১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

‘ভোটের পর কেউ আর খবর নেয় না’


নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ১৬ ডিসেম্বর ॥ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা। উভয় দলই সমানে নির্বাচনী মাঠ গরম করে রেখেছে। দলীয় প্রতীকে পৌর ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বহুদিন পর রাজনীতির হিসেব নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি অনেক দিন পর নির্বাচন হাতে পেয়ে ব্যাপক উৎসাহে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সোমবার প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর থেকে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী। সোমবারই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি শহরে তাদের আলাদা নির্বাচনী অফিস খুলেছে। তবে উভয় দলের শীর্ষ নেতারা এখনও মাঠে নামেনি।

কেশবপুর পৌরসভা ঘোষণার পর মেয়র পদে পরপর দু’বার নির্বাচিত হয় বিএনপির পৌর কমিটির সভাপতি আব্দুস সামাদ বিশ্বাস। তার কাছ থেকে বার বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে মেয়র পদ আওয়ামী লীগের দখলে নিতে। আব্দুস সামাদ বিশ্বাস এবারও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদ ধরে রাখার জন্য মাটি কামড়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমান মেয়র থাকায় পৌরসভার ঝোঁপঝাড় পরিষ্কারে বেশ মনোযোগ দিয়েছেন। কয়েকদিন আগে মাইকিং করে বেওয়ারিশ কুকুর মেরেছেন। শহরের ম-লপাড়ার রোডে সোমবার বাতি জ্বালিয়েছেন। কিছুদিন আগে শহরের কালার বাসায় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্ধকার দূর করতে রোড লাইটের ব্যবস্থা করছেন।

এভাবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৪০টি রোড বাতি লাগিছেন বলে পল্লী বিদ্যুতের কেশবপুরের জোনাল অফিসের কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন। তবে ভোটাররা এতে মোটেই খুশি না। উল্টো ভোটারদের প্রশ্ন এতদিন পরে কেন ? ভোট নেয়ার জন্য? খোঁড়াযুক্তি বরাদ্দ পাইনা বলে এতদিন চালিয়ে এসেছেন বর্তমান মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস। দীর্ঘ দশ বছর তেমন উন্নয়ন না করায় তার ওপর পৌরবাসী নাখোশ। অনেকে অভিযোগ করেছেন, তিনি পৌরসভার টাকা দিয়েই গত দশ বছরে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। এসব নিয়ে বিএনপির মধ্যেও কোন্দল রয়েছে। সে কারণে এবার বিএনপির সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলমগীর কবির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ত্রুটির কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। বায়সা গ্রামে আতিয়ার রহমান জানান, লুটপাটের কারণে সামাদ বিশ্বাসকে ভোট দেয়া যায় না কিন্তু ধানের শীষ মার্কার জন্যই দিতে হবে। বর্তমান মেয়র আব্দুস সামাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ভোটারদের কাছে তুলে ধরে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বদলে দেয়ার অঙ্গীকার করে ভোটারদের মন জয় করার একটা সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করছেন না। একেবারে নতুন মুখ রফিকুল ইসলাম। রাজনীতিতে ছাত্রজীবন থেকেই ব্যাপক সক্রিয় থাকায় রফিকুল ইসলামের অবস্থান মোটামুটি ভাল। দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল ভুলে যদি পৌর নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীরা এক হতে পারেন তাহলে মেয়র পদটি এবার আওয়ামী লীগের দখলে চলে আসবে বলে অনেকেরই ধারণা। নির্বাচনকে ঘিরে উভয় দলেরই কর্মীরা কোমর বেঁধে পাড়া, মহল্লায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। গভীর রাত পর্যন্ত দল বেঁধে কর্মী ও প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি ভোট চেয়ে চলেছে। রাস্তার ওপর টাঙ্গানো প্রার্থীর ছবিসহ পোস্টার হিমেল বাতাসে দুলছে। নানা রকম কৌশল নিয়ে ভোটের হিসেব কষে চলেছেন তারা। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও দলীয়ভাবে ভোটের জন্য বাড়ি বাড়ি ছুটে বেড়াচ্ছে। শহরের ম-লপাড়ার সন্তোষ ম-ল ও তার স্ত্রী বিনা রানী জানান, ভোটের সময় অনেকেই আমাদের খবর নেয়, তারপর আর কেউ ফিরেও দেখে না।