২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

স্ত্রীর চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা, হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ


স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ স্ত্রীকে নির্যাতনের পর আঙ্গুল দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছে স্বামী। নির্মম এ ঘটনার পর থেকে চোখের যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন স্ত্রী নুরেসা বেগম। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার চোখের কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাহিদামতো এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ তুলে না দেয়ায় গত রবিবার রাজশাহীর পবা উপজেলার বৈরাগীপাড়া গ্রামে এ কা- ঘটায় পাষ- স্বামী ট্রাকচালক সিরাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলেও এখনও কোন আসামিকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

মঙ্গলবার রামেক হাসপাতালের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, চোখের ব্যান্ডেজ নিয়ে প্রায় অচেতন নুরেসা। যন্ত্রণায় ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। তার পাশে থাকা স্বজনরা জানান, ১৪ বছর আগে নুরেসা ও সিরাজুলের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে ট্রাকচালক স্বামী কারণে-অকারণে নির্যাতন করে আসছিল। স্বামীর চাপের মুখে আগেও তিনি এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ তুলে দিয়েছেন। সেই ঋণের টাকা সিরাজুল পরিশোধ করেননি। বিপাকে পড়ে নুরেসা মা-বাবা ও স্বজনদের কাছ থেকে টাকা এনে শোধ করেছেন। ওই টাকা শোধ হওয়ার পর স্বামী সিরাজুল আবারও দুই লাখ টাকা এনজিও থেকে তুলে তাকে দিতে বলে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। এ কারণেই শুরু হয় নির্যাতন। নুরেসার বেগম অভিযোগ করেন, টাকা তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রবিবার সকালে ঘরের দরজা বন্ধ করে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি মেঝেতে পড়ে গেলে সিরাজুল আঙ্গুল দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি ছুরি খুঁজতে শুরু করলে নুরেসা বাইরে বেরিয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাঁকে রক্ষা করেন। স্বামীর নির্যাতনে তার বাম চোখ প্রায় নষ্ট হতে বসেছে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর মা নগরীর শাহ মুখদুম থানায় অভিযোগ করেছেন। এতে সিরাজুল ও তার ভাই ফজলুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন শাহ মুখদুম থানার ওসি আবদুর রউফ। রামেক হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ইউসুফ আলী বলেন, গৃহবধূর চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঘাতের কারণে প্রতিক্রিয়া হয়েছে তার চোখের ভেতরেও। চিকিৎসা চলছে।

পঞ্চগড়ে উপবৃত্তির টাকা কেটে নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় ॥ উপবৃত্তি সুবিধাভোগীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে সরকারী প্রাইমারী স্কুলের এক প্রধান শিক্ষক ৬০ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপবৃত্তির টাকা প্রদানের আগেই এই ঘুষের টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতিমাসে একজন সুবিধাভোগী ১শ’ টাকা করে পাবেন। এতে ৬ মাস পর ৬শ’ টাকা দেয়ার কথা। উপবৃত্তি দেয়ার আগে কেন ৬০ টাকা করে নিচ্ছেন এ নিয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সদস্যসহ অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে, এ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মাহাফুজা আকতার বলেন, প্রক্সি শিক্ষকের ভাতা বাবদ এই টাকা তোলা হচ্ছে যা ম্যানেজিং কমিটির সভায় রেজুলেশন করা হয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউপির ঘোড়ামারা কামারপাড়া সরকারী প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহাফুজা আকতার নিজ উদ্যোগে গত ২/৩ ধরে ওই স্কুলের ১৪৩ জন উপবৃত্তি সুবিধাভোগী প্রত্যেকের কাছে ৬০ টাকা করে ঘুষ দাবি করে।