২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ধিক্কার


শুধু ধিক্কার জানানো নয়, এদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের সময় এখন। যারা পিতৃ-মাতৃতুল্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের লাঞ্ছিত করে, গায়ে হাত তোলে, শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করে, ছাত্র নামধারী সেই সব নরাধমকে আর যাই হোক ক্ষমা করা যায় না। এরা ক্ষমার অযোগ্য। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের নামে যারা গু-ামি-সন্ত্রাসীকে প্রাধান্য দিয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, ভাড়াটে বাহিনী হয়ে যারা উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে হামলা চালিয়ে আহত করে, তাদের অবস্থান কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হতে পারে না। এরা সমাজ, শিক্ষা ও মানবাদর্শবিরোধী এক প্রজাতি। যাদের হাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলুষিত হয়, তাদের হাতে দেশের ভবিষ্যত অন্ধকারাচ্ছন্ন হতে বাধ্য। যে আচরণ তারা করে, তাতে কঠোর শাস্তি দিলেও এ লজ্জা মুছে যাবে না কোনভাবেই। সন্তানের মমতায় যে শিক্ষক তার পুত্রতুল্য ছাত্রদের পাঠদান করেন, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রয়াসে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যান, সেই সন্তানরা যখন শিক্ষকের গায়ে হাত দেয়, লাঞ্ছিত করে, তখন তারা ছাত্র থাকে না, সন্তানও নয়। প্রশ্ন উঠেছে, এরা কারা! যারা শিক্ষক পেটানোর ব্রত নিয়ে শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করে, অশিক্ষা-কুশিক্ষার স্রোতে প্রবাহিত করতে সচেষ্ট, তাদের কাছে মানবিক আদর্শ কোন প্রণোদনা দেয় না। নীতিহীনতার চূড়ান্ত ধারক এরা। তাই যারা মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত রণধ্বনি ‘জয় বাংলা’ সেøাগান দিয়ে শিক্ষকদের ওপর সদলবলে হামলা চালায়, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন বা ধারণ করতে পারে না। শিক্ষকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনকে ভূলুণ্ঠিত, প্রতিহত করতে আগ্রাসী হয়ে ওঠে যারা, তাদের হাতে শিক্ষাঙ্গন শুধু নয়, বিপজ্জনক পুরো দেশ। ক্ষমতার দম্ভে, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়ে এদের যে বাড়-বাড়ন্ত তা স্বাভাবিক নয়। এরা সন্ত্রাসবাদের ধারক, স্বাধীনতাবিরোধীদের সহায়ক শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লেবাস নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কর্মকা-কে সামনে নিয়ে আসে, তাদের কোন রাজনৈতিক দলের আশ্রয় পাওয়া উচিত না হলেও তারা তা পেয়ে আসছে। আর তা পায় বলেই অন্যায়, অনাচার আর ন্যক্কারজনক ও নজিরবিহীন কর্মকা-ে অত্যুৎসাহী। তারা এই সাহস পায় কোথা থেকে, সে প্রশ্ন ওঠেই। অবশ্য তাদের সন্ত্রাসী হয়ে ওঠার কার্যকারণও রয়েছে। কেননা জনপ্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য যদি দেশবরেণ্য একজন শিক্ষককে নাম ধরে, তাকে নিজ হাতে পেটানোর মতো আস্ফালন করে পার পেয়ে যান, তবে সেই দলের অনুসারী ছাত্র নামধারীরা এই আস্ফালনের প্রতিফলন ঘটাতে বিলম্ব করে না। তাই দেখা যায়, সেই শিক্ষকের স্ত্রী শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করতে তাদের বাধে না। এই ছাত্র নামক সন্ত্রাসীদের অমার্জনীয় কাজে যে বা যারা নিযুক্ত করেছে, সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা কঠিন নয়। কারণ এসব ব্যক্তি-গোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এ ছাত্র নামধারীরা আজ এক ফ্রাঙ্কেনস্টাইনে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলা ছাত্র নামধারী চাঁদাবাজ, দখলবাজ, টেন্ডারবাজরা যা করছে আর যারা তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে তারা সবাই সমান অপরাধে অপরাধী।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর কোন সুস্থ চিন্তা-শিক্ষাবান্ধব ছাত্র সংগঠনের হামলা চালানো অকল্পনীয়। কিন্তু যেহেতু এরা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের আশ্রিত সন্ত্রাসী ক্যাডার এবং ভাড়ায় খাটে, তাদের পক্ষে সবই সম্ভব। দেখা গেছে, উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলা চালাতে এরা উপাচার্যের ভাড়াটে হয়ে সন্ত্রাসের পথ ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতি এমন করা হয়েছে যে, বেশিরভাগ নবনিযুক্ত উপাচার্য ছাত্র নামধারী ক্ষমতাসীনদের সন্ত্রাসী ক্যাডারদের ওপর ভরসা করে চলেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিলেই সেখানে ছাত্র সংগঠনটির লালিত-পালিত ক্যাডাররা অস্বাভাবিকভাবে হাজির হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরা উপাচার্যের পক্ষের শক্তি হয়। শাবিপ্রবিতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপাচার্যের ভাড়াটে বাহিনী হিসেবে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন সাইনবোর্ডে যারা শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের রক্ষা করার জন্য সংগঠনটি যদি অন্যায়ের পথে যায়, তবে তাদের মাথা উঁচু করে ছাত্রসমাজের সামনে দাঁড়াতে হবে ঘৃণা ও ধিক্কারের ভার বহন করে। এরা জঙ্গীদের মতো শিক্ষাবিরোধী হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসব আগাছা উপড়ে ফেলতে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শাবিপ্রবিও সেই স্তরে শামিল হোক তা কাম্য নয়। বরং আমরা চাই যে কোন সমস্যার যৌক্তিক সমাধান হোক। তবে এই সমাধান প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাসীদের অংশগ্রহণ থাকতে পারে না কোনভাবেই।