২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যুদ্ধাপরাধ মামলা দায়েরের তিন বছরেও তদন্ত হয়নি


মোঃ হারেজুজ্জামান হারেজ, সান্তাহার ॥ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় সাত শ’ টগবগে যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এই উপজেলায় ২৩ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এদের মধ্যে আদমদীঘিতে গেরিলাযুদ্ধ করতে এসে এক সহযোদ্ধার বেইমানিতে স্থানীয় রাজাকারদের হাতে আটক হন উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের কোমারপুর গ্রামের আব্দুল জলিল আকন্দ, চকসোনার গ্রামের আলতাফ হোসেন, চাঁপাপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের মনসুরুল হক টুলু ও আব্দুস ছাত্তার। এরপর তাদের তুলে দেয়া হয় বর্বর পাকি হানাদারবাহিনীর হাতে। বীর এই চার মুক্তিযোদ্ধাকে থানায় আটক রেখে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে খেজুরগাছের কাঁটাওয়ালা ডাল ও বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হানাদার ক্যাম্পের বাইরে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এরই মাঝে বেজে উঠে বিজয়ের মৃদুধ্বনি। মাত্র দু’দিন আগে আদমদীঘি উপজেলা সদরের খাড়ির ব্রিজ শ্মশানঘাটে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় ওই চার বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। এ সময় স্থানীয় রাজাকার শিরোমণি আব্দুল মজিদ তালুকদার এবং তার ছেলে আব্দুল মোমেন তালুকদার খোকাসহ তাদের অনেক সাঙ্গপাঙ্গ উপস্থিত থেকে আনন্দ-উল্লাস করেছিল বলে জানা যায়। এই নির্মমতার দৃশ্য আজও তাড়া করে বেড়ায় প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হোসেন, মকবুল হোসেন ও আফছার আলীর মতো অনেককে। এদিকে ঘটনার প্রায় ৪২ বছর বছর পর ২০১২ সালে সান্তাহার শহরতলীর কায়েতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা সুবেদ আলী বাদী হয়ে তার চার সহযোদ্ধা হত্যার দায়ে সে সময়কার রাজাকার কমান্ডার বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মোমেন তালুকদাকে আসামি করে বগুড়া আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ দেয়। মামলার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ট্রাইব্যুনাল থেকে এখনও তদন্ত করা হয়নি বলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি এই চার বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে শ্মশানঘাটে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের। এখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য ১৯৯৬ সালে উপজেলা পরিষদ থেকে ভিত্তিপ্রস্তর ও ফলক তৈরি করা হয়। তারপর কেটে গেছে দেড় যুগ। কিন্তু আর কোন কাজ হয়নি।