২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যমুনার বাঁধে আশ্রয় নিতেও এককালীন নজরানা, দিতে হয় মাসিক ভাড়া


সমুদ্র হক ॥ বাঁধে আশ্রয় নিতেও ভূমি লিজ নিতে হয়। নাÑ এ লিজের কোন দলিল বা রেজিস্ট্রেশন হয় না। বাঁধের ওপর বাঁশ ও টিন ফেললেই আগন্তকের আগমন শুরু হয়ে যায়। একাধিক কথিত মালিক।

বাঁধের অংশ ভাগ করে নেয়া আছে। একজন এসে দেখে যায়। ওই অংশের কথিত মালিক কে তা সে জানে। তাকে ডাকা হয়। সে আসে। শুরু হয় দেন-দরবার। বাঁধের ওপর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত না সাময়িক! চিরস্থায়ী হলে এককালীন কিছু নজরানা দিয়ে প্রতি মাসে ভাড়ার চুক্তি। ক্ষণস্থায়ী হলে পানি নেমে যাওয়ার আগ পর্যন্ত একটা দর। এ দরেও কোন মানবিকতা নেই। গরু ছাগল অন্য ঘরে রাখলে তার আলাদা খরচ। মানুষ, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি একসঙ্গে থাকলে খরচ কিছুটা কম। সাপ, ইঁদুর, পোকা মাকড়ের সঙ্গে থাকাটাই শুধু ফ্রি। তবে এ ফ্রি সেই ফ্রি নয়। একটা কিনলে আরেকটা ফ্রির মতো। ঘর বানিয়ে চৌকি বা খাট পেতে থাকার দর আছে। মাটিতে বিছানা করে থাকাইটাই ফ্রি।

নদী তীরের ও চরগ্রামে বন্যার সময় পানি প্রবেশ করার সঙ্গেই গোঁফে তা দিয়ে বসে এলাকার এক শ্রেণীর মাস্তান চক্র। যারা প্রভাবশালীদের লালিত-পালিত। তারা যেভাবে পারে অসহায় মানুষদের পুঁজি করে ‘টু পাইস’ কামিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একদিকে বানভাসিদের (যাদের বাড়িঘরে বন্যার পানিতে ডুবে যায়) দুর্ভোগ, মানবেতর জীবন। আরেক দিকে এক শ্রেণীর মানুষের অর্থ আদায়ের ফন্দি ফিকির। এর মধ্যে লোলুপ দৃষ্টিও থাকে কখনও সখনও। পানি নেমে যাওয়ার সময় আরেক ধাক্কা নদীভাঙ্গন। ভাঙ্গনের থাবার মধ্যে যে বসতি (ঘরবাড়ি জমি জিরাত) পড়ে তারা ফের ছুটে আসে বাঁধের ওপরে। এবারের আশ্রয় চিরস্থায়ী। কেউ আবার আশপাশের ও কাছের কোন এলাকায় গিয়ে শুকনো ভূমির ওপর আশ্রয় গড়ে তোলে।

এ বাঁধে মানুষ আশ্রয় নেয়। যদিও বাঁধে আশ্রয় নেয়া অবৈধ। তারপরও মানবিক কারণে এ আশ্রয় দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। আবার সেই বাঁধ ভেঙ্গে গেলে অসহায় মানুষের মাথায় হাত পড়ে। আরেক দিকে নদী তীর ও বাঁধ রক্ষার এক শ্রেণীর কর্মকর্তা কর্মচারী এবং ঠিকাদারদের আনন্দের নওহর বয়ে যায়। তারা মুখে মানুষের কল্যাণের কামনা করে, আর মনের ভেতরে থাকে বাঁধ যাতে ভেঙ্গে যায়। বাঁধ ভেঙ্গে গেলেই তাদের লাভ। কয়েকগুণ বেশি খরচ দেখিয়ে এস্টিমেট তৈরি করা হয়। ওপর মহলে ভুল ধারণা দিয়ে খরচ বাড়িয়ে নিয়ে বাঁধ পুনর্নির্মাণে এক মহাযজ্ঞ শুরু হয়ে যায়। যত বেশি বাঁধ নির্মাণ তত বেশি লাভ। এ বাঁধে ইঁদুর গর্ত করে। মানুষরূপী ইঁদুরও গর্ত করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাঁধ নির্মাণে অর্থের যে প্রাক্কলন করা হয় তা ঠিক থাকে না। বাঁধ নির্মাণের সময় সিডিউলে যা লিখা থাকে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেনে চলা হয় না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসেবের যে কত গরমিল। বন্যার সময় স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেলে ফেলা হয় সিসি ব্লক। কত সিসি ব্লক ফেলা হলোÑ কত হিসাব দেয়া হলো এর মধ্যেও থাকে নয় ছয়। একই নয় ছয় হিসাব বালির বস্তার ক্ষেত্রে। জিওটেক্স আছে এমন হিসাবের মধ্য। নদী তীরের লোকজন বলাবলি করে বন্যার সময় পাউবোর কর্তা ব্যক্তিদের ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়।