মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ঈদ ফ্যাশনে বর্ষার দিন

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৬
  • রেজা ফারুক

বর্ষা এসে দাঁড়িয়েছে মেঘডোবা নিসর্গের বারান্দায়। বৃষ্টির ডোরবেল বাজিয়ে বর্ষার নিসর্গের আগমনে সংবাদটি দিয়ে দেয় রেশমীজ্বলা কদম, কেয়া কেতকী, কামিনী, সাদা গন্ধরাজ, জুঁই, বেলী, হাস্নাহেনা প্রভৃতি ফুলের সৌরভ। বর্ষার নিবিড় গুঞ্জরনে চঞ্চল হয়ে ওঠে মন। উদাস ভাবনায় ডুবে যায় সত্তার স্পন্দন। খিড়কিজাগা ভোরের ঊষায় যখন বর্ষণের আবছায়া মুখটুকু জেগে ওঠে, মনে হয় বর্ষার এই রূপ, বাদলদিনের এই ছবিটি এই বাংলারই আদি প্রতিচ্ছবি। যার মর্মে প্রকৃতির আবহমানতা এক অনন্য আবেশে লালিত হচ্ছে পৃথিবী সৃষ্টির সূচনাকাল থেকে।

আষাঢ় এবং শ্রাবণ এ দু’মাস বর্ষাকাল হলেও প্রকৃতপক্ষে চৈত্রসংক্রান্তির রেলব্রিজ পেরুতে পেরুতে বর্ষণজ্বলা ট্রেনটি এসে থামে বৈশাখের ধুলোজমা ধূসর জংশনে। ইস্টিশানের লাল ঝাউফুল ফোটা ঝকঝকে টিনের চালে যেন হঠাৎই বর্ষার গুঞ্জন জেগে ওঠে। বর্ষা শুধু বৃষ্টি বা বর্ষণ নয়। বর্ষা এই রূপসী বাংলার নদী, খাল, বিল, হাওড়, বাঁওড়, শস্যক্ষেত্রের আকণ্ঠ উর্বরতার জন্যও রাখে এক অনশ্বর অবদান।

স্রষ্টার অনুপম এই ঋত বৈচিত্র্য ছন্দের গ্রন্থিতে জীবন যেমন প্রবাহিত হয় তেমনি এক অদৃশ্য অসীম প্রাকৃতিক ধারার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয় নিসর্গ। যে নিসর্গ থেকে মানুষ পায় বাঁচার উপাদান। পাহাড়, পর্বত, বন, অরণ্য, নদী, সমুদ্র সব সবকিছু প্রকৃতির এক অমোঘ প্রাসঙ্গিক বিষয়।

আর ওই প্রাসঙ্গিকতার ছই নৌকোর গলুইয়ের চঞ্চুতে ছুঁয়ে যায় স্বচ্ছ জলের অবয়বফোটা সংবেদনশীল মৃদু তরঙ্গের সিম্ফনি, বর্ষা যেমন প্রকৃতিকে সতেজ আর সজীব করে তোলে।

তেমনি আটপৌরে গৃহস্থালি জীবনেও বর্ষার প্রভাব কম নয়। বৈশাখের ঝোড়ো দিন পেরিয়ে বর্ষা এসে বসে জ্যৈষ্ঠের তাপদগ্ধ প্রাচীন জমিদারবাড়ির কাকচক্ষু জলের দীঘির পলেস্তরা খসে যাওয়া মোজাইকজ্বলা শানবাঁধানো ঘাটে। তারপর ধীরে ধীরে সারা আকাশ আর সারা নীলিমা জেগে জেগে ওঠে নীলাম্বর রাশি। জেগে ওঠে অজস্র মেঘের প্যাগোডা। অবশেষে জনজীবনের পুরোভাগে এসে হানা দেয় বর্ষা, তথা বর্ষাকাল।

চলে বর্ষার দাপট কয়েক মাস জুড়ে। বিশেষ করে আচমকা বৃষ্টি ঝাঁপিয়ে পড়ে সব এলোমেলো করে দেয়।

গ্রামবাংলায় বর্ষার যে চিত্র নগর জীবনে তার ছবিটা একটু ভিন্ন। গাঁওগেরামে বর্ষা অভিন্ন বৃষ্টির মতো হলেও খাল বিল নদী বর্ষার নতুন পানিতে বর্ষাকে মনে হয় যেন কোন রাজদুহিতার জ্বলজ্বলে গলদেশে হীরের নেকলেসর মতো। মনে হয় যেন ডুবোচরের ওপর ভেসে থাকা বালিহাঁসের নির্জন ছায়া। নদীর কিনারে ফোটা আকন্দ ফুলের অধরে বর্ষার দুপুরগুলো ঝকমক করে উঠে এমন আভা ছাড়ায় যে মনে হয় এমন অনন্য রূপোজ্জ্বলতা বুঝি কখনই চোখে পড়েনি। ভরা নদী, অবসন্ন বিকালে ভেসে যাচ্ছে দূরগামী জাহাজ তীব্র ভেঁপু বাজিয়ে। আর তখনই শুরু হলো বৃষ্টি। মুষলধারার ঝরে পড়া বৃষ্টির গহনে ডুবে যেতে যেতে ঝাপসা হয়ে আসা ওই জাহাজের কেবিনের কাঁচে মুখ রেখে বাইরে বর্ষণের নান্দনিক দৃশ্য দেখতে দেখতে অপূর্ব ভাললাগায় মন যেন কেমন করে ওঠে। ফিরে যায় মন শৈশবে, মুখর কৈশোরে। নদীর তীরে গাঙ্্শালিক, মাছরাঙ্গা, ফিঙে, ধবল বকের ওড়াওড়ি যেন বর্ষাকে করে আরও অনবদ্য, আরও বাঙ্ময়। বর্ষায় বৃষ্টির দিনে গ্রামেগঞ্জের কাদামাখা পথঘাট, হাল্কা বৃষ্টির পানিতে ডোবা ঘাসের ডগায় বর্ণিল ফড়িং আর প্রজাপতিদের চঞ্চল উড়ন্ত পালকের ফড়ফড় শব্দে যেন বর্ষার মায়াবী ঝিলিক ঝলক দিয়ে ওঠে। গ্রামের বর্ষা যেন কোমল এক অভিব্যক্তি নিয়ে জীবনকে ছুঁয়ে যায়। কালেভদ্রে বর্ষা আবার জীবনকে বিপর্যস্তও করে তোলে বন্যা, প্লাবনে।

নগরজীবনে বাদল দিনের আবছাটা একটু অন্য রকমভাবেই ধরা দেয়। প্রচ- কর্মমুখরতায়, ছুটন্ত বাসের জানালায়, হুডতোলা, নেকাবপরা রিকশায়, রেস্তরাঁর গুঞ্চরণশীল টেবিলে বসে বন্ধুর সঙ্গে গল্পের ভেতর, অযাচিত বৃষ্টির তাড়া খেয়ে কোন শপিংমলের ঝলমলে কফিশপের আড্ডায়, পাশের টেবিলে বসা কোন সুন্দরী কলিগের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা আর বাসস্টপে বাসের ছাউনিতলে ভিড়ের মধ্যেও বর্ষা-ভেজা রুমাল থেকে পানি নিংড়াতে নিংড়াতে এসে মিশে যায়।

বর্ষায় নগরজীবনে একচিলতে আনন্দের পাশাপাশি বিড়ম্বনারত্ত সৃষ্টি করে।

তারপরও বর্ষা আসে। অনন্তকাল বর্ষা আসবে এই বাংলায় সাদা পরীর মতো নীল সিল্কের স্কার্ফ উড়িয়ে। ষড়ঋতুর এই বাংলায় বর্ষার প্রভাব যেমন অপরিসীম তেমনি বাংলা সাহিত্যেও বর্ষার রয়েছে বিরাট অবস্থান। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত তথা শিল্পের প্রতিটা শাখাতেই নানাভাবে, নানা অনুষঙ্গে বর্ষা জায়গা করে নিয়েছে।

এই বর্ষার মাঝেই এবারে যোগ হয়েছে আনন্দঘন এক মূহুর্ত। মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের জন্য বড় একটি উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। যদিও ঈদ এখন সার্বজনীন এক উৎসবে পরিনত হয়েছে। ইতিমধ্যে ঈদের আনন্দের জোয়ার বইছে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে। চলছে কেনাকাটার চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতি। তবে কেনাকাটায় প্রাধান্য পাচ্ছে ঋতুভিত্তিক পোশাক। অর্থাৎ বর্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে চলছে ঈদ কেনাকাটার পর্ব। আর হাউসগুলোও যেন সেভাবেই প্রস্তুত রেখেছে এবারের ঈদের পোশাক।

সর্বোপরিÑ বর্ষায় ফ্যাশন ভুবনেও চলছে বর্ষাকেন্দ্রিক পোশাক বিপণনের বিপুল আয়োজন। বর্ষাকে ঘিরে ফ্যাশন হাউজগুলোও সেজেছে নতুন সাজে প্রতি বর্ষার মতো। বর্ষা যেমন মানুষকে গৃহমুখী করে তেমনি বর্ষা মানুষকে অনাদিকাল ধরে নিসর্গের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

ছবি : শেখ সাদি

মডেল : ইমি, উপমা, আসফি, অপূর্ব, আবাস ও তিশা

পোশাক : রং বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৬

২৭/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: