৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

এক ফেব্রুয়ারি বোঝা যাবে গণজোয়ার ধানের শীষের নাকি নৌকার

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০২০
  • ব্রিফিংয়ে কাদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপিকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ বিরোধী দল মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এখন নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। সারাদেশে ধানের শীষের গণজোয়ারের কথা বলা হলেও তা একটি দিবাস্বপ্ন। আগামী এক ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বোঝা যাবে, গণজোয়ার ধানের শীষের নাকি নৌকার? নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা (বিএনপি) কারচুপির অভিযোগ করবে, এটি তাদের পুরনো অভ্যাস।

সোমবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সমসাময়িত ইস্যুতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় চলমান রাজনীতি, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, নিজ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

পৃথিবীর কোন উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা ক্যাম্পেন করতে পারে না- এ রকম বিধান নেই এ কথা জানিয়ে কাদের বলেন, আমাদের এখানে এটা কেন হলো তা তো জানি না। তারা (নির্বাচন কমিশন) এটা কেনই বা রাখছেন তাও জানি না।

সারাদেশে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অপেক্ষা করুন। এক ফেব্রুয়ারি আসতে বেশি দেরি নেই। সেদিন বোঝা যাবে ধানের শীষ নাকি নৌকা বেশি জনপ্রিয়।

ভোটে কারচুপি হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের এমন মন্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা আব্বাসের মনে কি আছে, তা কি আমি জানি?

সংসদের প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টি অথচ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সিটি নির্বাচনে তাদের প্রার্থী নিয়ে কোন মন্তব্য বা বক্তব্য নেই, তাহলে কি তাদের প্রার্থীকে আমলে নেয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পোস্টার রাস্তা ঘাটে দেখেছি। অনেক সুন্দর চেহারার, দামী পোশাক পরা প্রার্থীর পোস্টার আমি দেখি। তবে কথাবার্তা কখন-কোথায় বলেন, তাতো দেখি বা শুনি না। তাহলে হয়তো সাংবাদিকরাই তার কথা আমলে নেন না, সংবাদ করেন না।

সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হওয়ার অভিযোগতো আমার। কারণ, বিএনপির মহাসচিব সুন্দরভাবে তার দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন, আমি সে সুযোগ পাচ্ছি না। তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোথায় হলো- এটা প্রশ্ন আমার। তবে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলছেন এবং চলবেন বলে মন্তব্য করেন।

মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির ভোটকরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা তো কারও সমর্থন চাইনি। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে তারা দাঁড়িয়েছে। খুব সুন্দর পোশাক পরিহিত প্রার্থীর পোস্টারও দেখি। জাপা প্রার্থীকে মিডিয়া যদি গুরুত্ব না দেয় আমাদের তো কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, তারা (জাতীয় পার্টি) কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কোন অভিযোগ তুলেছে? আমার তো মনে হয়, না। অভিযোগ আনার মতো কিছু হয়নি।

আপনারাই তো সংসদে এ বিষয়ে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) চেঞ্জ করেছেনÑ এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংসদের কথাটা বলতে গেলে নানান কথা আসে। পৃথিবীর কোন উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা ক্যাম্পেন করতে পারে নাÑ এ রকম বিধান নেই। আমাদের এখানে এটা কেন হলো তা তো জানি না। তারা (নির্বাচন কমিশন) এটা কেনই বা রাখছেন তাও জানি না।

কাদের বলেন, ভোট চাওয়ার কোন ক্যাম্পেনেও অংশ নিতে পারছি না। আমি আমাদের নির্বাচনী অফিসগুলোতে পর্যন্ত যাইনি। আমি নিয়ম মেনে চলছি।

তাহলে কি এ আরপিও সংশোধন করবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা ভবিষ্যতে দেখা যাবে। এখন নির্বাচনটা হয়ে যাক। এখন এ নির্বাচনে এটার পরির্বতনের দাবি তুলছি না। এ বিষয়ে আপনার কি মনোকষ্ট রয়েছে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমার তো একটু কষ্ট আছেই। আমি নিয়ম মেনে চলছি। যতক্ষণ নিয়ম আছে মেনে চলব। পরেরটা পরে দেখা যাবে।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে কাদের বলেন, বেশকিছু সড়ক ফোর লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। যেসব রাস্তা ফোর লেন হয়নি সেগুলো পর্যায়ক্রমে ফোর লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিসহ জামিন হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি আইনীভাবেই হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রথম আলোর সম্পাদকের গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়ে সরকারের মধ্যে কোন আলোচনা হয়নি। সরকার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেনি, করেছেন আদালত। পুরো বিষয়টি আদালতের নির্দেশনায় হয়েছে। আর সরকার তো আদালতকে নির্দেশ দিতে পারে না।

ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, একটি ঘটনা ঘটেছে, ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে, মামলার পর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, পরে আসামিরা জামিন নিয়েছেন। সবই তো আদালতের বিষয়।

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০২০

২১/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: