২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশে কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা ভাষার বিস্তার ঘটছে


বর্ণমালা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে ॥ তুলনামূলকভাবে সরকারী অফিসে বাংলাদেশে বাংলা ভাষার ব্যবহার দিন দিন কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে। বাংলা ভাষাভাষী অধ্যুষিত এলাকাগুলোর স্কুল-কলেজ, সাবওয়ে বা বাস, ট্রেনে, হাসপাতালে ও জরুরি টেলিফোন সার্ভিসে বাংলা ভাষার ব্যবহার দেখে আনন্দিত অনেকেই। তাদের মতে, বাংলা ভাষার এই ব্যবহার কেবল জানা-শোনার ক্ষেত্রে সুবিধা দিচ্ছে তাই না। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে শত ভাষার দেশ আমেরিকায়।

২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস। রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৫২ সালে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। ১৯৫৪ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু যাদের প্রাণের বিনিময়ে এই ভাষা পেয়েছিল বাঙালী জাতির তাদেরকে বিশ্ব দরবারে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তেমন কোন উদ্যোগ ছিল না। এই দায়িত্ববোধ থেকে কানাডার ভ্যানকুভার শহরে বসবাসরত দুই বাংলাদেশী রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানের কাছে একটি আবেদন করেন। ১৯৯৯ সালের ১৭ নবেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে দিনটি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে প্রতিবছর দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে নিজেরা পালনের ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশ প্রস্তাবটি উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে সাধারণ পরিষদে পাস হয়। এ বছরও জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবে।

বাংলা ভাষা বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে বসলেও বাংলাদেশে বাংলা ভাষার প্রচলন কমছে বলেই অনেকের অভিযোগ। কিন্তু সেইখানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা ভাষার চাহিদা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন অথচ ইংরেজী কম জানেন তাদের জন্য বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। নির্বাচনের সময় বাংলা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে প্রচারে এবং বাংলায় ব্যালট পেপারও সরবরাহ করা হচ্ছে। এটা নতুন প্রজন্মের জন্য না হলেও যারা অনেক বয়স হবার পরে এদেশে এসেছেন তাদের সুবিধার জন্য উপকারী বলেই মনে করছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রখ্যাত বিজ্ঞানী নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্লেইন্সবরো সিটির কাউন্সিলম্যান ড. নূরুন্নবী বলেন, বাংলা ভাষার কোন বিকল্প নেই। এটা আমার মায়ের ভাষা। আবার তাই বলে ইংরেজী বাদ দিলে চলবে না। কারণ সারাবিশ্বে যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাষা হচ্ছে ইংরেজী।