ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

সাকিবের কণ্ঠে জয়ের প্রত্যয়

শাকিল আহমেদ মিরাজ

প্রকাশিত: ২২:১৬, ১২ জুন ২০২৪

সাকিবের কণ্ঠে জয়ের প্রত্যয়

সাকিব আল হাসান

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ এক জয়ের পর বাগে পেয়েও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মাত্র ৪ রানে হারের আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে টাইগারদের। আম্পায়ারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বিপক্ষে যাওয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক কথা হচ্ছে।

বাজে পারফর্ম্যান্সে বড় তারকা সাকিব আল হাসান আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও আছেন আলোচনায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য সাকিব পরে ৮ রান করে আউট হন। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৩ রানে সাজঘরে ফেরেন, পরে বল হাতে ১ ওভারে ৬ রান দিলে তাকে আর বোলিংয়ে আনার সাহস পাননি অধিনায়ক!

অথচ টি২০তে সবটি বিশ্বকাপ খেলা ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক অর্জন, অনেক রেকর্ড নামের পাশে। সেন্ট ভিনসেন্টে আজ নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ, এখানেই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ নেপাল। 
‘আমি আশা করি, সেন্ট ভিনসেন্টে আমরা দুটি ম্যাচেই জিততে পারব। পরবর্তী রাউন্ডে কোয়ালিফাই করতে পারব।’ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গবিডির এক প্রামাণ্য চিত্রে বলেন সাকিব। টাইগার ক্রিকেটের সময়ের বড় তারকা, সাবেক অধিনায়ক সেখানে তার ক্রিকেট জীবন, বিশ্বকাপের অতীত অভিজ্ঞতা, এক সময়ের বন্ধু তামিম ইকবালের সঙ্গে দূরত্বসহ আরও অনেক বিষয়েই কথা বলেন।

সেন্ট ভিনসেন্টের এই মাঠে এর আগে কোনো টি২০ খেলেনি বাংলাদেশ। তবে দুটি টেস্ট ও দুটি ওয়ানডে খেলেছে। চারটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে একটি টেস্টে জেতার অভিজ্ঞতা আছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপ নাকি টি২০ বিশ্বকাপ, কোনটা বড় সাকিবের কাছে? ‘ওয়ানডে বিশ্বকাপই বড়। টি২০ বিশ্বকাপ প্রতি দুই বছর পরপর হয়, হেরে গেলেও পরেরটা নিয়ে ভাবা যায়।

৫০ ওভারের বিশ্বকাপের জন্য কিন্তু এখনো ভারত ভুগছে, মানসিক ও শারীরিক দুভাবেই। ওয়ানডে বিশ্বকাপ অবশ্যই অনেক বড়।’ তাহলে টি২০ নিয়ে এই যে উন্মাদনা, ‘টি২০ বিশ্বকাপ হচ্ছে সময়ের চাহিদার কারণে। মানুষ এখনো পুরো দিন ধরে ওয়ানডে দেখতে চায় না, পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচের কথা তো ভুলেই যান।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। আমার সৌভাগ্য হয়েছে, এত দিন ধরে সব পরিবর্তন  দেখার। সামনে সম্ভবত আরও কিছু পরিবর্তন আসবে।’ 
তামিমের সঙ্গে একসময় বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল সাকিবের। সেটি এখন আর নেই। তিক্ততা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এ প্রসঙ্গ খোদ বিসিবি প্রধান বলেছিলেন, ‘ওরা তো এখন কথা বলও বন্ধ করা দিয়েছে।’ সাকিব বলেন, ‘কথা হতো না, এটা একদম ভুল। আগে আমাদের যে সম্পর্কটা ছিল, সারাক্ষণ একসঙ্গে থাকতাম, ওই সম্পর্কটা অনেকদিন ধরেই নেই।’

মিরপুরে একটা সময় দুজনে একই ভবনে থাকতেন। প্রামাণ্যচিত্রে অনেকটা ভাবলেশহীনভাবে এ তারকা বলেছেন, দুজনে বিয়ে করে আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণেই এখন আর সেই সম্পর্কটা নেই। ‘স্বাভাবিকভাবেই ওই (পূর্বের) নৈকট্য ধীরে ধীরে কমতে থাকে। মানুষের আলাদা জীবন চলে আসে। আলাদা পারিবারিক জীবন। এই ব্যস্ততাগুলোর সঙ্গে ধীরে ধীরে সময়টাও পাল্টে  যেতে শুরু করে।’

×