ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে পাকিস্তানের নতুন অধিনায়কের প্রতিশ্রুতি, ১৪ ডিসেম্বর পার্থে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট

ইতিহাস বদলাতে চান শান মাসুদ

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৪২, ১ ডিসেম্বর ২০২৩

ইতিহাস বদলাতে চান শান মাসুদ

শান মাসুদ

সদ্য সমাপ্ত ভারত বিশ্বকাপে মোটেও ভালো কাটেনি পাকিস্তানের। হট ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে পা রাখলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি বাবর-রিজওয়ানরা। বরং বাজে পারফর্মেন্সের কারণে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায় ১৯৯২ আসরের চ্যাম্পিয়নরা। ২০২৩ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর থেকেই পরিবর্তনের সুর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে, যে পালাবদলের অংশ শান মাসুদও। বাবর আজম তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর টেস্টের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান এই ব্যাটার। সাদা পোশাকে অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর পরই তার প্রথম চ্যালেঞ্জ অস্ট্রেলিয়া সফর।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গত ২৮ বছরে কোনো টেস্ট ম্যাচ জিততে পারেনি পাকিস্তান। এবার তাই অধিনায়ক হিসেবে প্রথম মিশনেই পাকিদের সেই অতীত ইতিহাস বদলে দিতে চান নতুন দলপতি। অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে শান মাসুদ সাফ জানিয়ে দেন, ‘আপনি যখন ইতিহাসে কোনো কিছু অর্জন করেননি, তখন আপনার সামনে সুযোগ আছে সেটি বদলানোর। ফলে আমরা পাকিস্তানের জন্য ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিবাচক ফল আনার চেষ্টা করব।’
নতুন অধিনায়ক হিসেবে সমর্থকদের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণে বদ্ধপরিকর শান মাসুদ। তাই তো নিজের সামগ্রিক লক্ষ্যের কথা জানিয়ে যান ভক্ত-অনুরাগীদের। তিনি বলেন, ‘দেশই সবার আগে, কিন্তু প্রতিদিনের ফলের ওপর নির্ভর করলেই সমস্যা তৈরি হয়। আমরা এমন ক্রিকেট খেলতে চাই, যা আমাদের সমর্থকরা উপভোগ করতে পারে। আমাদের সমর্থকরা প্রচেষ্টা ও লড়াই চায় আমাদের কাছ থেকে এবং প্রতিদিনের ফলের চেয়ে সেটিই বেশি গ্রহণযোগ্য তাদের কাছে। আমাদের সমর্থকদের চাহিদার সঙ্গে যায় এমন ব্র্যান্ড ও স্টাইলের ক্রিকেট খেলতে চাই। আশা করি, ঠিক তেমনটা করতে পারলে ফল আসবে।’
১৯৬৪ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়েছিল পাকিস্তান। এরপর এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন অধিনায়কের নেতৃত্বে ১৩ বার অজিদের মাটিতে সিরিজ খেলেছে তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্য! কোনো অধিনায়কই এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জেতাতে পারেননি। এবার ১২তম অধিনায়ক হিসেবে শান মাসুদ চাইছেন সেই ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ইতিহাস গড়তে। সেজন্য নিজেদের দেশে সম্পন্ন করা প্রস্তুতিতেও সন্তুষ্ট এই পাক অধিনায়ক। অজিদের মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে নতুন রণকৌশলে এগোচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এ প্রসঙ্গে মাসুদ বলেন, ‘আমরা রাওয়ালপিন্ডিতে আমাদের অনুশীলন ক্যাম্পে অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশন অনুকরণ করতে চেয়েছি, যাতে বাউন্সি পিচ ছিল। আমরা ঘাস রেখে দিয়েছিলাম, গতি ও বাউন্স আনতে সে অনুযায়ী রোল করেছি।

ম্যাচ পরিস্থিতিতে খেলেছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা বোলারদের ডেকেছি।’ বিশ্বের যে কোনো প্রান্তেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের নাম অস্ট্রেলিয়া। সদ্য সমাপ্ত ভারত বিশ্বকাপেও নিজেদের জাত ছিনিয়েছে তারা। যেখানে শুরুটা ভালো করতে না পারলেও শেষ দিকে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে অজিরা। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে পরাজয়ের স্বাদ উপহার দিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ে স্মিথ-ওয়ার্নার-কামিন্সরা। এই অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে আরও বেশি অপ্রতিরোধ্য। দীর্ঘ ৫৯ বছর আগে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় পাকিস্তান। শেষ চার বছর আগে অধিনায়ক ছিলেন আজহার আলী।

সিরিজ জয় তো দূরের কথা এখন পর্যন্ত সেখানে ৩৭টি টেস্টের মধ্যে পাকিস্তানের জয় কেবল চারটিতে। শেষ জয়টি এসেছিল ২৮ বছর আগে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। আগামী ১৪ ডিসেম্বর পার্থে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ২৬ ডিসেম্বর মেলবোর্নে দ্বিতীয় আর ৩ জানুয়ারি সিডনিতে হবে সিরিজের শেষ টেস্ট।

×