২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সুবাতাসে আসুক সুশাসন


স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে একটি সুসংবাদ পেলাম আমরা। এটি নিঃসন্দেহে দারুণ খবর। দেশ যখন নবীন, জাতি যখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে লড়ছিল, তখন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী মোড়ল আমেরিকার কিসিঞ্জার রটিয়েছিল এটি একটি তলাবিহীন ঝুড়ি। সত্তর দশক পৃথিবীর কোন সুখের দশক ছিল না। এই মোড়ল ও রাশিয়ার ঠা-া লড়াইয়ে দেশগুলো নিজেদের মতো করে চলতেই পারছিল না। এখন খোলা দুনিয়ার যুগ। পেছন ফিরে দেখুন কোন্ কোন্ দেশ কতটা পিছিয়ে ছিল। আফ্রিকা এশিয়ার কোন দেশের হাল তত ভাল কিছু ছিল না। কোন কোন দেশের চেহারা এত ভয়ঙ্কর, এতটা খারাপ ছিল যে আজও তারা সে তিমিরে। আর এই পাকিপ্রেমী নিশানা করেছিল আমাদের। আজ তলাবিহীন ঝুড়ির উপচে পড়া ফলে তার কুলখানিও করতে পারব আমরা।

বলছিলাম ভাল খবরটির কথা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুনিয়াসেরা দশে জায়গা পেয়েছেন। এ কৃতিত্ব তাঁর। কাজ ও পরিশ্রমে তিনি সৎ। এটাও মানতে হবে তাঁর রক্তে আছে রাজনীতি। এদেশে এত জঞ্জাল এত সব হায়েনা, তাদের হটানো সহজ কাজ ছিল না। ধীরে ধীরে তিনি তা করেছেন। তাঁর এই তকমা দেশ ও জাতিকে নতুন প্রেরণা যোগাবে। জামায়াত-বিএনপির মুখে দেবে নতুন চুনকালি। আমার মতে, সবচেয়ে বড় লেসনটা থাকল ওয়ান-ইলেভেনের সুশীল ও যারা তাঁকে জেলে পুরে জোর করে মাইনাস করে বিদায় দিতে চেয়েছিলেন। তারা এখন দেখছে তিনি দুনিয়াসেরা ইলেভেনের নাম্বার টেন। একেই বলে নিয়তি ও সময়ের মার।

এখন আমাদের চাওয়া সুশাসন। গত কিছুদিন থেকে তার অভাব দেখছি। ধর্ষণ, খুন, ডলার লুট আনন্দ ও শান্তি কেড়ে নিতে চাইছে। আনন্দ হাতছাড়া করার মতো হতভাগা নই আমরা। ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখুন অত বড় বিজয় অত মৃত্যু ও রক্তের ওপর দাঁড়িয়েও কেমন অবিচল ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ। সেদিন চাইলে আমরা প্রতিশোধ নিতেই পারতাম। মুক্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন তা হতে দেননি। বরং যেসব মুক্তিসেনা আবেগ ও ক্রোধে চেতনাহীন হয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে রাজাকারদের দিবালোকে হত্যা করেছিণ্ড দেশ শাসক হিসেবে তিনি তা মেনে নেননি। কোন্টা সঠিক আর কোন্টা বেঠিক তার জবাব কি মানুষ জানে? জানে না বলেই সময় ও সভ্যতা নিয়মাবলী ঠিক করে দেয়। আজ যদি পিছে ফিরে তাকাই বেয়নেট হাতের সেই তেজী মুক্তিযোদ্ধার কোন্ চেহারা দেখি আমরা? এই কি সেই কাদের সিদ্দিকী যিনি বাঘা সিদ্দিকী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন? পাকিস্তানী শিবিরে ছিল আতঙ্কের নাম। এখন যিনি চেতনা ও নিজের জায়গা থেকে যোজন দূরে থাকা এক যোদ্ধা। অন্যদিকে নৃশংস দুশমনরা তাজউদ্দীন ও পরবর্তীকালে জাতির জনকের দয়ায় বেঁচে থাকার সুযোগ পাবার পরও তাঁদের হত্যা করতে বিচলিত হয়নি। কি আশ্চর্য! সে মরণেও মদদ দিয়েছিল কিছু কথিত যোদ্ধা।

এসব আমাদের চোখে দেখা। আমরা পরিণত বয়সে এসে এদেশে হানাহানির বদলে একটি শান্ত সমাজ দেখতে চাই। ক্রিকেট প্রসঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই। আমাদের যৌবনে বাংলাদেশে এগারোজন খেলোয়াড় ছিল না। আমরা বুক ফুলিয়ে পতাকা দুলিয়ে মাঠে যেতে পারিনি। আমরা রাজনৈতিক ও সম্প্রদায়গত কারণে ভারত পাকিস্তান এ দু’দলে ভাগ হয়ে লড়াই করতাম। আর আজ আমি জয়পুরে দিল্লীতে কলকাতায় লাহোরে মুখে মুখে সাকিব, মাশরাফী, মুস্তাফিজের নাম শুনি। তারা বলেন, এমন কয়েকজন যদি আমাদের থাকত :

অহঙ্কারে আমার বুক ভরে যায়। একজন বলছিলেন, বাংলাদেশের খেলার শৈলী উপমহাদেশের সেরা। থিতু হতে জানলে কেউ রুখতে পারবে না।

ঠিক তাই। রাজনীতি তুমি তাকে পকেটে টেনো না। তাকে থিতু হতে দাও। আমাদের তারুণ্য নোংরা রাজনীতি বোঝে না। তারা দেশের নামে পাগল। এ পাগলামিকে উন্মাদ করে রাজনীতি। তাসকিনের হাতে ধোনির মু-ুকে জামায়াতীদের কাজ বলছি, মোল্লার সামনে কাঁচুমাচু পাকিস্তানীকে বলব বাকশালী অনাচার? লাভ নেই। জরুরী হলো নোংরা রাজনীতির সুইচ অফ করা।

দুনিয়ার সবচেয়ে বড় খেলা ফিফা কাপের ফাইনালে সরকারপ্রধানরা যান। তাদের আবেগ হয় নিয়ন্ত্রিত। তোষামোদীর দেশে সবকিছু পকেটে ঢোকানো আর তিলকে তাল করার নাম রাজনীতি। ফলে জয়টা হয়ে যায় একপেশে।

আমার দেশের জয়টা আমাদের সবাইকে বিতরণ করুন। এই সেদিন নরেন্দ্র মোদি এসে সাকিব আল হাসানের কথা বলে গেলেন। আর এরা যারা খেলছে তারা আমাদের দেশের অতিথি। তাদের প্রশংসা করুন। তারাও দুনিয়ার বাঘা বাঘা খেলেয়াড়। অতিথির পরাজয়ে আমার জয় বড় হয় বটে, সমবেদনায় হয় আরও গৌরবময়। আমাদের জয় যখন অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে, কেন আমরা শিশু বা পাগলের মতো আচরণ করব?

সময় এসেছে সবকিছুতে থিতু হবার। বাড়াবাড়ির একটা বড় উৎস সামাজিক মিডিয়া। কিছু ঘটার আগে, কিছু বুঝে ওঠার আগে চটজলদি বলার এক উগ্র প্রবণতা। এর ভেতর কোন সমাধান নেই। শুধু উস্কানি। তা ছাড়া মিডিয়ার ভূমিকাও কেমন জানি। যারা লড়াই করছে সত্য বলছে তারা অপমানিত আর সুবিধাবাদীরা আজ সম্মানিত।

আমরা চাই শেখ হাসিনার এই গৌরব জাতির কল্যাণে নিবেদিত হোক। ফিরে আসুক সুবাতাস।