাতিরপুলের শহীদ সেলিম-দেলোয়ার স্মৃতি পরিষদের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মুজিববর্ষের উৎসব ভারতকে বাদ দিয়ে করা যায় না। ভারতের দিল্লীতে তাদের (ভারত) অভ্যন্তরীণ সঙ্কট চলছে। একথা সত্য পাশের ঘরে আগুন লাগলে সে আগুনের আঁচ প্রতিবেশীর ঘরে আসে। সেটা আমরা অবশ্যই বলব। আমাদের যারা প্রতিবেশী, ভারত আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু। ভারতের সঙ্গে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক বিরাজ করছে। আমরা ভারত সরকারকে বলব, দিল্লীতে যে সঙ্কট চলছে, যে রক্তপাত এটা আর না বাড়িয়ে নিজেদের সমস্যা অতিদ্রুত সমাধান করে নেবেন।

ভারতে চলমান সঙ্কট প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, একাত্তর সালের রক্তের যে সম্পর্ক, সেই বন্ধুত্বকে বিসর্জন দিতে পারি না। আজকে মুজিববর্ষে মুজিব উৎসব পালিত হবে। এই উৎসবে ভারতকে আমরা বাদ দিলে, ভারতকে আমন্ত্রণ যদি না করি- এটা হবে অকৃতজ্ঞতা। এটা বন্ধুত্বের প্রতি অবমাননা হবে। কারণ বাংলাদেশের এই স্বাধীনতায় বিদেশী সাহায্য সহানুভূতি, মুক্তিযুদ্ধের সময় আশ্রয়-প্রশ্রয়, দেশ গঠনের অবদান অন্য কোন দেশ দেয়নি।

তিনি বলেন, দুঃসময়ের বন্ধুদের বাদ দিয়ে মুজিববর্ষ আমরা পালন করিতে পারি না। কাজেই মুজিববর্ষের উৎসবে ভারত যেমন প্রতিনিধিত্ব করবে এটা যেমন স্বাভাবিক বিষয়, তেমনি অভ্যন্তরীণ সঙ্কটে যদি কোন রক্তপাত হয় সেটা নিয়ে ভারত দ্রুত আলোচনা করে যেন সমাধান করে। এই ব্যাপারে আমরা নতুন দিল্লী সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির আমলে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন বিদ্যুত থাকত না। আজকে বিদ্যুত ও পানির সেবা পেতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না। শেখ হাসিনার আমলে এই শহরে পানি আর বিদ্যুতের হাহাকার নেই, এই হাহাকার যেন আর কখনও না হয়। এই পানি-বিদ্যুতের সরবরাহ যাতে অব্যাহত থাকে। এখন দেশের ৯৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুত সুবিধা পাচ্ছে। এই মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার অঙ্গীকার শতভাগ মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুত সুবিধা পৌঁছে দেয়ার।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করার জন্যই উৎপাদন খরচ মিলিয়ে বিদ্যুত ব্যবস্থাকে সহজলভ্য করার জন্য বিদ্যুতের দাম পাঁচ থেকে আট টাকা বাড়ানো হয়েছে। এটা সাময়িক, এটা একশত ভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুত পৌঁছানোর জন্য সাময়িক একটু কষ্ট হবে। এর পরেও সরকারকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বিদ্যুতের জন্য ভর্তুকি দিতে হবে।

চব্বিশ ঘণ্টা বিদ্যুত সুবিধা পেতে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের ভর্তুকি কমানো এবং উৎপাদন খরচ মিটানোর জন্য সাময়িকভাবে এই দুর্ভোগটা আমি আশা করি দেশের জনগণ মেনে নেবেন। আপনাদের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান, সঙ্কটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য সাময়িক এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সাময়িক এই মূল্য বৃদ্ধি আপনারা মেনে নেবেন আপনাদের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের ঘরে ঘরে বিদ্যুত আরও সহজলভ্য করার জন্য একটু মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে। আমি আশাকরি ঢাকাবাসী এটা মেনে নেবেন। এতে করে বিদ্যুতের সরবরাহ ঘাটতি হবে না, বিদ্যুত সরবরাহ ২৪ ঘণ্টা চলবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার পক্ষ থেকে আমাদের আহ্বান, আশাকরি এতে আপনারা ভাল থাকবেন।

শহীদ সেলিম-দেলোয়ার স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ডাঃ আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদারসহ আয়োজক নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে শহীদ সেলিম- দেলোয়ারের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকাশিত : ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২৯/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: