জিএম মোস্তফা ॥ চলতি বছরের শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটে চলেছেন নোভাক জোকোভিচ। বছরের প্রথম তিন গ্র্যান্ডস্লামের সবকটিতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির গড়েন তিনি। সেইসঙ্গে পুরুষ এককে সর্বোচ্চ ২০ গ্র্যান্ডস্লামজয়ী রাফায়েল নাদাল ও রজার ফেদেরারের রেকর্ডেও ভাগ বসান জোকোভিচ। ইউএস ওপেনে এবার তাদেরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে নামেন সার্বিয়ান তারকা। সেইসঙ্গে এক মৌসুমে সব গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের মিশনও। সেই মাইলফলক স্পর্শ করতে আর মাত্র এক ম্যাচ দূরে অবস্থান নোভাক জোকোভিচের।
কেননা, দুর্দান্ত খেলেই যে শনিবার ইউএস ওপেনের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্ব টেনিস রাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান তারকা। শেষ চারের ম্যাচে নোভাক জোকোভিচ এদিন ৪-৬, ৬-২, ৬-৪, ৪-৬ এবং ৬-২ গেমে পরাজিত করেন জার্মানির আলেক্সান্ডার জেরেভকে। ইউএস ওপেনের শিরোপা জয়ের পথে তার সামনে বাধা এখন দানিল মেদভেদেভ। রাশিয়ান তারকাও এবার দুর্দান্ত ফর্মে। আসরের শুরু থেকেই নিজের সেরাটা ঢেলে দিচ্ছেন ফ্ল্যাশিং মিডোসে। বিশ্ব টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে থাকা মেদভেদেভ শেষ চারের ম্যাচে সরাসরি সেটে খুব সহজেই পরাজিত করেন কানাডার ফেলিক্স অগার-এ্যালিয়াসিমকে। সেই ম্যাচের ফলাফল ৬-৪, ৭-৫ ও ৬-২। জোকোভিচকে হারাতে পারলেই ক্যারিয়ারের প্রথম মেজর শিরোপা জয়ের স্বাদ পাবেন ২৫ বছর বয়সী দানিল মেদভেদেভ।
রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল, নোভাক জোকোভিচকে বলা হয় বর্তমান বিশ্ব টেনিসের ত্রিরতœ। ২০টি করে গ্র্যান্ডস্লাম নিয়ে ছেলেদের এককের গ্র্যান্ড স্লামের রেকর্ডে তিনজনই আছেন যৌথভাবে শীর্ষে। জেরেভকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের ফাইনালে ওঠা জোকোভিচ এই তালিকায় এককভাবে শীর্ষে ওঠার দুর্দান্ত সুযোগ পাচ্ছেন আগামীকাল সোমবার। ফাইনালে রাশিয়ার দানিল মেদভেদেভকে হারাতে পারলেই এককভাবে পুরুষ এককের সিংহাসনটা নিজের করে নিবেন তিনি।
রড লেভারের পর পুরুষ এককে বছরের প্রধান চার শিরোপা আর কোনো খেলোয়াড় জিততে পারেনি। ১৯৬৯ সালে ক্যালেন্ডার গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। এবার তার রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুবর্ণ সুযোগের সামনে জোকোভিচ। তবে লেভারের আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন আরও চারজন। এক বছরে চারটি গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন স্টেফানি গ্রাফ (১৯৮৮), মার্গারেট কোর্ট (১৯৭০), মরিন কনোলি (১৯৫৩) এবং ডন বাজ (১৯৩৮)। এরপর ১৯৬২ ও ১৯৬৯ সালে দুইবার এই রেকর্ড গড়েছিলেন রড লেভার। এর ফলে সার্বিয়ান তারকার সামনে এখন ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ক্যালেন্ডার স্লাম জয়ের হাতছানি।
জোকোভিচ কী পারবেন সেই কীর্তি গড়তে? এই উত্তর এখন সময়ের হাতে। তবে ফাইনালে যে যেকোনো মূল্যে জিততে চান সার্বিয়ান তারকা। সেটা বোঝা যাচ্ছে তার কথাতেই। সেমিফাইনাল জয়ের পরই জোকোভিচ বলেন, ‘আর এক ম্যাচ বাকি আছে। আমি আমার সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে, হৃদয় নিংড়ে ম্যাচটা খেলতে চাই। এটাকে আমার জীবনের শেষ ম্যাচ ভেবেই খেলব।’ তবে এদিনের পরিবেশও পক্ষে ছিল সার্বিয়ান তারকার। তাই তো তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ। পরিবেশটা চমৎকার ছিল। এখন পর্যন্ত আমার কাছে এটাই সেরা আবহাওয়া মনে হয়েছে।’
অভিজ্ঞ জোকোভিচের কথায় নিজের তৃতীয় গ্র্যান্ডস্লাম ফাইনাল খেলতে যাওয়া মেদভেদেভের বুকে কাঁপন ধরাই স্বাভাবিক। এর আগে ২০১৯ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু সেবার নাদালের কাছে হেরে যান রাশিয়ান তারকা। চলতি বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে এই জোকোভিচের কাছেই হেরেছিলেন তিনি। এবার কী পারবেন সেই হারের প্রতিশোধ নিতে? নাকি মেলবোর্নের মতো একই চিত্রনাট্য রচনা করে নতুন ইতিহাস গড়বেন জোকোভিচ? ভক্ত-অনুরাগীদের সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।



