ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

সেমিতে রশিদদের সামনে প্রোটিয়ারা

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০১:০৩, ২৬ জুন ২০২৪

সেমিতে রশিদদের সামনে প্রোটিয়ারা

সেমিফাইনালে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন প্রোটিয়া স্পিনার তাবারেজ শামসি (বাঁয়ে) ও আফগান স্পিনার রশিদ খান

বিশ্বকাপে আফগানরা একের পর এক যে কীর্তি গড়ে চলেছে, তাতে ইতিহাস শব্দটিও এখন আর যথেষ্ট মনে হচ্ছে না! গ্রুপ-পর্বেই নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে বিদায় করে এবার আইসিসির বৈশ্বিক আসরের সফলতম দল, সাবেক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ানদের হাতে প্লেনের টিকিট ধরিয়ে দিল রশিদ খানের দল। ভারতের কাছে ৪৭ রানের হারের পর অজিদের বিপক্ষে ২১ রানের ঐতিহাসিক জয়ে ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। শ্বাসরুদ্ধকর শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৮ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় রশিদ-বাহিনী। তাতে বিদায় ঘণ্টা বাজে অস্ট্রেলিয়ার। 
নবম আসরে সপ্তমবারের মতো খেলতে এসে প্রথমবার সুপার এইট, এরপর সেরা চার। দুরন্ত-দুর্বার দলটির সামনে এখন ফাইনালের হাতছানি। ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। গায়ানায় রাতে দ্বিতীয় সেমিতে ভারত-ইংল্যান্ড ‘হাইভোল্টেজ’ দ্বৈরথ।
টি২০ বিশ্বকাপ শুরু হয় ২০০৭ সালে। বাছাই পেরিয়ে আফগানিস্তান প্রথম সুযোগ পায় ২০১০ সালের তৃতীয় আসরে। সেই থেকে তিন আসরে বিদায় নেয় প্রথম রাউন্ড থেকে। সর্বশেষ তিন আসরে খেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত নবম বিশ্বকাপে এবার ৭ ম্যাচে ৫ জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। ২০১০ সাল  থেকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলটির এটিই এক আসরে সবচেয়ে বেশি জয়। ২০১৬ সালে ৭ ম্যাচে ৪টি জিতেছিল তারা। তবে সেবার সুপার টেন থেকে পরের ধাপে যেতে পারেনি।

গ্রুপের পাঁচ দলের মধ্যে সবার নিচে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে তারা। প্রায় ৮ বছর পর নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোকে বিদায় করে সেমি-ফাইনালে ওঠার পর সংবাদ সম্মেলনে রশিদ বললেন, উপযুক্ত দল হিসেবেই শেষ চারের মঞ্চে তারা ঠাঁই করে নিয়েছেন। ‘আমি আসলে জানি না, কীভাবে অনুভূতি প্রকাশ করব। সেমি-ফাইনালে ওঠা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। এখনো পর্যন্ত যেভাবে পুরো টুর্নামেন্টে আমরা খেলেছি, আমার মতে, সেমি-ফাইনালে খেলাটা আমাদের প্রাপ্যই। যেভাবে সবাই দায়িত্ব নিয়েছে এবং দলের জন্য সেরাটা দিয়ে পারফর্ম করেছে।

জাতি হিসেবে আমাদের জন্য বিশাল অর্জন। এখন সেমির দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’ বলেন রশিদ খান। সাফল্যের উত্তুঙ্গ হাওয়া বইলেও উত্তেজনার ঘোরে বন্দি নন আফগান অধিনায়ক, ‘দল হিসেবে আমরা যেভাবে খেলেছি, আমি খুব খুশি। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। সেমি-ফাইনালে ওঠা অনেক বড় বিষয়। তবে এখন আমাদের স্বচ্ছ ভাবনা নিয়ে যেতে হবে। এখন পর্যন্ত আমরা যা করেছি, যেসব বিষয় আমাদের পক্ষে কাজ করেছে... সব কিছু স্বাভাবিক রাখতে হবে। সেমিতে আমরা যেন বড় উপলক্ষটি উপভোগ করি, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ অন্যদিকে গ্রুপ পর্ব হয়ে সুপার এইট- ৭ ম্যাচের একটিতেও হারেনি এইডেন মার্করামের দক্ষিণ আফ্রিকা। কখনোই ফাইনালে উঠতে না পারা দক্ষিণ আফ্রিকার এটি তৃতীয় সেমিফাইনাল। 
২০০৯ সালের দ্বিতীয় ও ২০১৪ পঞ্চম আসরের সেমিতে উঠে হারে প্রোটিয়ারা। ২০১৮ ও ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনাল খেলেছে আফগানিস্তান। বড়দের ক্রিকেটে এবারই প্রথম তারা উঠল সেরা চারে। রশিদ বলেন, ‘আমার মতে, সেমিফাইনালে খেলাটা দেশের তরুণদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণার উৎস হবে।

আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে এর আগে সেমি-ফাইনাল খেলেছি। তবে এই পর্যায়ে কখনো করিনি। এমনকি সুপার এইটে ওঠাও আমাদের জন্য প্রথম ছিল। অবিশ্বাস্য অনুভূতি। আমাদের সামর্থ্য আছে তবে সেটা যতক্ষণ আমরা সব কিছু স্বাভাবিক রাখছি আমার মতে, পুরো টুর্নামেন্টে আমরা সবকিছু স্বাভাবিক রেখেছি। হ্যাঁ, কঠিন ছিল সময় এসেছে বটে। তবে আমরা নিজেদের হতাশ করিনি এবং সবসময় শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানো চেষ্টা করি। 
সামাজিক মাধ্যমে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়া অনেক ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে রশিদ খান, নাভিন-উল-হাক, মোহাম্মদ নবীদের অর্জনে আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে নেমেছে উৎসবের জোয়ার। আফগান অধিনায়কের বিশ্বাস, পুরো দেশকে গর্ব করার উপলক্ষ এনে দিতে পেরেছেন তারা, ‘(আফগানিস্তানের মানুষের উদ্যাপন) এখনো দেখিনি। তবে আমি নিশ্চিত, দেশে ব্যাপক উদ্যাপন হবে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। সত্যি বলতে আমার কোনো ভাষা জানা নেই অনুভূতি প্রকাশের। পুরো দেশ অনেক গর্বিত হবে।’

×