২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অস্তিত্বের প্রশ্নে ধুয়া গান বেহুলা পালা


ঘাঘট, মানস, আলাই, আখিরা, বাঙ্গালী, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া ও যমুনা নদী বেষ্টিত গাইবান্ধা জেলার আদি লোকজ সংস্কৃতি এখন অনেকাংশে লুপ্ত। ফলে ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে জগের গান, যোগির গান, কাদাখচা গান, মোনাই যাত্রা, ভাসান যাত্রা, ছোকরা নাচ, মালশী গান, বারোমাসি গান, পালা কর্তন, বিয়ের গীত, বৌ বশকরা গান, উদাসিনী গান প্রভৃতি। এখনও নানা প্রতিকূল পরিবেশে এ জেলার শিল্পীরা লোকজ সংস্কৃতির মধ্যে সীমিত পরিসরে অস্তিত্ব ধরে রেখেছে ধুয়া গানের।

এ জেলার গ্রামগঞ্জের জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত ধুয়া গান হারিয়ে যাচ্ছে। পেশাদার গ্রামীণ ধুয়া গানের শিল্পীরা এই গানের চর্চা ছেড়ে এখন অন্য পেশা আঁকড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কোনরকমে খেয়ে পরে জীবন-জীবিকা চালিয়ে নিচ্ছে। নদীবেষ্টিত ভাওয়াইয়া ভাটিয়ালী এলাকার নিরক্ষর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জনপ্রিয় এই ধুয়া গান। কাহিনীভিত্তিক এই গান কোরাস আকারে গাওয়া হয়। ধুয়া গানের একজন মূল গায়েন থাকেন। যিনি মাথায় গামছা বেঁধে হাতে গামছা নিয়ে গান শুরু করেন। অন্য ছয় থেকে সাত সহযোগী শিল্পী গোল হয়ে মাটিতে বসে গানের কোরাসে গলায় মেলায়। মূল গায়েন এই গোল চক্রের ভেতরে ও চারপাশে গামছা ঝাঁকিয়ে নেচে নেচে প্রথমে গানের চরণ গেয়ে যান সুর করে। পরে সহযোগী শিল্পীরা আবার সমন্বরে গাইতে থাকে একই চরণ। এ সময় মূল গায়েন তার গামছা নিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করে নেচে দর্শক মাতিয়ে রাখেন।

ধুয়া গানের শিল্পীরা নিজেরাই এসব গান রচনা করেন মুখে মুখে এবং সুরও তারাই সৃষ্টি করেন। মূলত গ্রামীণ প্রচলিত কোন প্রেমকাহিনী, গল্পগাঁথা বা কেচ্ছাকাহিনী হয় ধুয়া গানের উপজীব্য। এ গানের সুর অন্য সব লোকসঙ্গীতের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। অপরদিকে জেলার পল্লী অঞ্চলের আদি-লোকজ সংস্কৃতি বেহুলা-লখখিন্দরের পালাগান লুপ্তপ্রায়। ফলে এ পালাগানের শিল্পীদেরও এখন চরম দুর্দিন। সর্পদেবী মনসা ও বেহুলা-লখখিন্দরের অতি জনপ্রিয় কাহিনীনির্ভর এই পালা, মনসার পালা এবং বেহুলা-লখখিন্দরের পালা দুই নামেই এই জেলাতে পরিচিতি রয়েছে।

Ñআবু জাফর সাবু, গাইবান্ধা থেকে