ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন শামসুন্নাহাররা, অপর ম্যাচে আজ মুখোমুখি ভারত ও নেপাল

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ভুটান

রুমেল খান

প্রকাশিত: ০০:১২, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ভুটান

ঢাকায় চলমান সাফ অনুর্ধ-২০ নারী ফুটবলে অংশ নেয়া বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা

চার দলের খেলা। শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে। ফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছে তিন দল। একটি দলের বেজে গেছে বিদায়ঘণ্টা। বলা হচ্ছে ‘সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর প্রসঙ্গে। ঢাকায় চলমান চতুর্থ এই আসরে আজ অংশগ্রহণকারী চারটি দলই মাঠে নামবে। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মুহাম্মাদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বিকেল ৩টায় ভারত মোকাবিলা করবে নেপালকে। আর সন্ধ্যা ৭টায় ভুটানের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
ভারত-বাংলাদেশ উভয় দলই ২ ম্যাচ খেলে সমান ৪ পয়েন্ট করে পেয়েছে। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত আছে পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বর স্থানে। আর দু’বারের শিরোপাধারী বাংলাদেশ আছে দুইয়ে। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে নেপাল। আর শূন্য পয়েন্ট নিয়ে চারে থাকা ভুটানের আগেই ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেছে। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশকে যদি ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করতে হয়, তাহলে তাদের ভুটানের সঙ্গে কমপক্ষে ড্র করলেই চলবে।

তবে ড্র নয়, জিতেই ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে আশাবাদী লাল-সবুজ বাহিনী। ভারতের বেলাতেও একই কথা প্রযোজ্য। সে ক্ষেত্রে ফাইনালে নাম লেখাতে হলে জেতার কোনো বিকল্প নেই নেপালের। 
বাংলাদেশী ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা, ফাইনালে শেষ পর্যন্ত খেলবে বাংলাদেশ-ভারতই। তবে ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষের চেয়ে ভারতের প্রতিপক্ষ একটু কঠিনই। সে ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সুবিধাজনক অবস্থায় আছে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। এই আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে নেপালকে হারিয়ে শুভসূচনা করে। তারপর দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ভারতকে রুখে দেয় গোলশূন্য ড্র করে। আর ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে ১২-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ভুটানকে।

আর নেপাল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪-০ গোলে ভুটানকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। প্রতিপক্ষ ভুটান বলে বেশ আত্মবিশ^াসী বাংলাদেশের মেয়েরা। মেয়েদের বয়সভিত্তিক সব টুর্নামেন্টে ভুটানকে হারানোর উজ্জ্বল রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, ‘আমার কাছে সব দলই সমান শক্তিশালী। যেহেতু ভুটান আগের দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছে, তাই আমরাও চাইব বড় জয়। তাই বলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছি না। কারণ ফুটবলে জিততে হলে আপনাকে নব্বই মিনিট পর্যন্ত এক দম নিয়ে খেলতে হবে।’ তবে এবারের আসরে বাংলাদেশ দলের খেলা তেমন আকর্ষণীয় মনে হয়নি।

অনেকেই বলছেন, এই দল মনিকা-মারজিয়া-মারিয়াদের মতো তত মেধাবী নয়! বিশেষ করে মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ড লাইনে তেমন পরিকল্পনামাফিক ও কার্যকর ফুটবল খেলতে পারেনি আকলিমারা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে গোলরক্ষক রূপনা চাকমা আসাধারণ কিছু সেভ না করলে কয়েক গোলে তিক্তভাবে হারতে হতো বাংলাদেশ দলকে। এ প্রসঙ্গে ছোটন বলেন,‘ ‘আক্রমণভাগে আরেকটু গোছানো হতে হবে। আশা করি ভুটানের বিপক্ষে ফরোয়ার্ডরা তাদের সেরাটা মেলে ধরবে।’ ভুটান কোচ কর্মা দেমা তো বাংলাদেশকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার মনে করছেন।

টার্ফে খেলে চার ফুটবলার চোটে পড়ায় ম্যাচের চেয়ে খেলোয়াড়দের নিয়েই বেশি ভাবিত তিনি, ‘টুর্নামেন্ট তো শেষ আমাদের। ভয়ংকর একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। মানহীন টার্ফে খেলে আমার চার ফুটবলারের সাফ শেষ। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী। তারপরও তাদের সঙ্গে ভালো খেলার চেষ্টা করব আমরা।’ এখন দেখার বিষয়, আজ বাংলাদেশ সহজেই ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে পারে; নাকি আবার পচা শামুকে পা কাটবে!

×