মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৬
স্বীকারোক্তি
  • ২ জনের একজন সরাসরি গুলি করে মিতুকে
  • পুলিশ হেফাজতে মোট ৮ জনের মধ্যে ওয়াসিম ও আনোয়ারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ নানা নাটকীয়তা ও ধূম্রজাল সৃষ্টির পর চট্টগ্রামে এসপি বাবুল আক্তার পত্নী মাহমুদা খানম মিতুর হত্যাকাণ্ডের জট খুলেছে। মূল শূটারসহ ২ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং এরা রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট হারুনুর রশীদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। সন্ধ্যায় ইফতারের পর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় জবানবন্দী দান চলছিল। অপরদিকে, সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার বিকেল ৩টায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, মিতু হত্যায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে ওয়াসিম ও আনোয়ার নামের দুই দুর্বৃত্ত। এরা পেশাদার অপরাধী। ওয়াসিম সরাসরি শূট করেছে মিতুকে। এক গুলিতেই তার প্রাণ সংহার হয়েছে। এছাড়া অপর আসামি আনোয়ার ঘটনাস্থলে যে কয়েকজন অবস্থান করছিল তাদের একজন। ওয়াসিম ও আনোয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজি হওয়ায় তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন কমিশনার ইকবাল বাহার। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তারা জানতে পেরেছেন এ হত্যাকাণ্ডে ৭ থেকে ৮ জন জড়িত। তাদের মধ্য থেকে এ দু’জনকে ধরা হয়েছে। বাকি যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে কমিশনার বলেন, পুলিশ কেবল এদের ধরতে পেরেছে। বাকি যারা এতে জড়িত ছিল তাদের গ্রেফতার করা গেলে এবং তদন্ত শেষ হলে পুরোটা বলা যাবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত গ্রেফতার এ দু’জন। বাকি যাদের আটক করা হয়েছিল বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তা করা হয়। কিন্তু তাদের গ্রেফতার বলা যাবে না। বাবুল আক্তারকে ঢাকায় প্রায় ১৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সিএমপি কমিশনার বলেন, এটা জিজ্ঞাসাবাদ নয়, এ মামলার বাদী হিসেবে বাবুল আক্তারের সঙ্গে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় বিভিন্ন আলোচনা করে থাকতে পারেন। কমিশনার বলেন, ঘটনাটি টার্গেট কিলিং এটা নিশ্চিত। জড়িতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। কিন্তু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা যাবে না। বাবুল আক্তার নজরদারিতে আছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোন রকমের নজরদারি রাখার কি আছে।

এদিকে, মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যে ৮ জনকে আটক করে ঢাকায় নেয়া হয়েছিল সেখানে ডিবিতে তাদের সঙ্গে বাবুল আক্তারের মুখোমুখি করা হয় বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে বাবুল আক্তারের বিশ্বস্ত সোর্স মুসা, নবী ও ওয়াসিমও ছিল। মোটরসাইকেলে যে ৩ কিলার ছিল এ তিনজনই তারা। এ তিনজনসহ মোট ৮ জন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে গত এক সপ্তাহেরও অধিক সময় ধরে। কিন্তু বাবুল আক্তারকে নিয়ে শনিবারের নাটকীয় ঘটনার পর এদের সকলকে পুনরায় চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে শুধু ওয়াসিম ও আনোয়ার নামের দু’জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নেয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট যারা পুলিশী হেফাজতে রয়েছে তাদের ব্যাপারে কোন বক্তব্য মিলছে না পুলিশের পক্ষ থেকে। সিএমপি কমিশনারও এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি।

