২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

বেবিচকে দুই চেয়ারম্যান!


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এখন দুই জন। গত ৭ দিনেও বর্তমান চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি চৌধুরী তার পদে যোগদান করতে পারেননি। ৩ দিন ধরে সিভিল এ্যাভিয়েশনে গিয়েও তিনি চেয়ারম্যানের কক্ষে সোফায় বসে সময় কাটাচ্ছেন। তাকে এখনও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় গতকাল (সোমবার) যুক্তরাজ্যের রেডলাইনের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই চেয়ারম্যানকেই উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

একজন পরিচালক রাতে জনকণ্ঠকে জানান, সোমবারও এয়ার ভাইস মার্শাল সানাউল হক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তবে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, নতুন চেয়ারম্যান মন্ত্রণালয়ে জয়েন করেছেন। সিভিল এ্যাভিয়েশনে করেননি। এটার প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ এবিএম সানাউল হককে সিভিল এ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নতুন চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয় এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি চৌধুরীকে। পাশাপাশি ওই পদে থাকা এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হককে নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা থেকে বিমানের সরাসরি লন্ডনের কার্গো ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য। অভিযোগ আছে, সানাউল হক যোগদানের পর থেকে দেশের সব বিমানবন্দরে সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকা-ের গতি কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এ্যাভিয়েশন গোয়েন্দা দল শাহজালালের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করলেও এ ব্যাপারে তিনি দীর্ঘদিন কোন এ্যাকশন নেননি। এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া ঢাকা থেকে বিমানে কার্গো নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পরও তিনি বিষয়টি আমলে না নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করেন। এক পর্যায়ে যুক্তরাজ্যও ঢাকা থেকে বিমানে সরাসরি কার্গো পণ্য পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতেও সিভিল এ্যাভিয়েশন কোন বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। অস্ট্রেলিয়ার মতো যুক্তরাজ্য শাহজালাল বিমানবন্দরে অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও জনবলের অভাবের জন্য সিভিল এ্যাভিয়েশনের গাফিলতি ও অবহেলাকে দায়ী করে। এ প্রেক্ষাপটে মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হলো।

এদিকে এ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞার পর যদি সিভিল এ্যাভিয়েশন ত্বরিত ব্যবস্থা নিত তাহলে এখন ৭৪ কোটি টাকা ব্যায় করে যুক্তরাজ্যের কোন কোম্পানিকে শাহজালালে নিয়োগ দেয়া লাগত না।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: