ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিতে দেশে আসছেন কিংবদন্তি ফুটবলার এনায়েত

প্রকাশিত: ২৩:৩৬, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিতে দেশে আসছেন কিংবদন্তি ফুটবলার এনায়েত

রুমেল খান ॥ গোল করতে পারার দক্ষতা, চুলের কাটিং, স্টাইল, ফ্যাশন, চেহারা- সবকিছু মিলিয়ে ফুটবলার হিসেবে কাজী মো. সালাউদ্দিন সমর্থক ও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। অনেকের চোখেই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার। তবে এর সঙ্গে একমত নন অনেক ফুটবলবোদ্ধাই। তাদের কাছে সেরা ফুটবলার হচ্ছেন এনায়েতুর রহমান খান। ২৬ জুলাই ১৯৭৩, মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মারদেকা কাপে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। ওই ম্যাচে স্বাধীন বাংলাদেশের হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন এই এনায়েত (এ্যাসিস্ট ছিল সুনিল কৃষ্ণ দে চৌধুরীর। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলেরও একজন অপরিহার্য সদস্য ছিলেন এনায়েত। সেই অর্থে তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সেই এনায়েত ফুটবল থেকে অবসর নেয়ার পর কি এক অজানা কারণে অভিমান করে দেশ ছেড়ে চলে যান। তিনি এখন কানাডা প্রবাসী। দেশ ছাড়ার কারণে মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্রটিও নেয়া হয়নি তার। অবশ্য এ নিয়ে তার কোন মাথাব্যথাও ছিল না। কিন্তু সর্বশেষ চমক জাগানিয়া সমাচার হলো- মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র গ্রহণ করতে এক সময়ের মাঠকাঁপানো সুপারস্টার ফুটবলার এনায়েত অবশেষে অভিমান ভেঙ্গে বাংলাদেশে আসছেন। আর এটা সম্ভব হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্রিজ ফেডারেশনের সভাপতি এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মুশফিকুর রহমান মোহনের কল্যাণে। জনকণ্ঠকে মোহন জানান, ‘রূপকথার মতো খেলতেন এনায়েত। তার নেয়া বুলেটগতির শটে গোলপোস্টের জাল ছিঁড়ে যাওয়ারও বিস্ময়কর নজির আছে। এই প্রজন্ম তো তার মতো গ্রেট ফুটবলার সম্পর্কে কিছুই জানে না। দেশের ফুটবলের প্রতি সীমাহীন অভিমান নিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন তিনি। অনেক কষ্টে তার সেই অভিমান ভাঙ্গিয়েছি। ২০ বছরেরও বেশি সময় পর অবশেষে তিনি দেশে ফিরছেন। ফেরার আরেকটা উপলক্ষ আছে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের হয়ে খেলেছিলেন। তিনি তো মুক্তিযোদ্ধা। সেই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি এখনও পাননি, মানে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেয়া হয়নি তার। সেটা নিতেই আগামী মাসের ৮-১০ তারিখে তিনি বাংলাদেশে আসছেন। এটা সম্পূর্ণ আমার নিজের উদ্যোগ। বলতে পারেন জোর করেই তাকে আনাচ্ছি। তিনি রাজি হয়েছেন আসতে। আমার আরেকটা পরিকল্পনা আছে। সেটা হলো এনায়েত মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্রটি নেবেন কিংবদন্তি জাকারিয়া পিন্টু এবং প্রতাপ শংকর হাজরার হাত থেকে, যারা যথাক্রমে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক।’ ফুটবলার হিসেবে এনায়েত ছিলেন প্লে-মেকার। মাঠজুড়ে খেলতেন। গোটা দলের চালিকাশক্তি হয়ে উঠতেন। পরিশ্রমী, শক্ত-সামর্থ্য ও লড়াকু এই ফুটবলার বল প্লে করা, প্রয়োজনে মুহূর্তে ড্রিবলিং, ডেড বলে আচমকা শট, বলকে নিয়ন্ত্রণে রেখে বলের জোগান দেয়া এবং দূর থেকে নিপুণ লক্ষ্যভেদী আচমকা শট দিয়ে গোল করার ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতেন। ঢাকার কালীগঞ্জে ১৯৫১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনায়েতের জন্ম। ১৯৬৭ সালে দ্বিতীয় বিভাগে ইয়াংমেন্স ফকিরেরপুলের হয়ে তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে তদানীন্তন ইস্ট পাকিস্তান গভর্নমেন্ট (ইপিজি) প্রেসের হয়ে খেলেন। দু’বছর পর যোগ দেন শক্তিশালী ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম খেলোয়াড় ছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি বিজেআইসি ক্লাবে যোগ দেন। ১৯৭৩ সালে ফুটবল লীগে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয় বিজেআইসি। ১৯৭৪ সালে চলে যান ওয়াপদায়। ১৯৭৫ সালে তিনি পুনরায় বিজেআইসিতে ফিরে যান। ১৯৭৮ সালে যোগ দেন মোহামেডানে। প্রথমবারের মতো অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান।
×