রবিবার ওয়াসিম ও আনোয়ারকে গ্রেফতারের পর পরিষ্কার হয়েছে এ চক্রটি মিতুকে হত্যা করেছে। তারা পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। পরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদানে স্বেচ্ছায় আদালতে যেতে রাজি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, হত্যাকা- কারা ঘটিয়েছে তা পরিষ্কার হয়েছে। কিন্তু হত্যাকা- কাদের ইঙ্গিতে এবং কেন ঘটানো হলো তা এখনও রহস্যের বেড়াজালে আটকা আছে। এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত তদন্ত সংস্থাগুলোর কেউ কিছু বলছেন না। শুধু বলা হচ্ছে, আদালতের মাধ্যমে সবকিছু পরিষ্কার হবে। এসপি বাবুল আক্তারপতœী মিতুকে নৃশংস কায়দায় হত্যার পর রবিবার প্রথমবারের মতো সিএমপির পক্ষ থেকে অফিসিয়াল বক্তব্য পাওয়া গেছে। কিন্তু এ বক্তব্যের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সংশ্লিষ্ট সকলের মনে এসেছে যে, কে বা কারা এবং কেন একজন পুলিশের এসপির পতœীকে দুঃসাহসিক ঝুঁকি নিয়ে এভাবে বর্বর কায়দায় হত্যা করল। হত্যার ধরনও ছিল ভিন্ন। কারণ মিতুর সঙ্গে ছিল তার ছেলে। তাকে স্কুলগামী বাসে উঠিয়ে দেয়ার জন্য গত ৫ জুন মিতু সকাল সোয়া ৬টায় ঘর থেকে বের হয়ে এক শ’ গজের মধ্যে সময় আনুমানিক ৬টা ৩২ মিনিটে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। সিএমপির পক্ষ থেকে আসামিদের হেফাজতে আনার একসপ্তাহেরও বেশি সময় পর রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হলো কিলিং মিশনে অংশ নেয়া দু’জনের নাম। তারা হচ্ছেÑ ওয়াসিম ও আনোয়ার। এদের বাড়ি রাঙ্গুনীয়ায়। ওয়াসিমের বিরুদ্ধে অপরাধজনিত ৮টি মামলা রয়েছে।

হত্যাকা-ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ওয়াসিম ছিল এবং সেই মূল শূটার। সিসিটিভি ফুটেজে তাকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু মোটরসাইকেল চালক মুসা ও মাঝখানে বসা নবী এবং এ চক্রের আরেক সদস্য সন্ত্রাসী ভোলা যাকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বলে প্রচার হয়েছে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়নি। এমনকি তাদের নামও সিএমপি কমিশনার ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেননি অথচ এদের সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনে গত প্রায় ১২ দিন ধরে তদন্তে নিয়োজিত একাধিক টিমের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে

সিএমপি কমিশনার আবারও দাবি করেছেন এটা টার্গেট কিলিং। তবে কেন টার্গেট করা হয়েছে তা তদন্তে এখনও পরিষ্কার হয়নি বলে জানান দেন। তবে আশা করছেন, সহসা সব রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। অপরদিকে, গত শুক্রবার রাতে বাবুল আক্তারকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে নেয়ার পর উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা এ হত্যাকা- সম্পর্কে কথাবার্তা বলে শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরই মধ্যে চাউর হয়ে যায় নানা তথ্য, সৃষ্টি হয় ধূম্রজাল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজি, ডিএমপি কমিশনারসহ সকলেই অভিন্ন সুরে বলেছেন তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। আটকও করা হয়নি। যেহেতু তিনি মামলার বাদী সেজন্য সন্দেহজনক আসামিদের শনাক্ত এবং মামলার তদন্তে সহায়তা চাওয়ার জন্য নেয়া হয়েছে। এছাড়া এ নিয়ে অন্য কিছু নেই। এখন মিতু হত্যাকাণ্ডের কিলার গ্রুপ ধরা পড়ার পর একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ভাড়াটিয়া এসব কিলার দিয়ে কারা এবং কেন একজন পর্দানশীন পুলিশপতœীকে প্রকাশ্য দিবালোকে বর্বর কায়দায় হত্যা করল। পাশাপাশি তার সঙ্গে থাকা শিশুপুত্র মাহিরকে হত্যাকারীরা সরিয়ে দিয়ে মিশন সম্পন্ন করে।

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৬

২৭/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: