২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

সৌর বিদ্যুতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ব্যর্থ উদ্যোক্তা

প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর ২০১৯
  • প্রতি ইউনিটে সরকারের ক্ষতি ৫ টাকা ৯৫ পয়সা

রশিদ মামুন ॥ সৌর বিদ্যুত উৎপাদনে ব্যর্থ উদ্যোক্তাকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বিদ্যুত বিভাগ। সারাবিশে^ সৌর বিদ্যুতে বিনিয়োগ কমে আসায় দেশে ইউনিট প্রতি সৌর বিদ্যুতের দাম ১০ সেন্টের নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু সেখানে হাওড় বাংলা নামের একটি কোম্পানির ১৭ সেন্টে করা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অর্থাৎ ইউনিট প্রতি সাত সেন্ট লোকসান গুনতে যাচ্ছে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড। এতে বিদ্যুত বিভাগের কোন মাথা ব্যথা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুত বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, এটি করা হয়েছে সরকারের সিদ্ধান্তে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, সারাবিশে^ সৌর বিদ্যুতের দাম কমে এসেছে। বিশ^বাজারে সৌর প্যানেলের দাম কমে আসাতে এখন দেশে সরকার ১০ সেন্টের বেশিতে সৌর বিদ্যুত কেনার পক্ষে নয়। নতুন যেসব চুক্তি করা হচ্ছে বা সৌর বিদ্যুত কেন্দ্রর সম্ভাব্যতা জরিপ করা হচ্ছে সেখানে নয় থেকে সাড়ে নয় সেন্ট প্রতি ইউনিটের দাম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে কেন ১৭ সেন্টে চুক্তি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হিসেব করে দেখা গেছে, প্রতি ডলারের দর ৮৫ টাকা ধরে ১৭ সেন্টে এক ইউনিট বিদ্যুত কিনলে দেশীয় মুদ্রায় দাম পড়ে ১৪ টাকা ৪৫ পয়সা। কিন্তু সাত সেন্ট কমানো গেলে আরও ৫ টাকা ৯৫ পয়সা কমেই প্রতি ইউনিট বিদ্যুত পাওয়া যেত। এখন প্রতি ইউনিট সৌর বিদ্যুতের দাম পড়ছে সাড়ে আট টাকা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (বিদ্যুত) বলেন, যুক্তিসঙ্গতভাবে বিদ্যুতের দাম কমানোর চেষ্টা করতে হবে। সেখানে যখন যেভাবে পারা যায় সেইভাবেই দাম কমানোর চেষ্টা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিদ্যুত বিভাগ বলছে, হাওড় বাংলা সোলার কোম্পানির সুনামগঞ্জ ৩২ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটির উৎপাদনে আসার কথা ছিল ’১৭ সালের ১৫ আগস্ট। পরে দফায় দফায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার সময় দুই বছর বাড়িয়ে গত ১৪ আগস্ট সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করা হয়। কেন্দ্রটির উৎপাদনে আসা দূরের কথা বাস্তবে কোন অগ্রগতি নেই বলে বিদ্যুত বিভাগের সমন্বয় সভায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে এর আগে জানতে চাইলে বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জনকণ্ঠকে জানান, চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলো সময় বৃদ্ধি করতে চাইলে তাদের নতুন দরে চুক্তি করতে হবে। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেয়ার পরই হাওড় বাংলার চুক্তিটি নবায়ন করেছে বিদ্যুত বিভাগ।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য জানার জন্য ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে এবার একসঙ্গে এক বছরেরও বেশি সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে কেন্দ্রটির ক্ষেত্রে। কেন্দ্রটির নতুন উৎপাদনে আসার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

সাধারণত চুক্তির পর এ ধরনের একটি কেন্দ্র নির্মাণে ৬ মাস সময় প্রয়োজন হয়। কিন্তু কেন্দ্রটিকে গত ১৪ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসেব করলে ১৬ মাস সময় দেয়া হয়েছে। অথচ একই বৈঠকে ময়মনসিংহের একটি ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র আট মাসের সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে তাদের মূল্য নিয়ে আলোচনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে নতুন করে সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে আগের ১৭ সেন্ট দাম তারা পাবে না।

প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

০৮/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: