মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৮ আগস্ট ২০১৭, ৩ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

আব্বাস উদ্দীনের জন্ম দিনে আয়োজন

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫
আব্বাস উদ্দীনের জন্ম দিনে আয়োজন

গৌতম পাণ্ডে ॥ উপমহাদেশের খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১১৪তম জন্মদিন আজ মঙ্গলবার। সুরস্রষ্টা আব্বাসউদ্দীন আহমদ ১৯০১ সালের এই দিনে পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রিটিশ ভারতে বাংলা লোকজ গানের যে জাগরণ সৃষ্টি হয় তার অন্যতম কৃতিত্ব এই সুর সাধকের। উত্তরাঞ্চলে তথা বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে ভাওয়াইয়া গানের ব্যাপক চর্চা শুরু হয় আব্বাসউদ্দীনের হাত ধরেই। একবার শুনেই তিনি গানকে নিজের আয়ত্বে নিয়ে আসতে পারতেন। এ ছাড়া আধুনিক, স্বদেশী, ইসলামী, পল্লীগীতিসহ নানা ধরনের গান করেছেন তিনি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি প্রথম গেয়েছিলেন আব্বাসউদ্দীন আহমদ। আব্বাসউদ্দীন আহমদের ছেলে মোস্তফা জামান আব্বাসী জানান, আব্বার জন্মদিন পালন পারিবারিকভাবেই হবে।

তিনি বলেন, আব্বার জন্মদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন কখনও হয়নি, হবেও না। তাকে নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। আজ অবধি দেশের কোনো একটা রাস্তা বা প্রতিষ্ঠানের নাম আব্বাসউদ্দীনের নামে হয়নি। এতেই আব্বাসউদ্দীনের প্রতি রাষ্ট্রের উদাসীনতা স্পষ্ট হয়। রাষ্ট্রের যতই উদাসীনতা থাকুক আব্বাসউদ্দীনকে তার জায়গা থেকে সরানোর সাধ্য কারো নেই বলে বিশ্বাস করেন মোস্তফা জামান আব্বাসী। তিনি বলেন, একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল শ্রোতার স্বীকৃতি। সেটা তিনি প্রতিদিন পান এবং পাবেন চিরকাল। বাবাকে নিয়ে নিজের লেখালেখি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি বাবাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত লিখছি। গবেষণা করছি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত আমার গবেষণাধর্মী বইয়ের সংখ্যা ২০টি। যা বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বিগত দিনে বাবার জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীতে ভাইকে নিয়ে একসঙ্গে আজিমপুর কবরস্থানে বাবার কবর জিয়ারত করতাম। এইবার সেই ভাইটিও নেই। তাই একাই বাবার জন্য দোয়া করতে যাব।

গুণী এই শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর আব্বাসউদ্দীন আহমদ পরলোকে গমন করেন। সঙ্গীতে অবদানের জন্য আব্বাসউদ্দীন মরণোত্তর প্রাইড অব পারফরমেন্স (১৯৬০), শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭৯) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৮১) ভূষিত হন। আমাদের কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের ১১৪তম জন্মদিন উপলক্ষে কুড়িগ্রামসহ উত্তরের বিভিন্ন অঞ্চলে পালিত হচ্ছে শিল্পীর জন্মোৎসব। এছাড়াও ভারতের কোলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাসে শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী আব্বাস মেলার আয়োজন করা হয়েছে। শিল্পীর জন্মোৎসব পালনের প্রধান সংগঠক মেঠোজন সভাপতি ইউসুফ আলমগীর জানান, ভাওয়াইয়া তথা আব্বাস উদ্দিনের গানের অতিত ঐতিহ্য, গৌরব স্ব মহিমায় উজ্জ্বল করতে দরকার সরকারী-বেসরকারী পৃষ্টপোষকতা, বেশি বেশি ভাওয়াইয়ার উৎসব ও প্রতিযোগিতার আয়োজন।

এদিকে বাংলার বুলবুল নামে খ্যাত ভাওয়াইয়া গানের অমর শিল্পী আব্বাস উদ্দীনের ১১৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এটিএন বাংলায় প্রচার করা হবে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘বটবৃক্ষের ছায়া’। বৈঠকী গান, স্মৃতিচারণ আর প্রতিবেদন নিয়ে সাজানো এ অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন ফেরদৌসী রহমান, ড. নাশিদ কামাল, মোস্তাফিজুর রহমান, সালমা মোস্তাফিজ, সাহস মোস্তাফিজ এবং কোরাস দল। ড. নাশিদ কামালের উপস্থাপনা এবং ফয়সাল মাহমুদের পরিচালনায় ‘বটবৃক্ষের ছায়া’ অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে আজ মঙ্গলবার বেলা ৩-১০ মিনিটে এটিএন বাংলার পর্দায়।

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫

২৭/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: